kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

দম ফেলতে পারছে না ওসমানী পৌর স্টেডিয়াম

   

২৩ মার্চ, ২০১০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



* গ্যালারির বর্তমান অবস্থা খুবই করুণ। অনেক জায়গায় খসে পড়েছে ঢালাই। * স্টেডিয়ামে দিনভর চলে কোনো না কোনো খেলা বা প্র্যাকটিস। নারায়ণগঞ্জের ক্লাবগুলো গড়ে এক দিন করেও বরাদ্দ পায় না স্টেডিয়াম। * স্টেডিয়ামে গণশৌচাগার বলতে কিছু নেই। শরীফ উদ্দিন সবুজ, নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জ ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামের ব্যস্ততার শেষ নেই। সকালে এক দলের প্র্যাকটিস, দিনভর খেলা, বিকেলে প্র্যাকটিস অন্য দলের। জাতীয় পর্যায়ের ফুটবল লিগও হয় এখানে। আবার নারায়ণগঞ্জ শহরের স্কুল-কলেজের খেলা, ঢাকা বিভাগীয় বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, এমনকি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বড় বড় অনুষ্ঠানও হয় এখানেই। এ কারণে নারায়ণগঞ্জের ক্লাবগুলো গড়ে এক দিন করেও বরাদ্দ পায় না স্টেডিয়াম। অথচ এই স্টেডিয়ামের উন্নয়নের জন্য বছরের পর বছর টাকা বরাদ্দ চেয়েও পাচ্ছে না জেলা ক্রীড়া সংস্থা। পুরো স্টেডিয়ামের টিনের বেড়া ছাড়া গ্যালারি, প্যাভিলিয়নসহ অন্য সব কিছুই তৈরি হয়েছে স্থানীয় বিভিন্ন জনের অর্থায়নে। সবই এখন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। নারায়ণগঞ্জ ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামটির অবস্থান শহরের ইসদাইর এলাকায়। স্টেডিয়ামে যাওয়ার আগে রাস্তার পাশে শুকতারা ক্লাবের অফিস। গত ১৬ মার্চ সেখানে কথা হলো শুকতারার অধিনায়ক রেজাউল করিম লিটনের সঙ্গে। শুকতারা এবারের বাংলাদেশ ফুটবল লিগে খেলছে। ১৮ মার্চ এ স্টেডিয়ামেই ছিল তাঁদের খেলা। যেদিন তাঁর সঙ্গে কথা হচ্ছিল, সেদিন স্টেডিয়ামে চলছিল একটি স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। এ বিষয়টি অবাকই করেছে লিটনকে, 'পেশাদার লিগের মতো দেশের সর্বোচ্চ ফুটবলের ম্যাচের আগে মাঠটি যেন খেলার উপযোগী থাকে সে জন্য কমপক্ষে চার দিন সেখানে সব ধরনের আয়োজন বন্ধ রাখতে হয়। অনেক মাঠে ১৫ দিন আগেও খেলা বন্ধ করে সংস্কারকাজ শুরু করতে হয়। কিন্তু এ মাঠে খেলার আগে এক দিনও যত্ন নেওয়ার সুযোগ থাকে না।' লিটনের বর্ণনায়ই উঠে এল স্টেডিয়ামের মহাব্যস্ততার প্রকৃত চিত্র, 'দেখা যায় সকালে হয়তো কোনো দল এখানে প্র্যাকটিস করছে, প্র্যাকটিস শেষ হতে না হতেই মাঠে শুরু হলো কোনো টুর্নামেন্ট। আবার বিকেলে টুর্নামেন্টের খেলা শেষ হতে না হতেই হয়তো এক গ্রুপ প্র্যাকটিসে নেমে গেল। এ ছাড়া বিভিন্ন স্কুল-কলেজের খেলা, রাজনৈতিক দলের নানা কর্মসূচি মিলিয়ে মাঠের ওপর এমন ধকল যায় যার পরিণামে অনেক অংশে একেবারেই ঘাস থাকে না।' নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা সূত্র জানায়, ১৯৬৫ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা খেলার মাঠ হিসেবে এ স্টেডিয়ামের সাড়ে আট একর জায়গা উন্নয়ন করে। স্বাধীনতার পর মাঠটিকে স্টেডিয়াম ঘোষণা দেওয়া হয়। ১৯৭৩ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা স্টেডিয়ামের প্যাভিলিয়ন নির্মাণ করে দেয়। ১৯৭৮ সালে নারায়ণগঞ্জ শহর উন্নয়ন কমিটি মাঠের পশ্চিম পাশে গ্যালারি নির্মাণ করে। সেটি এখনো রয়েছে। ১৯৮৬ সালে এটি দেখভালের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয় জেলা ক্রীড়া পরিষদের কাছে। গ্যালারির বর্তমান অবস্থা খুবই করুণ। অনেক জায়গায় খসে পড়েছে ঢালাই। স্টেডিয়ামে গণশৌচাগার বলতে কিছু নেই। 'প্রস্রাবখানা' নামে যে কয়টি খুপড়ি আছে, সেগুলোর অবস্থাও খুব খারাপ। নেই প্রেস বক্স। বাংলাদেশ লিগের খেলা হলে অস্থায়ী প্রেস বক্স নির্মাণ করা হয় প্যাভিলিয়নের ওপর। খেলোয়াড়-কর্মকর্তাদের জন্য যে টয়লেট আছে, সেটিও মানসম্পন্ন নয়। ইসদাইর যুব সংঘ ফুটবল ক্লাবের কর্মকর্তা মাহবুব হোসেন বিজন জানালেন, গ্যালারির ধারণক্ষমতাও পর্যাপ্ত নয়, 'জাতীয় পর্যায়ের খেলা হলে এখানে গ্যালারিতে যত লোক বসতে পারে, তার দ্বিগুণ লোক বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে। প্রচুর লোকসমাগম হলে গ্যালারি জরাজীর্ণ বলে আমরা আতঙ্কে থাকি, কখন কী ঘটে যায় বলা তো যায় না!' জেলা ক্রীড়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এ জেড এম ইসমাইল বাবুল মনে করেন, নারায়ণগঞ্জের ক্লাব এবং খেলোয়াড়দের চাহিদা পূরণের জন্য একটি স্টেডিয়াম যথেষ্ট নয়, 'শহরে শুধু ফুটবল, ক্রিকেট আর ভলিবলের ক্লাবই আছে বাহান্নটি। স্বাভাবিকভাবেই এসব ক্লাব গড়ে এক দিন করেও স্টেডিয়াম ব্যবহারের সুযোগ পায় না। স্টেডিয়ামটি বড় মাপের ফুটবল টুর্নামেন্টের উপযোগী নয়। সব কিছু ভেবে এ স্টেডিয়াম উন্নয়নের জন্য অনেক আগেই আমরা একটা পরিকল্পনা পাঠিয়েছিলাম জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছে। কিন্তু তেমন কোনো সাড়া পাইনি।' এ ব্যাপারে কথা বলতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব শফিক আনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও কথা বলা যায়নি। কারণ, সচিব বলে দিয়েছেন, ফোনে কোনো কথা বলবেন না তিনি। ফোন নিয়ে তাঁর এলার্জি থাকাই স্বাভাবিক, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে জজ মিয়াসহ তিনজনের সাজানো জবানবন্দি নেওয়া দুই ম্যাজিস্ট্রেটের একজন এই শফিক আনোয়ার। এ রকম এক লোকের হাতে পড়েছে এখন বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন। যার কাছে ক্রীড়া গৌণ, বরং চাকরি বাঁচাতে লাইন-লবিংয়ে তিনি বেশি ব্যস্ত। তাই কর্মকর্তাদের আক্ষেপ করা ছাড়া উপায় নেই। ক্রীড়া পরিষদের সম্পাদকের কণ্ঠে তাই আক্ষেপ, 'দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরকার জমি নিয়ে স্টেডিয়াম নির্মাণ করছে। অথচ আমরা এখানে নিজেদের জায়গায় স্টেডিয়াম সংস্কার করতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েও পাচ্ছি না।'


সাতদিনের সেরা