kalerkantho

বুধবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ১ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

ঐতিহ্য ফিরিয়ে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের আশ্বাস তাপসের

রফিকুল ইসলাম   

২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঐতিহ্য ফিরিয়ে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের আশ্বাস তাপসের

ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে গতকাল বাবুবাজার ব্রিজ থেকে গণসংযোগ শুরু করেন আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস। ছবি : কালের কণ্ঠ

শনিবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিট। নয়াবাজার থেকে বাবুবাজার ব্রিজের সড়কে দীর্ঘ যানজট। সড়কের বাঁ পাশে সারি সারি চালের আড়ত ও ওষুধের দোকান। দোকান থেকে চালের বস্তা মাথায় নিয়ে হেঁটে চলছেন কুলি। ইসলামপুর সড়কের মাথায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগে কয়েক শ নেতাকর্মী রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে আছেন। মাইকে বাজছে নির্বাচনী গান। হ্যান্ড মাইকেও চলছে তীব্র স্লোগান। দুপুর ১২টায় বাবুবাজার ব্রিজের নিচ থেকে গণসংযোগ শুরুর কথা থাকলেও শুরু হয় দুপুর ২টা ২০ মিনিট। তখন হালকা সাদা রঙের গাড়িতে নির্বাচনী গণসংযোগে আসেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস।

মিটফোর্ডের দিক থেকে ইসলামপুর যেতে বাবুবাজার ব্রিজের নিচে দুপুর আড়াইটার পর গণসংযোগ শুরু করেন তাপস। উদ্বোধনের পর গণসংযোগ চালাতে ইসলামপুর রোডে প্রবেশ করেন তিনি। দুই পাশের প্রতিটি দোকানে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন তিনি। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী হাজি এম এ মান্নান তাঁর সঙ্গে ছিলেন। এ ছাড়া মহানগর আওয়ামী লীগ, ওয়ার্ড যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে গতকাল প্রচারণা চালান তাপস।

বাবুবাজারের ইসলামপুরের কাপড় ব্যবসায়ীদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে লিফলেট তুলে দেন মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস। চারপাশে নেতাকর্মীবেষ্টিত হয়ে ভোটারের কাছে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন। প্রথমে কুশল বিনিময় করে লিফলেট তুলে দিয়ে করমর্দন করে নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে অনুরোধ জানান তাপস। ভোটারকে লিফলেট হাতে দিয়ে করমর্দন ও কুশল বিনিময়ের পর সামনে এগিয়ে চলছেন তাপস।

সামনে, পেছনে ও আশপাথে থাকা নেতাকর্মীদের সরিয়ে দিয়ে ভোটারের কাছে ছুটে যাচ্ছেন তিনি। নেতাকর্মীর ভিড়ে সরু গলিতে তীব্র যানজটও সৃষ্টি হচ্ছে। ভিড়ের মধ্য দিয়েও পথচারী ও ব্যবসায়ীরা সামনে এগিয়ে চলছেন।

তাপসের মিডিয়া সমন্বয়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুরান ঢাকার দক্ষিণ সিটির আওতায় ৩২, ৩৫, ৩৬ ও ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেছেন। রাজধানীর সদরঘাট ও আশপাশের এলাকার ভোটারের কাছে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেছেন তিনি।

গণসংযোগ শুরুর সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তাপস বলেন, ‘পুরান ঢাকার উন্নয়নে ৩০ বছর মেয়াদি দীর্ঘ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঢাকাকে বসবাসযোগ্য ও উন্নত করার লক্ষ্যে পাঁচটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেই পরিকল্পনার আলোকে পুরান ঢাকাকে উন্নত করা হবে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় পুরান ঢাকার অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা হবে।’

তিনি বলেন, আগামী ২৮ অথবা ২৯ জানুয়ারি ইশতেহার ঘোষণা করা হবে। এই ইশতেহারে রাজধানী ঢাকার উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে। পাঁচ দফা পরিকল্পনা এরই মধ্যে নেওয়া হয়েছে। জনগণ এই পরিকল্পনায় একমত হয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিচ্ছে। বিপুল সাড়া পাচ্ছি। ভোটাররা ব্যাপক জনসমর্থন দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আগামী ১ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঢাকাবাসীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই ভোটাধিকারের মাধ্যমে জনগণ ও ঢাকাবাসীর নবসূচনা হবে। উন্নত ঢাকার পক্ষে নৌকা প্রতীকে প্রার্থী হিসেবে আমাকে জয়যুক্ত করবেন। নির্বাচিত হয়ে মেয়র হিসেবে নয়, সেবক হিসেবে ঢাকাবাসীর উন্নয়নে কাজ করবে।’

নির্বাচন নিয়ে বিএনপির প্রার্থীর অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘ঢাকাবাসীর উন্নয়ন পরিকল্পনায় আমরা জনগণের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, প্রতিপক্ষ প্রার্থী অভিযোগ নিয়ে ব্যস্ত। ঢাকাবাসীর জীবনমান উন্নয়ন নিয়ে তাদের কোনো পরিকল্পনা নেই। তারা জাতীয় রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত।’

তাপস বলেন, ‘বংশাল ও কোতোয়ালি এলাকার জন্য আমরা ৩০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করেছি। এখানকার ঐতিহ্য ধরে রাখতে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা