kalerkantho

শনিবার । ৯ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৭ জমাদিউস সানি ১৪৪১

ইসিতে পাল্টাপাল্টি নালিশ আওয়ামী লীগ-বিএনপির

সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিতে বললেন সিইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইসিতে পাল্টাপাল্টি নালিশ আওয়ামী লীগ-বিএনপির

সিইসি কে এম নুরুল হুদা

ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পাঁচ দিন আগে গতকাল সোমবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেছে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। এইচ টি ইমামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এবং আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বিএনপির প্রতিনিধিদল বিকেলে আলাদাভাবে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেন। কমিশনের পক্ষে নেতৃত্ব দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা।

বৈঠকে দুই পক্ষই ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করে। তবে আওয়ামী লীগ লিখিতভাবে অভিযোগ তুলে ধরলেও বিএনপির অভিযোগ ছিল মৌখিক। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালেও দুই দলের প্রতিনিধিরা পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেন। তাঁরা গত রবিবার গোপীবাগের সংঘর্ষ নিয়েও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেন। 

বৈঠকের পর বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশে যে রাজনীতি চলছে, সেখানে বিএনপি আওয়ামী লীগকে আক্রমণ করেছে—এটা বিশ্বাস করার কোনো কারণ আছে? গোপীবাগের ঘটনায় বিএনপিকর্মীদের পেটানোর পর আওয়ামী লীগ আবার উল্টো মামলা করেছে। এখন নতুন নিয়ম হয়েছে যে আগে পেটাবে পরে মামলা দেবে।’ তিনি বলেন, ‘আজকের (গতকাল সোমবার) বৈঠকে প্রথম যে বিষয়টি উঠে এসেছে, সেটা হলো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, সেটি হতে হলে সবার সমান সুযোগ থাকা দরকার। সেখানেই সমস্যা হচ্ছে।’

বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করেন, ঢাকায় ১০০-এর বেশি জায়গায় অবৈধভাবে ফুটপাতের ওপর আওয়ামী লীগের অফিস করা হয়েছে।  আওয়ামী লীগের ওভার সাইজ পোস্টার টাঙানো হচ্ছে, এমন পোস্টার বিএনপির একটিও নেই। এভাবে নির্বাচন পর্যন্ত চললে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হতে পারে না। তারা মাইক ব্যবহারের বিধিও মানছে না।’ তিনি বলেন, (ইসি) ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব ফুটপাতের অফিস ভাঙা হবে বলে জানিয়েছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষক বিষয়ে আমীর খসরু বলেন, সার্ক হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন নামের যে সংগঠন, তাদের কানাডিয়ান একজন নারী দেশে এক কথা বললেও বাইরে আরেক কথা বলেন। নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোতে দলীয় লোক থাকার অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়া, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আব্দুস সালাম, বিজন কান্তি সরকার, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ছিলেন।

আওয়ামী লীগের অভিযোগ : নির্বাচন বানচালের জন্য ইশরাক হোসেনসহ বিএনপির ক্যাডাররা পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগ কর্মীদের ওপর হামলা করেছেন বলে অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মীদের ওপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা করা হয়েছে। সে তথ্য-প্রমাণ নিয়ে আমরা আজ এসেছিলাম কমিশনে। এর আগে বিএনপির শক্তিশালী প্রতিনিধিদল এসেছিল, তাদের অনেক অভিযোগ ছিল। আসলে চোরের মায়ের বড় গলা। কারণ গতকালের হামলা সাজানো ও পূর্বপরিকল্পিত। বিএনপির ক্যাডাররা এমনভাবে এটি করেছেন যে তাঁরা আগে থেকেই তৈরি হচ্ছিলেন।’

এইচ টি ইমাম বলেন, ২০১৪-১৫ সালে অগ্নি সন্ত্রাসের সময় যারা জেলে ছিল, তাদের ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা এমন কিছু করতে পারে, যাতে নির্বাচন বানচাল হয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘কমিশনকে আমরা এসব তথ্য দিয়েছি। গতকাল আমাদের অনেকে আহত হয়েছেন, আমাদের কর্মীদের, যাঁদের গুলি লেগেছে, তাঁরা হাসপাতালে আছেন।’

হয়রানির আলামত দেখিনি—সিইসি : বিএনপির প্রার্থীদের হয়রানির মতো কোনো আলামত দেখেননি জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিএনপি

বলেছে তাদের প্রার্থীদের পুলিশ হয়রানি করছে। তবে সে রকম হয়রানির কোনো আলামত আমরা দেখিনি।’ তিনি আরো বলেন, ‘গোপীবাগের ঘটনায় বিএনপি বলছে তাদের মামলা নেয়নি। পরে আমি ওসির সঙ্গে কথা বললাম সেখানে বসেই। ওসি বললেন, তারা আমাদের কাছে আসেনি, মামলা দেয়নি।’

আওয়ামী লীগের অভিযোগের বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ গতকালের ঘটনার জন্য বিএনপিকে দায়ী করেছে। তাদের বক্তব্য, এই সুযোগে বিভিন্ন জায়গা থেকে সন্ত্রাসী দল ঢাকায় ঢুকে পড়বে এবং নির্বাচনের সময় নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যাহত করবে, আমরা যেন ব্যবস্থা নিই। আমরা বলেছি, যদি নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকে সেটা বলতে হবে।’

গোপীবাগের একই ঘটনায় দুই দল অভিযোগ দিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের কাছে কী মনে হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘ক্রিমিনাল অফেন্সের বিষয়ে তো আমরা কিছু বলতে পারি না। তবে স্থানীয়ভাবে তো আমরা তদন্ত করতে পারি, সেটি করতে একটু সময় লাগে। রিটার্নিং অফিসার, ওসি ও ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়োগ করেছি প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত আসেনি। আসলে কোনো প্রার্থী জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর অন্য কেউ জড়িত থাকলে ক্রিমিনাল অফেন্স অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা