kalerkantho

রবিবার। ১৮ আগস্ট ২০১৯। ৩ ভাদ্র ১৪২৬। ১৬ জিলহজ ১৪৪০

শিল্পে ধস নামবে বাড়বে আমদানি

গ্যাস-বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য আজ থেকে কার্যকর

রাজীব আহমেদ ও আরিফুর রহমান   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



শিল্পে ধস নামবে বাড়বে আমদানি

গত দুই দশকে সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি শিল্প বিকাশ হয়েছে চীনে। নব্বইয়ের দশকে বাজার খুলে দেওয়ার পর ব্যাপক শিল্পায়নের কারণে চীনের অর্থনীতি জাপানকে ছাড়িয়ে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে চলে এসেছে। এর পেছনে মোটাদাগে তিনটি বিষয় কাজ করেছে-সস্তায় জ্বালানি, শ্রমের পেছনে তুলনামূলক কম ব্যয় ও কাঁচামালের পর্যাপ্ত সরবরাহ। এসব কারণেই সেখানে বিদেশি কম্পানিগুলো ঘাঁটি গেড়েছে। এখন চীনে শ্রমের মজুরি অনেক বেড়েছে, কিন্তু কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এখনো সেখানে কম খরচের জ্বালানির জোগান দিচ্ছে, যে কারণে এখনো বিশ্বের বাজারে যেকোনো পণ্য নিয়ে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকে চীনারা। আশির দশকে বাংলাদেশে যখন দেশীয় উদ্যোক্তারা আমদানি-বিকল্প পণ্য উৎপাদনে নজর দেন, তখন তাঁদের অন্যতম প্রধান 'অ্যাডভান্টেজ' ছিল সস্তায় গ্যাস। এ দেশে কাঁচামাল বলতে তেমন কিছু ছিল না, প্রযুক্তিও ধার করতে হয়েছে বিদেশ থেকে। ঋণের সুদের হারও প্রতিযোগীদের চেয়ে বেশি। এর পরও গত তিন দশকে বাংলাদেশে প্রচুর ভারী শিল্প হয়েছে। রড, সিমেন্ট, ঢেউটিন, টেক্সটাইল, খাদ্যশিল্প, পোশাকশিল্প, সিরামিকশিল্প, পাটশিল্প-এসব আমদানি-বিকল্প ও রপ্তানিমুখী পণ্য উৎপাদনের বড় সুবিধা ছিল মাটির নিচের গ্যাস, যা প্রতিযোগীদের চেয়ে অনেক কম দরে কিনতে পারতেন দেশীয় উদ্যোক্তারা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বারবার গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ফলে এখন সেই সুবিধা বাংলাদেশের থাকছে না। গত ২৭ আগস্ট গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম আরেক দফা বাড়িয়ে দিয়েছে সরকার। বিশেষ করে শিল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য 'ক্যাপটিভ' বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহার করা গ্যাসের দাম একলাফে দ্বিগুণ করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ফলে শিল্পের সক্ষমতা কমবে। অর্থাৎ দেশে উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়বে। এ কারণে সুবিধা পাবে প্রতিযোগী দেশগুলো। একদিকে রপ্তানি বাণিজ্যে তারা বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে যাবে; অন্যদিকে বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য এবং ভারত, চীন ও পাকিস্তান থেকে আমদানি করা পণ্যের দামের পার্থক্য কমে যাবে। ফলে আমদানিনির্ভর হয়ে পড়বে দেশ।

গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গ্যাসের দাম গড়ে ২৬.২৯ শতাংশ এবং বিদ্যুতের দাম গড়ে ২.৯৩ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে, যে দর আজ থেকে কার্যকর হবে। নতুন দাম অনুযায়ী শিল্পে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম পড়বে ৬.৭৪ টাকা, যা আগে ৫.৮৬ টাকা ছিল। চা বাগানের গ্যাসের দর ৫.৮৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬.৪৫ টাকা করা হয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের জন্য গ্যাসের নতুন দর হবে ১১.৩৬ টাকা, যা আগে ৯.৪৭ টাকা ছিল।

শিল্পের বাড়তি খরচ এখানেই শেষ নয়। বেড়েছে বিদ্যুতের দামও। ক্ষুদ্রশিল্প আগে ৭.৪২ টাকা দরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনতে পারত। এখন তাদের কিনতে হবে ৭.৬৬ টাকা দরে। বড় শিল্পের জন্য আগে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দর ছিল ৭.৩২ টাকা। সেটা এখন থেকে ৭.৫৭ টাকা দিতে হবে। শুধু শিল্পে নয়, বাড়তি দাম দিতে হবে কারখানার অফিস ও পণ্য বিক্রির সব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকেও। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ৯.৫৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৯.৮০ টাকা করেছে বিইআরসি।

সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর। দেশের শিল্প-কারখানার জন্য সরকার পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ দিতে না পারায় নব্বইয়ের দশকে ক্যাপটিভ পাওয়ার জেনারেশনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিল্প-কারখানাগুলো নিজেরা ছোট ছোট ক্যাপটিভ কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে। সেই ক্যাপটিভের জন্য প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ৪.১৮ থেকে বেড়ে ৮.৩৬ টাকা হয়েছে, বেড়েছে শতকরা ১০০ ভাগ। এ বিষয়টি কোনোভাবেই মানতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা।

মার খাবে দেশি শিল্প : বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গির আলামিন কালের কণ্ঠকে বলেন, 'একসঙ্গে এত দাম বৃদ্ধি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই বাড়তি দাম আমরা ক্রেতাদের কাছে চাইতে পারব না। এখন বিশ্ববাজারে মন্দাভাব চলছে।'

জাহাঙ্গির আলামিন বলেন, 'দেশে টেক্সটাইলের মতো ভারী শিল্পের বিকাশের পেছনে একটা বড় কারণ ছিল গ্যাস। কম খরচের গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে আমরা প্রতিযোগীদের থেকে এগিয়ে থাকতাম। নইলে আমাদের আর বিশেষ কিছু ছিল না। কাঁচামাল, প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি-সব কিছুই আমাদের বিদেশ থেকে আনতে হয়। এভাবে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়লে কম খরচের জ্বালানির অ্যাডভান্টেজটাও আর থাকবে না।'

জাহাঙ্গির আলামিন আরো বলেন, চীন ও ভারত টেক্সটাইল পণ্যে অনেক শক্তিশালী অবস্থানে আছে। বাংলাদেশে গ্যাস-বিদ্যুতের দামের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলে চীন-ভারতের পণ্য আমদানি বাড়তে পারে। আবার এ খাতে নতুন বিনিয়োগ টানাও এখন কঠিন হবে।

গত বছর অক্টোবর মাসে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর পোশাক খাত নিয়ে কূটনীতিকদের উদ্দেশে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেছিলেন। তাতে দেখানো হয়েছিল, ৫.৮ ডলারের একটি পোশাক তৈরিতে গ্যাস-বিদ্যুৎ বাবদ ২০১২ সালে ব্যয় হতো ০.০৪ ডলার। ২০১৩ সালে তা বেড়ে ০.০৫ ডলারে উন্নীত হয়েছে। ফলে এ খাতে খরচ বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। সব খাতে খরচ বাড়লেও বাংলাদেশের পোশাকের দাম ১ শতাংশের বেশি কমেছে বলেও উপস্থাপনায় তুলে ধরেন তিনি।

টেকা দায় হবে রপ্তানিমুখী শিল্পের : বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর অষ্টম দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলো। আর গ্যাসের দাম সর্বশেষ বাড়ানো হয়েছিল ২০০৯ সালে। দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, এই মুহূর্তে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানোয় রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে। বিশেষভাবে ক্যাপটিভ পাওয়ার দিয়ে যারা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তারা বেশি বেকায়দায় পড়বে। তিনি বলেন, 'গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ার ফলে উৎপাদন খরচ বাড়বে। এতে উৎপাদিত পণ্যের মূল্যও বাড়বে। আমাদের পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় কম দামে পণ্য কিনতে বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশগুলোর দিকে ঝুঁকবে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা। এতে বাজার হারাবে এ দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠান।' তিনি বলেন, 'শিল্প খাতে সক্ষমতা বজায় রেখে কিভাবে নতুন করে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম পুনর্নির্ধারণ করা যায় তা নিয়ে ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি হিসেবে এফবিসিসিআই থেকে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসব। আশা করি এ দিন ফলপ্রসূ আলোচনা হবে। সরকার শিল্প খাতের গতিশীলতায় নতুন সিদ্ধান্ত নেবে।'

বাংলাদেশ রপ্তানিকারক সমিতির (ইএবি) সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী কালের কণ্ঠকে বলেন, ক্যাপটিভ পাওয়ারে আগে গ্যাসের বিল ২০ লাখ টাকা এলে এখন ৪০ লাখ টাকা আসবে। রপ্তানিমুখী সব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনপ্রক্রিয়ার অন্যতম দুটি প্রধান উপাদান গ্যাস ও বিদ্যুৎ। এর দাম বাড়ানোর কারণে উৎপাদন খরচ বাড়বেই।

২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম মাসেই (জুলাই) সার্বিক রপ্তানি আয় ১১.৯৬ শতাংশ কমে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "ইউরোর অস্বাভাবিক অবমূল্যায়ন ও বিদেশি ক্রেতারা রপ্তানিপণ্যের মূল্য কমিয়ে দেওয়ায় আমরা অসম প্রতিযোগিতায় পড়েছি। ফলে রপ্তানি খাতগুলো নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে যখন একরকম দিশাহারা, সেই মুহূর্তে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম আরেক দফা বাড়ানো রপ্তানি খাতের ওপর 'মরার উপর খাড়ার ঘা' দিয়েছে এবং রপ্তানি খাতের সক্ষমতা অর্জনে আবারও প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।"

এমসিসিআই সভাপতি এবং দেশের অন্যতম জুতা উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম মঞ্জুর মনে করেন, রপ্তানি আয় কমতে থাকায় এখনই বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম না বাড়িয়ে ন্যূনতম এক বছর সময় দেওয়া উচিত ছিল।

ব্যয় বাড়বে জীবনযাত্রার : গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি ও পরিবহনের ভাড়া বাড়ার কারণে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়ে যাবে। একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় ও গৃহস্থালি পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়বে, অন্যদিকে এসব পণ্য পরিবহন ও বিক্রির পেছনে খরচ বেড়ে যাবে বলে জানিয়েছেন উৎপাদকরা। অর্থনীতিবিদ ও ভোক্তা অধিকার কর্মীদের মতে, সার্বিকভাবে জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলবে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বলেন, 'সর্বস্তরে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। গণপরিবহনে শুরু হবে ভাড়া নৈরাজ্য।'

দেশের শীর্ষস্থানীয় খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) বিশ্বজিৎ সাহা কালের কণ্ঠকে বলেন, তেল-চিনিসহ খাদ্যপণ্য পরিশোধন কারখানায় গ্যাস লাগে। গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ার কারণে এর কিছু প্রভাব পণ্যের দামে অবশ্যই পড়বে।

ভলান্টারি কনজ্যুমার ট্রেনিং অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস সোসাইটির (ভোক্তা বাংলাদেশ) নির্বাহী পরিচালক খলিলুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, জ্বালানির দাম বাড়লে সব কিছুর দামের ওপর প্রভাব পড়ে। শেষ পর্যন্ত প্রভাব গিয়ে পড়ে ভোক্তার ওপর। তাই জ্বালানির দাম কমিয়ে রাখাটা স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

দাম বাড়ানোর যুক্তি নেই : গ্যাসের দাম বাড়ানো কেন প্রয়োজন হলো এর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বিইআরসির চেয়ারম্যান এ আর খান গত বৃহস্পতিবার বলেন, সরকার বিকল্প জ্বালানি নিরাপত্তার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কয়েক বছরের মধ্যে এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর সঙ্গে এলপিজি ও বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসার জন্য নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগে শামিল হওয়ার জন্য এবং বেরসকারি খাতকে উৎসাহিত করতেই গ্যাসের দাম বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ মনে করেন, যে যুক্তি দেখিয়ে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলো, এর চেয়ে নির্বোধ কাজ আর কিছু হতে পারে না। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, 'সরকার বলছে বাংলাদেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় কম। সমন্বয় করতেই দাম বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশে একজন শ্রমিকের মজুরি তো বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় কম। সেখানে তো তাদের মজুরি বাড়ছে না। বাংলাদেশে একজন শিক্ষকের বেতন বিশ্বের অন্য অনেক দেশের তুলনায় কম। শিক্ষকের বেতন বাড়ানোর উদ্যোগ তো নেওয়া হচ্ছে না।'

আনু মুহাম্মদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এখন তলানিতে। সরকারের বড় সুযোগ ছিল তেলের দাম কমিয়ে অর্থনীতিকে স্বাস্থ্যকর প্রবৃদ্ধির সুযোগ করে দেওয়া। কিন্তু সরকার সে পথে না হেঁটে তার উল্টো কাজটি করেছে। সরকারের এ সিদ্ধান্তকে অদূরদর্শী ও অপরিপক্ব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক ড. বি ডি রহমতউল্লাহ মনে করেন, বাংলাদেশের মতো দেশে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম সস্তাই থাকা উচিত। এ প্রসঙ্গে ভারতের একটি উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আশির দশকে ভারত সেচে বিনা মূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়া শুরু করে। এর ফলে ভারতে কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। ভারত খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়। অর্থনীতি ব্যাপক শক্তিশালী হয়। বিদ্যুতের পেছনে ভারতকে যে ব্যয় করতে হয়েছিল তার সুফল তারা ভালোভাবেই পেয়েছিল। তিনি বলেন, 'অনেকে বলে দেশে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম অন্য দেশের চেয়ে অনেক কম। আমি মনে করি, কম হতেই হবে। কারণ অন্য দেশের চেয়ে মানুষের মাথাপিছু আয়ও কম। জ্বালানির দাম বাড়লে পণ্যের দাম বাড়ে। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ে। আমি কখনো সুযোগ পেলে জ্বালানির দাম সাশ্রয়ী রাখতাম।'

কোনোভাভেই মানা যায় না : জ্বালানি তেলের দাম কমায় বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কমেছে। অথচ সেই সময় বিদ্যুৎ সঞ্চালনের উন্নয়নের কথা বলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোকে মানতে পারছেন না ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকরা। তাদের মতে, তেলের দাম কমার কারণে উৎপাদন খরচ যেটুকু কমেছে সেটুকু বিতরণকারী কম্পানি পর্যায়ে কমানো যেত। এতে বিতরণকারীদের লাভ বাড়ত, যা দিয়ে তারা সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে পারত। পাশাপাশি ক্যাপটিভে গ্যাসের দাম না বাড়িয়ে শিল্পের ডিজেলভিত্তিক জেনারেটরের বিদ্যুতের দাম কমানোর দাবি করেন শিল্প মালিকরা।

উল্লেখ্য, অন্যান্য শিল্প-কারখানার মালিকরা অসম প্রতিযোগিতায় পড়ার কারণে ক্যাপটিভ পাওয়ারের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিইআরসির চেয়ারম্যান।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল আলম বলেন, 'বিশ্ববাজারে যখনই জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, বাংলাদেশেও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। ব্যারেলপ্রতি বিশ্ববাজারে তেলের দাম যখন ১২০ ডলার ছিল, তখন লিটারপ্রতি দেশের বাজারে ফার্নেস ওয়েল ৬০ টাকা এবং ডিজেলের দাম ছিল ৬৮ টাকা। এক বছর ধরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমতে কমতে এখন ৪০ ডলারে নেমে এসেছে। অথচ আমাদের তেলের দাম ওই আগের মতোই বেশি রয়েছে।' আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে সমন্বয় হয়, কমলে হবে না কেন-এ প্রশ্ন রাখেন তিনি।

 

মন্তব্য