kalerkantho

শনিবার । ২ জুলাই ২০২২ । ১৮ আষাঢ় ১৪২৯ । ২ জিলহজ ১৪৪৩

খালেদার জব্দ ব্যাংক হিসাব

বরফ গলছে এনবিআরের তারিখ মিলল সাক্ষাতের

ফারজানা লাবনী    

১৮ এপ্রিল, ২০১৪ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বরফ গলছে এনবিআরের তারিখ মিলল সাক্ষাতের

অবশেষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি পেলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান। আগামী ২৭ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৯টায় সাক্ষাতের সময় দিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আয়-ব্যয়, রাজস্ব পরিশোধ-সংক্রান্ত সব তথ্য এবং ব্যাংক হিসাব জব্দকরণের বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
গত প্রায় ছয় বছর খালেদা জিয়ার ব্যাংক হিসাব জব্দ রাখা হলেও তা খতিয়ে দেখেনি এনবিআর।

বিজ্ঞাপন

এ সময়ে বহুবার আবেদন জানিয়েও এনবিআর চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ পাননি অ্যাভভোকেট আজম খান। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর চলতি মাসের ১৫ তারিখ থেকে এ হিসাব খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে।
আহমেদ আজম খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এত দিন বারবার যোগাযোগ করেও এনবিআর চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ পাইনি। গত ১৫ এপ্রিল আমাকে জানানো হয়েছে, আগামী ২৭ তারিখ এনবিআর চেয়ারম্যান আমার সাথে সকাল সাড়ে ৯টায় সাক্ষাতে সময় দিয়েছেন। ’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি এদিন ব্যাংক হিসাব খুলতে কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন তা জানতে চাইব। প্রয়োজনে খালেদা জিয়ার নিজের হাতে লেখা আবেদনপত্রও জমা দেব। ’ যোগাযোগ করা হলে এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, খালেদা জিয়ার ব্যাংক হিসাব জব্দ রাখার বিষয়টি নিয়ে এনবিআর কাজ করছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ২০০৭-০৮ সালে রাজস্ব ফাঁকিসংক্রান্ত দুটি অভিযোগ করা হয় খালেদা জিয়ার নামে। এ মামলার একটি নিষ্পত্তি হলেও অন্যটিতে খালেদা জিয়া অভিযুক্ত হন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রাজস্ব ফাঁকিবাজ হিসেবে তাঁর হিসাব জব্দ করা হয়। পরে এ অভিযোগ অস্বীকার করে খালেদা জিয়া আদালতে মামলা করেন। এ মামলা নিষ্পত্তি না হলে এনবিআর থেকে হিসাব খুলে দিতে আইনি বাধা রয়েছে বলেও তিনি জানান। এনবিআর চেয়ারম্যান এ-ও বলেন, এ বিষয়ে কিভাবে সহজে সমাধান করা যায়, তা নিয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
এনবিআর সূত্র জানায়, ‘অর্থ উত্তোলন করতে না পারায় গত তিন বছর থেকে খালেদা জিয়া বাড়িভাড়া পরিশোধ করতে পারছেন না। বর্তমানে বাড়ির মালিক ভাড়া পরিশোধে তাগাদা দিচ্ছেন’- এমন একটি খবরের ভিত্তিতে গত ৭ এপ্রিল মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড়ে নির্দেশ দেন।
সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে প্রায় ছয় বছর পর এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) খালেদা জিয়ার আয়-ব্যয়সংক্রান্ত হিসাব খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। এনবিআর চেয়ারম্যান ১৫ এপ্রিল তাঁর দপ্তরে যোগদানে চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়ার পর এ বিষয়ে পাঁচ সদস্যের টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি বর্তমানে খালেদা জিয়ার আয় ও ব্যয়সংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরি করছে। কোন খাতে কত টাকা দেনা রয়েছে তাও খতিয়ে দেখছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার আয়-ব্যয়সংক্রান্ত হিসাবের প্রকৃত অবস্থা কী তা প্রধানমন্ত্রী জানতে আগ্রহী। এ জন্য জরুরি ভিত্তিতে কাজ করা হচ্ছে। ’
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদে এনবিআরের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইসি ২০০৭ সালের শেষ দিকে ২৪২ জনের তালিকা করে ব্যাংক হিসাব জব্দ করে। এ তালিকায় খালেদা জিয়াও পড়েন। হিসাব জব্দ হলেও জীবন নির্বাহসহ প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে মাসিক
৫০ হাজার টাকা উত্তোলনে অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হয়। কিন্তু সরকারের গত মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর ব্যাংক হিসাব খুলে দেওয়া হয়।


সাতদিনের সেরা