kalerkantho

শনিবার । ৯ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৭ জমাদিউস সানি ১৪৪১

সিটি নির্বাচন নিয়ে সুজন

প্রার্থীসংখ্যার সঙ্গে মানও কমেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবসায়ীদের আধিপত্য বেশি। এর অর্থ হচ্ছে বাংলাদেশে রাজনীতি ব্যবসায়ীদের করায়ত্ত হয়ে যাচ্ছে। প্রার্থীদের মানেরও অবনতি ঘটছে, কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ছে, স্বল্প আয়ের প্রার্থীর সংখ্যা কমছে; একই সঙ্গে শিক্ষাগত যোগ্যতা কম—এমন প্রার্থীর সংখ্যাও বাড়ছে। আগের নির্বাচনের তুলনায় এবার প্রার্থীর সংখ্যাও কমেছে। দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন হলে প্রার্থীর সংখ্যাও কমে যায়।

গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রার্থীদের তথ্যের বিশ্লেষণ উপস্থাপনকালে সুজনের সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। সুজন সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। এতে উপস্থিত ছিলেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, ঢাকা মহানগরের সহসভাপতি ক্যামেলিয়া চৌধুরী ও নাজিমউদ্দিন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য শফিউদ্দিন আহমেদ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দুটি সিটি করপোরেশনের সব পদেই ২০১৫ সালের নির্বাচনের তুলনায় প্রার্থী সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। ঢাকা উত্তরে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে ছয়জন, সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ২৫২ জন এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৭৭ জন; তিনটি পদে মোট ৩৩৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ২০১৫ সালের নির্বাচনে এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১৬, ২৭৭ ও ৮৯ এবং মোট ৩৮২ জন। একইভাবে ঢাকা উত্তরে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে সাতজন, সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৩২৫ জন এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৮২ জন; তিনটি পদে মোট ৪১৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ২০১৫ সালের নির্বাচনে এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২০, ৩৮৭ ও ৯৫ এবং মোট ৫০২ জন।

প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে বলা হয়, ঢাকা উত্তরের ছয়জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনই উচ্চশিক্ষিত। এঁদের মধ্যে দুজনের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর ও তিনজনের  স্নাতক। একজন প্রার্থীর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই।

ঢাকা উত্তরের ৫৪টি ওয়ার্ডের ২৪৮ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর মধ্যে অধিকাংশ প্রার্থীর (১৫৬ জন বা ৬২.৯০%) শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা তার নিচে। শুধু এসএসসির নিচেই ১২৩ জন (৪৯.৬০%)। স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারী প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র ৫৬ জন (২২.৫৮%)। 

ঢাকা দক্ষিণের সাতজন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে তিনজন (৪২.৮৬%) উচ্চশিক্ষিত। এঁদের মধ্যে দুজনের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর ও একজনের স্নাতক। তবে তিনজন প্রার্থীর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই।

প্রার্থীদের পেশা সম্পর্কে বলা হয়, ঢাকা উত্তরের ছয়জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে তিনজন ব্যবসায়ী। ২৪৮ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর চার পঞ্চমাংশেরও অধিকের (২০৩ জন বা ৮১.৮৫%) পেশা ব্যবসা। ৯ জন (৩.৬৩%) তাঁদের পেশার কথা উল্লেখ করেননি। ঢাকা উত্তরের মোট ৩৩১ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৪১ জনের (৭২.৮১%) পেশা ব্যবসা।

ঢাকা দক্ষিণের সাতজন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে চারজনই ব্যবসায়ী। ঢাকা দক্ষিণের ৩২০ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর চার পঞ্চমাংশেরও অধিকের (২৬৪ জন বা ৮২.৫%) পেশা ব্যবসা। ঢাকা দক্ষিণের মোট ৪০৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩০১ জনের (৭৩.৫৯%) পেশা ব্যবসা। সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের পেশা, আয় ও মামলা সম্পর্কেও তথ্য তুলে ধরা হয়। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা