kalerkantho

সোমবার । ১১ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৬ জুলাই ২০২১। ১৫ জিলহজ ১৪৪২

প্রধানমন্ত্রীর আশা

তিন বছরের মধ্যেই মধ্যম আয়ের দেশ হবে বাংলাদেশ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ জুলাই, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



তিন বছরের মধ্যেই মধ্যম আয়ের দেশ হবে বাংলাদেশ

২০২১ সাল লাগবে না, এর আগেই আগামী তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কখনো 'নিম্নতে' থাকতে চায় না, সব সময় 'উচ্চতে' উঠতে চায়। বাংলাদেশকে উচ্চতর অবস্থানে নিয়ে যেতে সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কক্সবাজার বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ ও একে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ। এই স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ হিসেবেই আমাদের দেশকে উন্নত করতে হবে। এ জন্য যে যেখানে আছেন, যাঁর যাঁর কর্মস্থলে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবেন এই কারণে যে ইতিমধ্যে বাংলাদেশকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ বলা হয়েছে।'

গত বুধবার বিশ্বব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে তাদের সূচকে বাংলাদেশ 'নিম্ন আয়ের দেশ' থেকে ইতিমধ্যে এক ধাপ এগিয়ে 'নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের' কাতারে পৌঁছেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশ কখনো কোনো নিম্নতে থাকতে চায় না। সব সময় উচ্চতে উঠতে চায়। কাজেই উচ্চতে ওঠার জন্য যা যা করণীয় আমরা তা করব।' তিনি বলেন, '২০২১ সাল লাগবে না, তার আগেই নিম্ন মধ্যম আয় নয়, মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবেই আমরা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারব। তিন বছরের মধ্যেই আমরা এটা করতে পারব। এ বিশ্বাস আমাদের আছে। আমরা সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছি।'

শেখ হাসিনা বলেন, 'আমাদের অনেক জ্বালাও-পোড়াও মোকাবিলা করতে হয়েছে। এত কিছুর পরও আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি শ্লথ করতে পারেনি। এটাই আমাদের অর্জন।'

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই সম্প্রতি অতিবৃষ্টি ও বন্যায় কক্সবাজার এলাকায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং বর্ষা মৌসুম শেষ হলে ওই এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলো মেরামতের আশ্বাস দেন।

কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এ এয়ারপোর্টটাকে আমরা আন্তর্জাতিক মানের করতে চাই। এর কারণ রয়েছে। আমরা বিপুল সমুদ্রসীমা অর্জন করেছি। সেই সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা বিধানের জন্য প্রয়োজনে এ এয়ারপোর্টটিকে ব্যবহার করা হবে।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'কক্সবাজারের ১২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতের মতো এত দীর্ঘ বালুকাময় সমুদ্রসৈকত কোথাও নেই। আমাদের লক্ষ্য দেশীয় ও বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ করা। ওই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্যই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।'

কক্সবাজার বিমানবন্দর প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের যোগাযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে একটি কেন্দ্র হবে- এমন আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দরে 'রি-ফুয়েলিংয়ের' ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দিয়ে বলেন, 'আন্তর্জাতিক বিমানগুলো যখন যাতায়াত করবে, তখন শুধু পর্যটন নয়, রি-ফুয়েলের জন্যও বিমান নামতে পারে এবং এখান থেকে পূর্ব থেকে পশ্চিমে, পশ্চিম থেকে পূর্বে তারা যাতায়াত করতে পারবে। কাজেই আমাদের এশিয়া এবং পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলো কক্সবাজারকে ভবিষ্যতে বেছে নেবে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্র হিসেবে। এ জন্য অনেক চিন্তাভাবনা করেই কক্সবাজার এয়ারপোর্টকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনা আমরা হাতে নিয়েছি।'

ভারতের মধ্য দিয়ে ভুটান ও নেপালের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য চুক্তি স্বাক্ষরের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আশা করি, ছয় মাসের মধ্যে আমরা যোগাযোগ স্থাপন করতে পারব।'

বাংলাদেশ, মিয়ানমার, চীন ও ভারতকে নিয়ে একটি পৃথক বাণিজ্য এলাকা সৃষ্টির উদ্যোগের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'এসব বাস্তবায়িত হলে পুরো কক্সবাজার এলাকার সবারই আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি হবে। একদিকে পর্যটনশিল্পের বিকাশ হবে, অন্যদিকে বাণিজ্য সম্প্রসারণের দিকে লক্ষ রেখেই কাজ করে যাচ্ছি।'

শেখ হাসিনা বলেন, চট্টগ্রাম ও কক্সাজারের ঘুনধুমের মধ্যে প্রস্তাবিত রেল যোগাযোগ খুব শিগগির স্থাপিত হবে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই ও ভূমি অধিগ্রহণের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, কক্সবাজার দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। কক্সবাজারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি ডিভিশন করা হয়েছে। তিনি বলেন, কক্সবাজারে একটি মেরিন অ্যাকুয়ারিয়াম নির্মাণ করা হবে।

ভিডিও কনফারেন্স চলাকালে গণভবনে উপস্থিত ছিলেন মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আর কক্সবাজার বিমানবন্দরে ছিলেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা।

বেসামরিক বিমান মন্ত্রণালয়ের সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরী ৫৭৮ কোটি টাকার প্রকল্পটি সম্পর্কে ব্রিফিংয়ে বলেন, কক্সবাজার এয়ারপোর্টের বর্তমান রানওয়ে সম্প্রসারণ করে ছয় হাজার ৬৭৫ ফুট থেকে ৯ হাজার ফুট দীর্ঘ করা হবে। অন্যদিকে প্রশস্ততা ১৫০ ফুট থেকে ২০০ ফুট করা হবে। পাশাপাশি রাতে ফ্লাইট ওঠানামা করার জন্য এয়ার ফিল্ড লাইটিং সিস্টেম স্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, বিমানবন্দরটি থেকে বোয়িং-৭৭৭ ফ্লাইট চলাচল সুবিধা থাকবে। কক্সবাজারের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সুবিধা প্রদানে বাঁকখালী নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হবে। ৩০ মাসে প্রকল্পকাজ সম্পন্ন হবে। সূত্র : বাসস ও নিজস্ব প্রতিবেদক কক্সবাজার।



সাতদিনের সেরা