kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

সরেজমিন ডিএসসিসির ৬২ নম্বর ওয়ার্ড

জমেছে প্রচার, হতাশ ভোটাররা

ওমর ফারুক   

১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৬২ নম্বর ওয়ার্ডটি একসময় দনিয়া ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল। বছর দুয়েক আগে সেটি সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সিটি করপোরেশনে যাওয়ার পর গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তখন এলাকাবাসী আশা প্রকাশ করেছিল, এবার এলাকার সমস্যাগুলোর সমাধান হবে। কিন্তু বেশির ভাগ সমস্যারই সমাধান হয়নি। ফলে আগামী সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মাঝে একটাই প্রশ্ন, নির্বাচন হলেই কি তাদের সমস্যা মিটবে?

গতকাল ৬২ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কাজলা, উত্তর কুতুবখালী, নয়ানগর, ছনটেক, শেখদী, গোবিন্দপুর ও উত্তর রায়েরবাগ এলাকা ঘুরে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে। ভোটাররা জানিয়েছে, নির্বাচন সামনে রেখে সব প্রার্থী মাঠে নেমেছেন। তবে বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর প্রচার বেশি। সকালে প্রার্থীদের প্রচার কম হলেও বিকেলে ব্যাপক প্রচার দেখা যায়।

এবার ৬২ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আবদুল সালাম (ঠেলাগাড়ি), নুর মোহাম্মদ শাহ মুন্না (টিফিন ক্যারিয়ার), মোহাম্মদ মোস্তাক আহমেদ (ট্রাক্টর), মো. সালাউদ্দিন (ব্যাডমিন্টন র‌্যাকেট) ও মো. সৈয়দ আহমেদ (ঘুড়ি)। তাঁদের মধ্যে মোহাম্মদ মোস্তাক আহমেদ আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী। তিনি এই ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলরও। আর বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী সৈয়দ আহমেদ।

এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সায়েদাবাদের দিক থেকে ডেমরা রোডের দিকে যাওয়া ফ্লাইওভারটি যেখানে নেমেছে এর কিছুটা দূর থেকেই রাস্তা ভাঙাচোরা। ধুলাবালুতে একাকার। সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় প্রচণ্ড কষ্ট করতে দেখা যায় সাধারণ মানুষকে। এলাকাবাসী আবুল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই রাস্তা মেরামতের জন্য আমরা এলাকার কাউন্সিলর থেকে শুরু করে ওপরে কথা বলেছি, কিন্তু কাজ হচ্ছে না। আবার নির্বাচন এসেছে, মেয়র-কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা তুমুল প্রচার চালাচ্ছেন। তাঁরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন আমাদের এলাকার জলাবদ্ধতা, ভাঙা রাস্তা ঠিক করবেন। কিন্তু আমাদের কাছে মনে হয়, এগুলো নির্বাচনে পাস করার কৌশল ছাড়া কিছু নয়। এ কারণে নির্বাচন নিয়ে প্রার্থীদের যেমন আগ্রহ আছে তেমন আগ্রহ ভোটারদের নেই।’

রায়েরবাগের রফিকুল ইসলাম জানান, ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর প্রচারই বেশি। বিএনপির প্রার্থীকে খুব বেশি পাওয়া যাচ্ছে না। আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী ফজলে নূর তাপসের পক্ষেও বেশি প্রচার চলছে। বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেনের প্রচার তুলনামূলক কম। তবে এই এলাকায় ইশরাকের পোস্টার বেশি। তাপসের পোস্টার তুলনামূলক কম।

সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ৬২ নম্বর ওয়ার্ডে ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ ভোটাররা আলাপ-আলোচনা করছে নির্বাচনে কাকে ভোট দেবে। প্রার্থীদের কর্মীরা ভোটারদের কাছে লিফলেট বিতরণ করে ভোট চাইছেন। লিফলেটে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়া এবং ওয়ার্ডকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে।  

এলাকার সমস্যা নিয়ে কথা বলতে গেলে বিভিন্ন এলাকার ১০-১৫ জন ভোটারই জানান জলাবদ্ধতার কথা। বৃষ্টি হলেই এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে যায় বলে তাঁদের অভিযোগ। তবে কিছুদিন আগে উত্তর কুতুবখালীর কয়েকটি রাস্তা অন্তত দুই ফুট উঁচু করে নির্মাণ করা হয়েছে। শীতকাল বলে এখন শুকনা দেখা গেলেও বর্ষাকালে কেমন চিত্র দেখা যায় তা নিয়ে চিন্তিত এলাকাবাসী। নয়ানগরের বাসিন্দা কবির আহমেদ বলেন, তাঁদের এলাকায় সবচেয়ে বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় পানি সরতে পারে না। আরেক বাসিন্দা জানান, মাদকও এলাকার একটি বড় সমস্যা। এলাকার উঠতি বসয়ী যুবকরাই এর সঙ্গে জড়িত। আরেকটি সমস্যা হলো বখাটেপনা। মেয়েরা রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় সরু গলিতে যৌন হয়রানির শিকার হয়। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে সমস্যায় পড়তে হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা