kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

ডিএসসিসির ওয়ার্ড নম্বর ৩০ ও ৩১

প্রার্থীদের আশ্বাসে বিশ্বাস নেই ভোটারদের

জহিরুল ইসলাম    

২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রার্থীদের আশ্বাসে বিশ্বাস নেই ভোটারদের

বেহাল স্যুয়ারেজ লাইন, ভঙ্গুর খোলা ড্রেনে ময়লার অবস্থান, ভাঙা রাস্তা, যানজটসহ বিভিন্ন সমস্যার সঙ্গে বছরের পর বছর ধরে বসবাস ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের। তাই আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচার ও আশ্বাসে খুব বেশি প্রভাবিত হচ্ছে না তারা। বরং বলছে, নির্বাচন এলে আশ্বাসের ফুলঝুরি সামনে আসে, যা মন-ভোলানো বুলি ছাড়া কিছু নয়।

ভোটারদের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন কোনো কোনো কাউন্সিলর পদপ্রার্থীও। তাঁরা বলছেন, নির্বাচিত হওয়ার পর অনেকটা সিটি করপোরেশনের ‘কর্মচারী’ হিসেবে কাজ করেন কাউন্সিলর। প্রকৃতপক্ষে কিছুই করার থাকে না তাঁর। আবার অনেক জনপ্রতিনিধি ইচ্ছা করেই কাজ করেন না।

ডিএসসিসির ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের অধীন পুরান ঢাকার ছোট কাটারা, বড় কাটারা, চক সার্কুলার রোড, ইমামগঞ্জ, নলগোলা, সোয়ারীঘাট, দেবীদাস ঘাট লেন ও কামালবাগ, মৌলভীবাজার, বেগমবাজার, আরমানীটোলা, বেচারাম দেউড়ি, নূর বক্স লেন, আবুল খয়রাত লেন, সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগার, নাবালক মিয়া লেনসহ এলাকার প্রায় চার লাখ মানুষ বহু সমস্যার সঙ্গে বসবাস করছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্বাচন নিয়ে দুই ওয়ার্ডের ভোটার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উন্মাদনা ততটা না থাকলেও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যস্ততা রয়েছে।

৩০ নম্বর ওয়ার্ড : ওয়ার্ডটিতে ড্রেনেজ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, মাদক নিয়ন্ত্রণ, মশক সমস্যার সমাধান চায় সাধারণ মানুষ। এলাকাবাসী জানায়, গত নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী অনেক আশ্বাস দিলেও এর বেশির ভাগই বাস্তবায়ন হয়নি। মিটফোর্ড এলাকার ব্যবসায়ী ইসমাইল সিরাজী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নির্বাচন এলে অনেকে প্রার্থীই অনেক কথা বলেন। তবে বাস্তবায়ন সে অনুযায়ী হয় না। আসলে মানুষ এখন আর সে বিষয়ে ভাবেও না।’

মিটফোর্ড থেকে চকবাজার পর্যন্ত রাস্তাটি বছরের পর বছর খারাপ অবস্থায় রয়েছে। এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন তিনজন। তাঁরা হলেন বর্তমান কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত মো. হাসান, এমপি হাজি সেলিমের ছেলে মোহাম্মদ ইরফান সেলিম এবং বিএনপি সমর্থিত মো. ইলিয়াস।

প্রার্থীরা বলছেন, এলাকাটির প্রধান সমস্যা যানজট। তাই রাস্তা প্রশস্ত করা, মালপত্র উঠানো-নামানোর জন্য স্থান নির্ধারণ, বুড়িগঙ্গার পারঘেঁষা দেবীদাস ঘাট লেন ও কামালবাগ অংশে জেটি নির্মাণ করা জরুরি। এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ওয়ার্ডের বেশির ভাগ রাস্তার পাশে খোলা ড্রেন থাকায় মাছি-মশাসহ ক্ষতিকর পোকামাকড় জন্মাচ্ছে। এ ছাড়া এলাকার বেড়িবাঁধ রাস্তা, চক সার্কুলার রোড, বড় কাটারাসহ বেশির ভাগ সড়কে তীব্র যানজট লেগেই থাকে। ঠেলাগাড়ি, রিকশা, ট্রাক দোকানের সামনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে মালপত্র উঠায়-নামায়। ফলে যানজট আরো বাড়ে।

বর্তমান কাউন্সিলর মো. হাসান বলেন, ‘নির্বাচিত হওয়ার পর অনেক কাজ করেছি। গত নির্বাচনে আমি মাদকমুক্ত সমাজ, চাঁদাবাজি বন্ধসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উন্নয়নমূলক কাজগুলো করার কথা বলেছিলাম, যার সব কটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই এলাকা এখন চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত। ২২টি রাস্তার উন্নয়নকাজ করেছি। কামালবাগ এলাকা নদীর পাশে থাকা সত্ত্বেও জলাবদ্ধতা দূর করা হয়েছে। চকবাজার থেকে মিটফোর্ড পর্যন্ত রাস্তাটির কাজ চলছে।’

বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মো. ইলিয়াস বলেন, ‘আমি দল থেকে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনের প্রচারে নেমেছি। বাধা-বিপত্তির মধ্যে মাঠে আছি। নির্বাচিত হলে একজন জনপ্রতিনিধির পক্ষে যতটা করা সম্ভব, এর সবটাই করব।’

৩১ নম্বর ওয়ার্ড : ওয়ার্ডটির মৌলভীবাজার, বেগমবাজার, আরমানীটোলা, বেচারাম দেউড়ি, নূর বক্স লেনসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় মাদক, মশক, ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ, বিশুদ্ধ পানির দুষ্প্রাপ্যতা, জলাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে রয়েছে প্রায় দুই লাখ মানুষ। নূর বক্স লেনের বাসিন্দা সোহেল রানা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগের কাউন্সিলর কোনো কাজই করতে পারেননি। বরং বিএনপি সমর্থিত হওয়ায় বেশির ভাগ সময় তাঁকে এলাকার বাইরে থাকতে দেখা গেছে। শুনেছি, তাঁর বিরুদ্ধে অনেক মামলা আছে।’

ওয়ার্ডটিতে আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির সমর্থন পেয়েছেন হাজি এ এম কাইয়ুম। তিনি বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডে প্রচার নিয়ে তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। সব এলাকায় গিয়েছি। আমার ১০০ জন মহিলা ১০ জনের দল করে প্রতিটি অলিগলিতে প্রচার চালাচ্ছেন। এই ওয়ার্ডে কেউ কাউকে বাধা দিচ্ছে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার এলাকায় প্রতিটি স্যুয়ারেজ লাইনের ওপর দিয়ে ময়লা পানি উপচে পড়ে। রাস্তাঘাট বেহাল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা