kalerkantho

রবিবার । ১০ মাঘ ১৪২৭। ২৪ জানুয়ারি ২০২১। ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪২

শাবিতে ড্রাইভিং ‘প্রশিক্ষণ’

অধ্যাপকের গাড়িচাপায় শিক্ষকসহ নিহত ২

সিলেট অফিস   

২৪ জানুয়ারি, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অধ্যাপকের গাড়িচাপায় শিক্ষকসহ নিহত ২

সড়ক আইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া সড়ক, মহাসড়ক বা প্রকাশ্য স্থানে (পাবলিক প্লেস) মোটরযান চালানো দণ্ডনীয় অপরাধ। ‘শিক্ষার্থী লাইসেন্স’ না থাকলে ‘শিক্ষানবিশ চালক’ হিসেবেও কেউ প্রকাশ্য স্থানে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ নিতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে গাড়ি চালানো শেখায়ও বিধিনিষেধ রয়েছে। এসবের কিছুই মানেননি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক। ফলে তাঁর ড্রাইভিং শেখার সময় গাড়ি চালাতে গিয়ে প্রাইভেট কারের চাপায় প্রাণ হারালেন কলেজ শিক্ষকসহ দুই পথচারী।

গতকাল শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথে এ ঘটনা ঘটে। এতে ওই কলেজ শিক্ষকের এক মেয়ে এবং ‘প্রশিক্ষক’ হিসেবে অধ্যাপকের পাশের আসনে বসে থাকা এক গাড়িচালকও আহত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দাবি করেছেন, দুর্ঘটনায় গাড়ির মালিক অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলামও আহত হয়েছেন।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন সুনামগঞ্জের ছাতক ডিগ্রি কলেজের সাবেক প্রভাষক মো. আতাউর রহমান (৫৫) ও তাঁর চাচা গিয়াস উদ্দিন (৭০)। তাঁদের গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার পূর্ব কাতিয়া গ্রামে। বর্তমানে তাঁরা শহরতলির নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকায় বসবাস করতেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ড. মো. আরিফুল ইসলাম সম্প্রতি একটি প্রাইভেট কার কেনেন। গতকাল সকালে গাড়ি চালানো শেখার জন্য তিনি আবুল কালাম নামের এক গাড়িচালককে সঙ্গে নিয়ে বের হন। দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মাওলানা রইছ উদ্দিন জানান, দুপুর ১২টার দিকে ক্যাম্পাসের প্রবেশপথে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুই পথচারীকে চাপা দিয়ে একটি গাছের সঙ্গে গিয়ে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলেই গিয়াস উদ্দিন মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁর ভাতিজা কলেজ শিক্ষক মো. আতাউর রহমানকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রাইভেট কারের চাপায় নিহত আতাউর রহমানের মেয়ে স্কুল ছাত্রী নাবিলা রহমানও গুরুতর আহত হয়। এ ছাড়া গাছের সঙ্গে গাড়িটি ধাক্কা খাওয়ায় গাড়িচালক আবুল কালামও আহত হন। তাঁদের দুজনকে সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রাইভেট কারের মালিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আরিফুল ইসলাম আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কামরুজ্জামান চৌধুরী।

সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন কালের কণ্ঠকে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি আটক করে। এ ছাড়া নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ব্যাপারে থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে তিনি জানান।

দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি কে চালাচ্ছিলে—এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কামরুজ্জামান চৌধুরী জানান, বিষয়টি তিনি জানেন না। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত করবে। তদন্তে অধ্যাপকের গাড়ি চালানোর বিষয়টি প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে ওসি আক্তার হোসেন জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত গাড়িচালক আবুল কালাম পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, গাড়িটি অধ্যাপক আরিফুল ইসলামই চালাচ্ছিলেন। তখন তাঁর পাশের আসনে বসা ছিলেন চালক কালাম।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা