kalerkantho

বুধবার  । ১৮ চৈত্র ১৪২৬। ১ এপ্রিল ২০২০। ৬ শাবান ১৪৪১

কামরাঙ্গীর চর ও বাড্ডায় হামলা-সংঘর্ষ

পুলিশের সামনেই হামলার অভিযোগ কামরাঙ্গীর চরে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কামরাঙ্গীর চর ও বাড্ডায় হামলা-সংঘর্ষ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. সাইদুর রহমান রতনের (ঠেলাগাড়ি মার্কা) নির্বাচনী ক্যাম্প পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি প্রচারণা চালাতে গেলে তাঁর কর্মীদের ওপর হামলা চালানোরও অভিযোগ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের বেরাইদে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের ৯ জন আহত হয়েছে। আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার গভীর রাতে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সাইদুর রহমান রতন অভিযোগ করেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে কুড়ার ঘাট এলাকায় তাঁর ৮-১০ জন কর্মী ঠেলাগাড়ি মার্কার পোস্টার লাগাতে গেলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মোহাম্মদ হোসেনের লোকজন তাদের ওপর হামলা করে। এতে তারা আহত হয়। পরে তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

তিনি জানান, পরদিন শুক্রবার কামরাঙ্গীর চরের রসুলপুরের রনী মার্কেট এলাকায় তাঁর পূর্বনির্ধারিত জনসংযোগ করার কথা ছিল। কিন্তু তিনি যাওয়ার আগেই খবর পান মোহাম্মদ হোসেনের ৭০ থেকে ৮০ জন কর্মী লাঠিসোঁটা ও ইট-পাথর নিয়ে হামলা করার জন্য অপেক্ষা করছে। বিষয়টি তিনি কামরাঙ্গীর চর থানার ওসি মশিউর রহমানকে জানান। মশিউর রহমান তাঁকে ওই এলাকায় না গিয়ে অন্য এলাকায় প্রচারে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর তিনি খালপাড় এলাকায় প্রচার চালাতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে তাঁর কর্মীদের ওপর হোসেনের লোকজন হামলা করে এবং তাঁর নির্বাচনী ক্যাম্প পুড়িয়ে দেয়।

রতন জানান, পুলিশের সামনেই তাঁর কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি মামলা করতে চাইলে পুলিশ মামলা নিতে চাচ্ছে না। এ বিষয়ে জানতে কামরাঙ্গীর চর থানার ওসির মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এদিকে বাড্ডা থানার ওসি পারভেজ ইসলাম জানান, কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও বাড্ডা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের (লাটিম মার্কা) সমর্থকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য রহমতুল্লাহ্র ভাগ্নে আইয়ুব আনছার মিন্টুর (ঘুড়ি মার্কা) সমর্থকদের মারামারি হয়েছে। দুই প্রার্থীর মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। তবে নির্বাচনী প্রচারকে ঘিরে তাঁদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, আহতদের মধ্যে ঘুড়ি মার্কার সমর্থকরা হলেন ফাতেমা, মাসুম, আসাদুল, রুবিনা, রিপন ও আজিজুল। লাটিম মার্কার সমর্থকরা হলেন ফয়সাল, মিনহাজ ও সাইফুর রহমান।

লাটিম মার্কার আহত সমর্থক ফয়সাল বলেন, ঘটনার সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। মজিবুর রহমান আমার সত্চাচা। তাঁরা আমাদের একটি বাড়ি দীর্ঘদিন ধরে দখল করে আছেন। এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি মামলা চলছে। গত বুধবার রাতে এ বিষয় নিয়ে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে অতর্কিতভাবে তাঁরা আমাদের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় দুই পক্ষের লোকজনই আহত হয়।

ঘুড়ি মার্কার আহত রুবিনা বলেন, ‘রাতে খাওয়াদাওয়া সেরে আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। এ সময় লাটিম মার্কার লোকজন আমাদের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর চালায়। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এসে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা