kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

ইশরাককে পাশে পেয়ে উত্তাপ ছড়াচ্ছেন নেতাকর্মীরা

খালেদা জিয়াসহ জনতার ওপর দুঃশাসন চলছে : খন্দকার মোশাররফ
আমার কোনো রাষ্ট্রীয় শক্তি নাই, শক্তি হচ্ছে জনগণ : ইশরাক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইশরাককে পাশে পেয়ে উত্তাপ ছড়াচ্ছেন নেতাকর্মীরা

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রার্থীরা। বিগত কয়েকটি নির্বাচনে মাঠের লড়াইয়ে বিএনপির উপস্থিতি তেমন টের পাওয়া না গেলেও ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন জমিয়ে তুলেছেন দলের মনোনীত তরুণ দুই প্রার্থী। দক্ষিণে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইশরাক হোসেন এরই মধ্যে নেতাকর্মীদের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করতে শুরু করেছেন। হামলা-মামলার ভয় থাকলেও প্রচারণায় ইশরাককে পাশে পেয়ে রীতিমতো নির্বাচনী উত্তাপ ছড়াচ্ছেন দলের নেতাকর্মীরা। নির্বাচনের দিন যত সামনে এগোচ্ছে প্রচারণায় উপস্থিতি তত বাড়ছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকার হোসেন প্লাজা মার্কেটের সামনে পথসভার মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন ইশরাকসহ দলের নেতারা। সভায় নেতাকর্মীসহ হাজার হাজার সাধারণ মানুষ অংশ নেয়। মিছিলে মিছিলে সমগ্র এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। জনসংযোগে অংশ নিয়ে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ মজলুম জনতার ওপর দুঃশাসন চলছে। এই অন্যায়, অপশাসন ও স্বৈরশাসনের কবল থেকে রক্ষা পেতে পহেলা ফেব্রুয়ারি ঢাকাবাসীকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিতে হবে। আজকে (মঙ্গলবার) ডেমরাবাসী ধানের শীষের সমর্থনে ইশরাক হোসেনের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করেছেন। এই পথসভার মাধ্যমে আজকে প্রমাণিত হয়েছে, পুরো ঢাকা শহরে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।’

জনসংযোগ শুরুর আগে ইশরাক বলেন, ‘আমার বাবা মাত্র ১৯ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। অস্ত্র হাতে গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। তৎকালীন সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপারেশন চালিয়েছেন। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দেশের স্বাধীনতা অর্জনকে ত্বরান্বিত করেছেন। আমি সেই মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আমার কোনো রাষ্ট্রীয় শক্তি নাই, পুলিশি শক্তি নাই। আমার শক্তি হচ্ছে জনগণ। আমি আপনাদেরকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাব। প্রয়োজনে জীবন দেব, মরতে হয় মরব, রক্ত ঝরাতে হলে ঝরাব।’

নির্বাচনী জনসংযোগে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিএনপির নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। দীর্ঘদিন এলাকার বাইরে থাকলেও এখন রাস্তায় নামতে শুরু করেছেন তাঁরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডেমরার এক বিএনপি নেতা বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ডজনের ওপর মামলা আছে। এলাকায় ঢুকলেই পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে। তাই কম থাকি। ইশরাক ভাই যেভাবে মাঠে নেমেছে, এখন জেলের ভয় করি না। নেতারা যদি জীবনের তোয়াক্কা না করেন, আমরা তো সামান্য কর্মী।’ গণসংযোগকালে কয়েকটি স্থানে বিভিন্ন বয়সী নারী ভোটাররা রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে ধানের শীষের ইশরাক হোসেনকে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে স্বাগত জানান। হোসেন প্লাজা মার্কেট থেকে বাওয়ানী জুট মিল, ডেমরা থানা, ডেমরা বাজার, মালা মার্কেট ও মীরপাড়া হয়ে আবার হোসেন মার্কেটে এসে জোহরের নামাজের বিরতি নেন ইশরাক।

নামাজ শেষে ইশরাক হাজিনগর, সারুলিয়া বাজার, মা মেমোরিয়াল স্কুল রোড, আমতলা, বক্সনগর, রানিমহল ও অক্সফোর্ড স্কুল হয়ে অরবিতা কমিউনিটি সেন্টারে দুপুরের খাবারের বিরতি দিয়ে এরপর দক্ষিণের ৬৬ নম্বর ওয়ার্ড, ডগাইর বাজার, বাঁশেরপুল হয়ে ৬৪ নম্বর ওয়ার্ডের ডেমরা মেইন রোডে এসে গণসংযোগ শেষ করেন। বেশ কয়েকটি স্থানে তাঁকে ফুলের মালা পরিয়ে দেন ধানের শীষের সমর্থক নারীরা। হোসেন প্লাজাসংলগ্ন প্রতিটি রাস্তা, সড়ক-মহাসড়ক ও অলিগলি থেকে নারী-পুরুষের মিছিল এসে জনসংযোগে যোগদান করতে দেখা যায়। অনেকের হাতে ইশরাকের ছবি ও ধানের শীষের প্রতীকসংবলিত প্ল্যাকার্ড শোভা পাচ্ছিল। জনসংযোগে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা