kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র

প্রতি দুই ওয়ার্ডে এক প্লাটুন বিজিবি

নিরস্ত্র থাকবে সশস্ত্র বাহিনী
দায়িত্বে থাকবেন ১৭২ জন ম্যাজিস্ট্রেট, ৬৪ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দুই হাজার ৪৬৮টি ভোটকেন্দ্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কারা দায়িত্ব পালন করবেন সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়ে গতকাল সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পরিপত্র জারি করা হয়েছে। ওই পরিপত্রে বলা হয়েছে, প্রতি দুই ওয়ার্ডের নিরাপত্তার জন্য এক প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হবে। তারা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে।

এ ছাড়া প্রতি ওয়ার্ডে র‌্যাবের একটি টিম ও একটি রিজার্ভ স্ট্রাইকিং ফোর্স দায়িত্ব পালন করবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পুলিশ, আনসারের ১৬ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে দুজন পুলিশ বেশি থাকবে। ইভিএম কারিগরি সহায়তার জন্য প্রতি কেন্দ্রে দুজন করে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। তবে তাঁদের কাছে কোনো অস্ত্র থাকবে না। এ ছাড়া নির্বাচনী এলাকার কাছের নদীপথে নৌ পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে।

পরিপত্রে বলা হয়, নির্বাচন উপলক্ষে ৩১ জানুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় নৌযান, ট্রলার, স্পিডবোট, ট্রেক্সিক্যাব, অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, বাস, ট্রাক, টেম্পোসহ যন্ত্রচালিত যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। ৩০ জানুয়ারি রাত ১২টা থেকে ২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।

পরিপত্রে আরো বলা হয়, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কারিগরি সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রতি কেন্দ্রে দুজন করে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। তাঁরা কোনো ধরনের অস্ত্র, গোলাবারুদ বহন করবেন না, শুধু ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভোটগ্রহণের দিন এবং এর আগে দুই দিন ও পরে দুই দিন—মোট পাঁচ দিন নিয়োজিত থাকবে। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ভোটকেন্দ্রের বাইরে র‌্যাব-পুলিশের টিম সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করবে।

পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা উত্তর সিটিতে ৪৩ জন, দক্ষিণ সিটিতে ১২৯ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন। ম্যাজিস্ট্রেটরা বিজিবির মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্সের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। এ ছাড়া উত্তর সিটিতে ২৭ ও দক্ষিণ সিটিতে ৩৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন।

ভোটগ্রহণের দিন আইন ও বিধি অনুসারে কিছু অপরাধের তাৎক্ষণিক বিচারকাজ সম্পন্ন করতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে সংক্ষিপ্ত বিচার আদালত গঠন করা হবে। এ ছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মোবাইল কোর্টের দায়িত্ব পালন করবেন।

পরিপত্রে বলা হয়, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও নির্বাচনী এলাকার সামগ্রিক নিরাপত্তা বিধানে সব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বে থাকবেন রিটার্নিং অফিসার। স্থানীয় অবস্থা ও বাস্তবতার নিরিখে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও ক্ষেত্র মতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে পরামর্শ করে ভোটকেন্দ্রে ফোর্সের সংখ্যা হ্রাস-বৃদ্ধি করতে পারবেন। রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে নির্বাচনের দুই দিন আগে থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধির সমন্বয়ে সেল স্থাপন করতে হবে। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় ও মনিটরিং সেল স্থাপন করা হবে। ভোটগ্রহণের দিন ফলাফল ঘোষণা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মনিটরিং সেল খোলা থাকবে। এই সেলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। বিদ্যমান পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিত করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা