kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

সূত্রাপুর, ধোলাইখাল ও ইসলামপুরে গণসংযোগে তাপস

ভিড় ঠেলে ভোটারের দ্বারে উন্নয়নের বার্তা

তাপসের পরিবারের সদস্যরাও নেমেছেন নির্বাচনী গণসংযোগে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ভিড় ঠেলে ভোটারের দ্বারে উন্নয়নের বার্তা

মাইকে বাজছে নির্বাচনী গান। হাততালি আর স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত ধোলাইখাল মোড়। হ্যান্ড মাইকে চলছে স্লোগান। চারপাশে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের চার শতাধিক নেতাকর্মী। ‘তাপস ভাইয়ের মার্কা, উন্নয়নের মার্কা’, ‘নৌকায় দিলে ভোট, ঢাকাবাসীর হবে উন্নয়ন’। যানজটময় রাস্তা ও ফুটপাতের জঞ্জাল মাড়িয়ে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি পৌঁছে দিতে দিনভর ভোটারের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর পুরান ঢাকার সূত্রাপুর, কোতোয়ালি, গেণ্ডারিয়া ও ইসলামপুর এলাকায় গণসংযোগ করেছেনশেখ ফজলে নূর তাপস। রাজধানীবাসীর উন্নয়নে নানা পরিকল্পনা তুলে ধরে জনগণের কাছে ভোট চেয়েছেন তিনি।

একই সঙ্গে তাপসের নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরাও। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকার ৬৪, ৬৫, ৬৬ ও ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেছেন তাপসের খালাতো ভাই ব্যারিস্টার আলী আসিফ। অফিসার্স ক্লাব, বেইলী রোড, শান্তিনগর, বিজয়নগর ও সেগুনবাগিচা এলাকায় গণসংযোগ করেছেন তাপসের স্ত্রী আফরিন তাপস। এ ছাড়া তাঁর ছোট মামি লুনা আব্দুল্লাহও গণসংযোগ করেছেন। গত সোমবার বংশাল এলাকায় আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ পরশও গণসংযোগ করেছেন বলে জানিয়েছেন ব্যারিস্টার আলী আসিফ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শেখ ফজলে নূর তাপসের গণসংযোগের জন্য পুরান ঢাকার ইসলামপুর বাজারের সামনের রাস্তা আটকিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনমুখী রাস্তার ওপর বসানো হয়েছে চেয়ার ও স্টেজ। বিকেল ৪টার পর স্থানীয় নেতাকর্মী ও ইসলামপুরের ব্যবসায়ীদের নিয়ে পথসভা শুরু হলেও দুপুর ১টা থেকে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সরু গলিতে চলাচলের বাহন রিকশাও আটকে দেওয়া হয়। কারণ জানতে চাইলে স্থানীয় কয়েকজন জানান, শেখ ফজলে নূর তাপসের সভার কারণে পথ বন্ধ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ১২টার দিকে রায়সাহেব বাজার থেকে গণসংযোগ শুরু করেন শেখ ফজলে নূর তাপস। সংক্ষিপ্ত পথসভা শেষে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ধোলাইখাল এলাকায় পৌঁছেন তিনি। প্রায় এক কিলোমিটার পথ ভিড় ঠেলে ভোটারের কাছে পৌঁছেন তিনি।

সরেজমিনে হাজি মনসুর আলী মার্কেটের সামনে দেখা যায়, তাপসের চারপাশ ঘিরে রেখেছেন কয়েক শ নেতাকর্মী। ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও মহিলা লীগের নেতাকর্মীরা তাপসকে ঘিরে রেখে গণসংযোগ করছেন। যানজটপূর্ণ রাস্তা দিয়েও হেঁটে চলেছেন কয়েক শ নেতাকর্মী। তাঁরা পথচারী, গাড়ি ও রিকশার যাত্রী ও চালকদের হাতে তাপসের লিফলেট তুলে দেন।

সামনে পেছনে থাকা নেতাকর্মীদের ভিড় ঠেলে তিনি ছুটে চলেন ভোটারের কাছে। লিফলেট হাতে ধরিয়ে দিয়ে নৌকা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করছেন। স্থানীয় দোকানদার ও ভোটাররা লিফলেট হাতে পেয়ে মাথা নাড়িয়ে সায় দিচ্ছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পর সামনে এগিয়ে চলেন তাপস। ভোটারের কাছে যেতে কখনো কখনো নেতাকর্মীদের সরে যাওয়ার নির্দেশও দেন তিনি। নেতাকর্মীরা একবার সরে গেলেও আবারও তাঁকে ঘিরে ধরেন।

গণসংযোগ শুরুর সময় সংক্ষিপ্ত পথসভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তাপস বলেন, ‘আমি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলছি, অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে গণসংযোগের সুযোগ করে দেবেন। আমরা ঢাকাবাসী ও ঢাকার উন্নয়নের বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। জনগণকে উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়ে জানিয়ে দিতে সুযোগ দিন। গণসংযোগের সুযোগ দিন।’

তিনি বলেন, ‘গণসংযোগে রাজধানীবাসীর কাছে ভোট চাইতে গিয়ে বিপুল সমর্থন পাচ্ছি। জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে। তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে। নৌকার পক্ষে রায় দিতে তারা মুখিয়ে আছে। জনগণের ভোটে নৌকার বিজয়ের মাধ্যমে নতুন যাত্রা হবে। প্রাণের ঢাকাকে উন্নত করার লক্ষ্যে নবসূচনা হবে। আমি বিশ্বাস করি, দল-মত-নির্বিশেষে উন্নত ঢাকার পক্ষে রায় দেবে জনগণ।’

এক প্রশ্নের জবাবে তাপস বলেন, ‘দুই সিটিতে নির্বাচন হচ্ছে, এটা স্থানীয় সরকার নির্বাচন। যিনি দক্ষ তাঁকেই জনগণ নির্বাচিত করবে। আমরা ঢাকাবাসীর উন্নয়নের জন্য নির্বাচনে নেমেছি। আমাদের কাছে এই নির্বাচন ঢাকাবাসীর জন্য নির্বাচন। ঢাকাবাসীর উন্নয়নের জন্য নির্বাচন। কিন্তু বিএনপি এটাকে তাদের নেত্রীর মুক্তির আন্দোলন হিসেবে নিয়েছে। জনগণের উন্নয়নের জন্য নির্বাচনে আসেনি তারা।’

ইভিএম নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ইভিএম নতুন প্রযুক্তি। এটাকে ঢাকাবাসী সাদরে গ্রহণ করেছে। আমি এখন পর্যন্ত কারো কাছে ইভিএম নিয়ে অভিযোগ শুনিনি। আশা করি, জনগণ ভোট দিয়ে নৌকাকে জয়যুক্ত করবে।’

তাপসের স্ত্রী আফরিন তাপস বলেন, ‘ভোটারের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চেয়েছি। জনগণ স্বাগত জানিয়েছে। বিপুল সাড়া পাচ্ছি আমরা। তাপসের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা এত বেশি, দেখে আবেগাপ্লুত হয়েছি। জনগণ উন্নয়নের পক্ষে রায় দেবে বলে আমি প্রত্যাশা করছি।’

তাপসের খালাতো ভাই ব্যারিস্টার আলী আসিফ ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় গণসংযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘নৌকা প্রতীকে জনগণের ব্যাপক সাড়া দেখতে পাচ্ছি। স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিচ্ছে। গণসংযোগে অংশ নিচ্ছে। আশা করছি, ভোটের দিন জনগণের সমর্থনের প্রতিফলন দেখতে পাব। নৌকার বিজয় হবেই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা