kalerkantho

সোমবার । ২৬ আগস্ট ২০১৯। ১১ ভাদ্র ১৪২৬। ২৪ জিলহজ ১৪৪০

ডিসি সম্মেলন

কেন্দ্রীয়ভাবে শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক    

৯ জুলাই, ২০১৪ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্কুল ম্যানেজিং কমিটিতে (এসএমসি) যাঁরা সম্পৃক্ত হচ্ছেন এবং তাঁদের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জেলা প্রশাসকরা (ডিসি)। এতে শিক্ষার মান পড়ে যাচ্ছে বলে তাঁদের অভিমত। অবস্থার উত্তরণের জন্য এসএমসি গঠন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এবং জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে কিংবা কেন্দ্রীয়ভাবে শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন তাঁরা। জবাবে শিক্ষামন্ত্রী স্থানীয়ভাবে শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য এডিসির (শিক্ষা) নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠনের চিন্তার কথা জানিয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার শুরু হওয়া জেলা প্রশাসক সম্মেলনে বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় শিক্ষাবিষয়ক অধিবেশন। সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ অধিবেশন ছিল তিন দিনের সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এতে উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসকদের মধ্যে সাত বিভাগের বিভাগীয় সদরের জেলা প্রশাসকরা ছাড়াও ভোলা, ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসকও বক্তব্য দেন।
অধিবেশন শেষে শিক্ষামন্ত্রী বৈঠক সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করেন।
জেলা প্রশাসকরা অভিযোগ করেন, স্কুল ম্যানেজিং কমিটি (এসএমসি) যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। রাজনৈতিক বিবেচনায় সংশ্লিষ্টদের মনোনয়নের কারণে অনেক ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তিরা সম্পৃক্ত হচ্ছেন না। তাঁরা যেসব শিক্ষক নিয়োগ দিচ্ছেন তাতে রাজনৈতিক বিবেচনাই প্রাধান্য পাচ্ছে। ফলে যোগ্য প্রার্থীরা নিয়োগ পাচ্ছেন না। ম্যানেজিং কমিটি বিভিন্ন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে, প্রভাব খাটায়। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম দূর করতে কেন্দ্রীয়, আঞ্চলিক কিংবা জেলা পর্যায়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের সুপারিশ করেন তাঁরা।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, ম্যানেজিং কমিটি বেসরকারি স্কুলে যে কাউকে নিয়োগ দিতে পারে না। কারণ এখন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এনটিআরসির (বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ) সনদ থাকতে হয়। তা ছাড়া শিক্ষক নিয়োগে পিএসসির (সরকারি কর্মকমিশন) মতো বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ কমিশন গঠনের কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে। এটি হলে স্কুলগুলো শিক্ষকের চাহিদা দেবে আর এ প্রতিষ্ঠান শিক্ষক নিয়োগ দেবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার চেষ্টা করছি। সংসদ সদস্যরা চারটির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটিতে থাকতে পারেন না। আইন মতো নির্বাচন হলে এসএমসি নিয়ে সমস্যা থাকবে না। এ ছাড়া এসএমসির সদস্যদের স্কুল পরিচালনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, প্রয়োজনে আইন আরো কঠোর করা হবে।’ মন্ত্রী আরো বলেন, ‘জেলা প্রশাসনে একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) রয়েছেন। তাঁকে প্রধান করে জেলার শিক্ষাব্যবস্থা জোরদার করা যায় কি না, সে বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছি। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে আমাদের লোকবলের অভাব রয়েছে। জেলা প্রশাসন পরিদর্শনের কাজটি করতে পারে। এতে শিক্ষার মান বাড়বে।’
দূরাঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক স্বল্পতার কথা জানান জেলা প্রশাসকরা। এ প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম নাহিদ জানান, আজই ৫০টি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগ দিয়েছি। ১০০টি সরকারি স্কুলে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যেখানে এত দিন প্রধান শিক্ষক ছিলেন না।
জেলা প্রশাসকরা সভায় দুর্গম ও হাওর অঞ্চলে মাধ্যমিক পর্যায়ের যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ মহিলা কোটার বাধ্যবাধকতা শিথিল করা, বিদ্যুৎবিহীন বিদ্যালয়ে সোলার প্যানেল চালু এবং আইসিটি সামগ্রী সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সভা সূত্রে জানা গেছে, ডিসিরা প্রতিটি স্কুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম করার জন্য উপযুক্ত অবকাঠামো নিশ্চিত, বিদ্যালয়ে শ্রেণি ও শাখা খোলার অনুমোদন প্রক্রিয়া বিকেন্দ্রীকরণ করে শিক্ষা বোর্ড কিংবা বিভাগ বা জেলা পর্যায়ের একটি কমিটির মাধ্যমে করার প্রস্তাব দিয়েছেন।
সভায় জেলা প্রশাসকদের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে ছিল মহানগরীর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি চালু, ষষ্ঠ শ্রেণি খোলা হয়েছে- এমন সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের অতিরিক্ত দুটি করে পদ সৃষ্টি করা প্রভৃতি।
উল্লেখ্য, সম্মেলনকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসকরা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যাপারে ১০টি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যাপারে ১৩টি সুপারিশ পেশ করেন।

মন্তব্য