kalerkantho

শনিবার । ২৪ আগস্ট ২০১৯। ৯ ভাদ্র ১৪২৬। ২২ জিলহজ ১৪৪০

আরেকবার জ্বলে উঠতে হবে মেসিকে

   

৯ জুলাই, ২০১৪ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আরেকবার জ্বলে উঠতে হবে মেসিকে

বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল জিততে কী লাগে? আমার দুইবারের অভিজ্ঞতায় জানি, এর জন্য দরকার সাহস, জেতার ব্যাপারে নিঃসন্দেহ থাকা এবং আত্মবিশ্বাস। আর্জেন্টাইনদেরও নিজেদের ওপর সেই বিশ্বাসটা রাখতে হবে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হয়ে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যাচটা অপেক্ষা করছে তাদের জন্য। সেখানে পৌঁছাতে সামর্থ্যরে পুরোটাই নিংড়ে দিতে হবে।
মেসির ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করছে। আজকের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা হারুক বা জিতুক, সে-ই এখনো বিশ্ব^সেরা। গোটা জাতির প্রত্যাশার ভার বয়ে বেড়ানো কি খুবই কঠিন? আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গন মানেই তো তা। এমন উচ্চাশার একটা ম্যাচে আপনি যখন হেরে যাবেন, গোটা জাতি তার জন্য বিলাপ করবে। কিন্তু জয় পেলে আনন্দের বন্যা বইবে, তখন সবাই নাচবে, গাইবে, হাসবে, কাঁদবেও। খেলাটা যখন ফুটবল, তখন তো আর সব কিছু তুচ্ছ। লাতিনরা ফুটবলপাগল, ফুটবলারদের জন্য পাগল।
মেসির চেয়ে ভালো এটা আর কে জানে। তাকে তো আর্জেন্টিনায় কেউ খেলতেই দেখেনি, সবাই টিভিতে দেখেছে তার খেলা। ২০০৬ ও ২০১০-এ সে থাকা সত্ত্বেও আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনাল পেরোতে পারেনি, এর পরও যে এবার প্রত্যাশার পারদ এমন হু হু করে বেড়েছে তার কারণ ওই একটাই- তার খেলা। তার জন্যই ১৯৯০-এর পর আবার আমরা সেমিফাইনালে, আরো একবার মেসি জ্বলে উঠলে আমরা আমাদের লক্ষ্যের আরো কাছে চলে যাব। আনহেল দি মারিয়াকে ছাড়া এটা সহজ নয়, পরিস্থিতিটা এখন আরো কঠিন। আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে সে-ই আরেকজন নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়। নাম্বার টেনের পাস থেকে কিছু করে ফেলার জন্য তার বিকল্প নেই এ দলটায়।
বেলজিয়ামের ওই অসাধারণ গোলের পর হিগুয়েইন নিশ্চয়ই এখন আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু লাভেজ্জি এখনো গোল করার মতো সুযোগ পায়নি। আক্রমণভাগটা নিয়ে তাই ভাবতেই হবে। অন্যরা প্রতিপক্ষকে সামালাতেই ব্যস্ত থাকবে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষেও এর ব্যতিক্রম হবে না। রক্ষণভাগ ও মিডফিল্ডে সেই একই রকম জমাট হয়ে লড়াকু পারফরম্যান্স উপহার দিতে হবে, ঠিক আগের ম্যাচে যেটি তারা করেছে। ৯০ মিনিট বা এর চেয়েও বেশি সময় এই দৃঢ়তাটা রাখতে হবে এবং এখানে বড় ভূমিকা নিতে হবে মাসচেরানোকে।

১৯৭৪, ১৯৭৮, ২০১০-এ যা করতে পারেনি, ডাচরা এবার সেটাই করতে মুখিয়ে আছে। লুই ফন হাল তাদের শুধু উজ্জীবিতই করেননি, কার্যকরী ফুটবল খেলাচ্ছেন। ডিফেন্সে কিছুটা অনভিজ্ঞতা থাকলেও রবেন, পার্সি, স্নেইডারকে নিয়ে তাদের আক্রমণভাগই সেরা এ টুর্নামেন্টে। গতি এ খেলোয়াড়দের বড় শক্তি এবং যথেষ্ট পরিণত ওরা, জানে কিভাবে গোল বের করে নিতে হয় বা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে হয়। নিজেল দি ইয়ংয়ের ইনজুরিতে তাদের মিডফিল্ড কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল; কিন্তু কায়েট দলে ঢুকে সেটিকে আবারও পোক্ত করে দিয়েছে। কোস্টারিকার বিপক্ষে টাইব্রেকার জিতে দলটি এখন দারুণ আত্মবিশ্বাসীও। আমার মনে হচ্ছে, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তারা আক্রমণাত্মক খেলবে। আর সেটাই জায়গা বের করে দিতে পারে মেসিকে। সুযোগ সে কতটা কাজে লাগাতে পারে এর ওপরই নির্ভর করছে অনেক কিছু। দলের ভারসাম্য বিচার করলে নেদারল্যান্ডস ২-১ পয়েন্ট এগিয়েই থাকবে। কিন্তু বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল এমন একটা ম্যাচ, যেখানে আগের কোনো সাফল্য-ব্যর্থতা কাজে আসে না। পুরোটাই নিজেকে উদ্দীপ্ত রাখা আর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পারফর্ম করার ব্যাপার। ফাইনালে খেলার সুযোগ প্রতিদিন আসে না, আর্জেন্টাইনদের তাই জীবন বাজি রেখে লড়তে হবে স্বপ্নটার আরো কাছাকাছি যেতে।

মন্তব্য