kalerkantho

দেশে না ফিরে নিউ ইয়র্কে সস্ত্রীক লতিফ সিদ্দিকী

সাবেদ সাথী, নিউ ইয়র্ক থেকে    

৪ অক্টোবর, ২০১৪ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশে না ফিরে  নিউ ইয়র্কে সস্ত্রীক লতিফ সিদ্দিকী

হজ ও তাবলিগ জামাত নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করে বিতর্কিত লতিফ সিদ্দিকী চার দিনের মেক্সিকো সফর শেষে নিউ ইয়র্কে ফিরেছেন। মেক্সিকোর হোটেলে দুই রাত কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস হয়ে তিনি সস্ত্রীক নিউ ইয়র্ক পৌঁছেন। দেশে ফেরার জন্য বৃহস্পতিবার তাঁর নিউ ইয়র্ক-ঢাকা বিমানের টিকিট নিশ্চিত করা ছিল। কিন্তু ওই দিন তিনি দেশে ফেরেননি। লতিফ সিদ্দিকীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রে জানা গেছে, তিনি দেশে না ফেরারই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্র কিংবা কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার চিন্তাভাবনা করছেন বলেও সূত্রটি নিশ্চিত করেছে। প্রসঙ্গত, ২৮ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে টাঙ্গাইল সমিতির অনুষ্ঠানে হজ ও তাবলিগ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন লতিফ সিদ্দিকী। একই অনুষ্ঠানে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়েও কথা বলেন। তাঁর এমন মন্তব্যের পর দেশ-বিদেশে শুরু হয় বিক্ষোভ। তাঁর অপসারণ দাবি করার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি জেলায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। তিনি মন্ত্রিত্ব হারাচ্ছেন বলেও সংবাদমাধ্যমকে জানান আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা। গতকাল প্রধানমন্ত্রীও গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘অবিবেচকের মতো’ কথা সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী মন্ত্রিসভায় থাকবেন না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যেটা আমি বলেছি, সেটাই করব। তাকে মন্ত্রিসভায় রাখব না। সে থাকবে না।’
জানা যায়, ৩০ সেপ্টেম্বর মেক্সিকোর গুয়াদালাজারা শহরে তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশ্ব সম্মেলনে যোগদান এবং বাংলাদেশের পক্ষে ‘গ্লোবাল আইসিটি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ নিজ হাতে গ্রহণের কথা ছিল লতিফ সিদ্দিকীর। ২৯ সেপ্টেম্বর সেখানে পৌঁছার পর থেকে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসের উদ্দেশে মেক্সিকো ছেড়ে আসার আগ পর্যন্ত লতিফ সিদ্দিকীকে ন্যূনতম বিচলিত দেখা যায়নি। মেক্সিকোয় পৌঁছার পর থেকেই তাঁর সফরসঙ্গী স্ত্রী গণমাধ্যম থেকে তাঁকে প্রতি মুহূর্তে আপডেট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁদের দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিতদের ভাষ্যমতে- ঘণ্টায় ঘণ্টায় পরিস্থিতি লতিফ সিদ্দিকীর প্রতিকূলে গেলেও তিনি অত্যন্ত ধীরস্থির ও স্বাভাবিক ছিলেন। অনুষ্ঠানস্থলে লতিফ সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন- এমন খবর প্রকাশিত হলেও তিনি মূলত ওই অনুষ্ঠানেই যাননি। তিনি গুয়াদালাজারা শহরেই ছিলেন এবং হোটেলে শুয়ে-বসে সময় কাটান। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের কথা তাঁকে জানালেও তাঁর মধ্যে ‘নার্ভাসনেস’ দেখা যায়নি।
মেক্সিকো ও নিউ ইয়র্কের সূত্রগুলো আরো জানায়, গত কয়েক দিনে লতিফ সিদ্দিকীর কথাবার্তা, চালচলন সর্বোপরি তাঁর মানসিক স্থিতিশীলতা ও ‘বডিল্যাংগুয়েজ’ বলছে- তিনি সজ্ঞানে সুস্থ মস্তিষ্কে জেনেশুনে এবং আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়েই টাঙ্গাইল সমিতির মিটিংয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন।
ধারণা করা হচ্ছে- মেক্সিকো থেকে ফেরার পর নিউ ইয়র্কে তাঁর অবস্থানের দুটি উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রথমত, নিরাপদ স্থান থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ। দ্বিতীয়ত, শেষ ঠিকানা হিসেবে কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়ার আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। এর পক্ষে যুক্তিও মিলেছে। লতিফ সিদ্দিকীর মেয়ে এবং বোন আগে থেকেই টরন্টোর অধিবাসী। তাই যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি তাঁদের ‘স্থায়ী আতিথেয়তা’ নিতে পারেন।

মন্তব্য