kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

আ. লীগের দুই ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর প্রচারে হামলা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের দুই ‘বিদ্রোহী’ কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর প্রচারে হামলা চালানো হয়েছে। দলের সমর্থন পাওয়া প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেনের লোকজন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলাকারীরা প্রচারপত্র কেড়ে নিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে বলেও দুই প্রার্থীর কর্মীরা অভিযোগ করেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার কামরাঙ্গীর চর এলাকার ওয়াজউদ্দিন স্কুল ও বিদ্যুৎ অফিসের গলিতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর দুই ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মাহমুদা ফেরদৌসী ও সাইদুর রহমান রতন থানায় প্রতিকার চাইতে গেলে থানার ফটকের সামনে আবার হামলার শিকার হন তাঁদের কর্মী-সমর্থকরা। হামলায় তাঁদের সাত কর্মী আহত হয়েছেন। তাঁদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, জমি দখল, সন্ত্রাস, মাদক কারবারিদের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে বিতর্কিত কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন এবারও আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন। দলের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে কামরাঙ্গীর চর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান রতন ও  বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাহমুদা ফেরদৌসীও প্রার্থী হয়েছেন।

মাহমুদা ফেরদৌসী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সকাল ১১টার দিকে ওয়াজউদ্দিন স্কুলের সামনে তিনি কর্মী-সমর্থক নিয়ে তাঁর কুমড়া প্রতীকের পক্ষে প্রচার চালাতে যান। হঠাৎ করেই কাউন্সিলর হোসেনের ক্যাডার জয়নাল মিয়ার ছেলে আব্দুল হামিদ, এম রহমান খান, মোশারফসহ বেশ কয়েকজন রড, লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। হামলায় তাঁর কর্মী অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলাম, পারভেজ হোসেন, সোহেল ও সখিনা বেগম আহত হয়েছেন।’

মাহমুদা ফেরদৌসী বলেন, ‘অপকর্মের কারণে কাউন্সিলর হোসেনের জনপ্রিয়তা শূন্যের কোটায়। সাধারণ মানুষ আমার পক্ষে মাঠে নেমেছে, এটা দেখেই হোসেনের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। তাই আবার বিজয়ী হতে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাদের ওপর হামলা করছে।’

অন্যদিকে সাইদুর রহমান রতনের কর্মী-সমর্থকরা বিদ্যুৎ অফিসের গলিতে তাঁর ঠেলাগাড়ি প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে যায়। সেখানেও কাউন্সিলর হোসেনের লোকজন হামলা করে এবং রতনের কর্মীদের পিটিয়ে আহত করে।

হামলার ঘটনার পর সাইদুর রহমান রতন ও মাহমুদা ফেরদৌসী কামরাঙ্গীর চর থানায় যান পুলিশকে জানাতে। কিন্তু থানার ফটকের সামনেই হোসেনের লোকজন আবার হামলা চালায়। পরে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে থানায় অবস্থান করেন এই দুই প্রার্থী।

রতনের সমর্থক মো. সবুজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সুমন কমিউনিটি সেন্টারের সুমনসহ ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল লাঠি এবং রড নিয়ে হামলা করে বিথী আক্তার, মিতু বেগম, আবু সাঈদসহ বেশ কয়েকজনকে পিটিয়ে আহত করেছে।

সাইদুর রহমান রতন বলেন, ‘কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোহাম্মদ হোসেন ও তাঁর ক্যাডার বাহিনী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা সন্ত্রাসী দিয়ে মাঠ দখল করে রাখতে চাচ্ছে, প্রচারে নামলেই তাঁর ক্যাডাররা হামলে পড়ছে।’

কামরাঙ্গীর চর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তফা আনোয়ার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুজন কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর সমর্থকদের ওপর আরেকজন কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর লোকজন হামলা করেছে। ওই ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে জানতে আহতদের কয়েকজনকে থানায় ডেকে কথা বলেছেন তাঁরা। তবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মামলা হয়নি এবং হামলায় জড়িত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি বলে তিনি জানান।

কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা