kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

ভোটারদের মন জয়ে নানা কৌশল প্রচারে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



ভোটারদের মন জয়ে নানা কৌশল প্রচারে

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে প্রচারণা জমে উঠেছে। গতকাল খিলগাঁও-তালতলা মার্কেট এলাকায় প্রচারণা চালান ঢাকা উত্তরের আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম (বাঁয়ে); তেজকুনিপাড়ায় প্রচারণা চালান বিএনপি মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে গতকাল সোমবার ২০ থেকে ২৫ জন তরুণ-তরুণী গোলাপ ফুলের ঝাঁপি আর লিফলেট নিয়ে নির্বাচনী প্রচারে নেমেছিলেন। তাঁরা বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছিলেন ফুলসহ লিফলেট। এ রকম নানা ধরনের প্রচার ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রতিটি এলাকায়। প্রচারের নানা মাধ্যম নিয়ে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে মাঠে নেমেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। প্রচারে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টাও হচ্ছে। মেয়রের পাশাপাশি প্রচারে নানা কৌশল নেওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীরাও। ভোটকেন্দ্রগুলোর প্রবেশপথ ও আশপাশের সড়কের ওপরে পোস্টারের মালা জানান দিচ্ছে আসন্ন নির্বাচনের কথা। তবে মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের পোস্টারই বেশি চোখে পড়ছে। মসজিদগুলোর প্রবেশপথেও লিফলেট হাতে প্রার্থীদের সমর্থকরা ভিড় করছে। মাইকে গানে গানেও চলছে প্রচার।

গত রবিবার রাত পৌনে ১২টায় দুই ব্যক্তি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী খোন্দকার মো. এমরানের ঘুড়ি মার্কার পোস্টার টানাচ্ছিলেন মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডে। তাঁদের কাছে প্রার্থীর পরিচয় জানতে চাইলে একজন বললেন, ‘আমিই এমরান। আওয়ামী লীগের সমর্থক। তবে দলের সমর্থন না নিয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি।’ একই এলাকায় অন্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের পোস্টার টানানোর জন্য রয়েছে ডজনেরও বেশি কর্মী। প্রার্থী নিজে পোস্টার টানাতে আসবেন, তা অনেকের কাছে কল্পনারও বাইরে।

নিজেদের মেয়র প্রার্থীদের জন্য গতকাল নির্বাচনের ‘থিম সং’ প্রকাশ করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘জয় বাংলা, জিতবে এবার নৌকা’ শিরোনামের গানটিকে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য একটু পরিবর্তন করে প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ থিম সং প্রকাশ করা হয়।

বড় দুটি দলের মেয়র প্রার্থীরা প্রচার চালাচ্ছেন নেতাকর্মী পরিবেষ্টিত অবস্থায়। প্রচারকর্মীদের হাতে ‘হ্যান্ড মাইক’ ও লিফলেট। ফেসবুকেও প্রচার চলছে। তাঁদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের অনুসারীর সংখ্যা অসংখ্য। অ্যাকাউন্টে প্রতিদিনই প্রচার অভিযানের ভিডিও পোস্ট দেওয়া হচ্ছে।

গতকাল উত্তর সিটির ক্ষমতাসীন দলের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলামের ফেসবুক পেজে লেখা হয়, “বাংলার মানুষের প্রাণের স্পন্দন ‘জয় বাংলা’। এই স্লোগানেই অনুপ্রাণিত হয়ে বাঙালি ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীন বাংলাদেশ। এই স্লোগানকে ধারণ করেই মেয়র পদপ্রার্থী মো. আতিকুল ইসলাম দীর্ঘ নয় মাস ধরে ঢাকা মহানগরীকে সুস্থ, সচল ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে গেছেন। আবারও নৌকা মার্কায় আপনার সমর্থন দিয়ে ঢাকার আধুনিকায়নের অসমাপ্ত কাজগুলোকে সমাপ্ত করার সুযোগ করে দিন। ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে একসাথে জেগে উঠুন, নৌকা মার্কায় আপনার সমর্থন দিন।”

এ সিটিতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের ফেসবুকে ঢাকা নগরীকে ভালোবাসার কথা জানানো হয়েছে। তিনি লিখেছেন, ‘চলছো, ছুটছো, উড়ছো তুমি নব উদ্যোগে জাগা/ বিশ্বের বুকে বিস্ময় তুমি অদম্য ঢাকা।’ ‘মেয়র তাবিথ আউয়াল’ নামেও এ প্রার্থীর আরেকটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এতে ২০১৫ সালের নির্বাচনের প্রচার দৃশ্যমান।

ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ক্ষমতাসীন দলের মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের ফেসবুকে ‘ঐতিহ্যের সাথে সমৃদ্ধির পথে আমাদের ঢাকা’, ‘আমাদের ঢাকা আমাদের ঐতিহ্য’—এসব স্লোগানসহ পোস্টারের ছবি রয়েছে। 

এ সিটির বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনের ফেসবুকে রয়েছে তাঁর সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রচারের ভিডিও ক্লিপ। এগুলো শেয়ারও হচ্ছে অনেক। ‘এগিয়ে যাও, মাঠ ছাড়া যাবে না’ এমন মন্তব্যও অনেকের।

গতকাল দুপরে সরেজমিনে উত্তর সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের লিংক রোড গোদারাঘাট সংলগ্ন বাড্ডা হাই স্কুল মাঠে দেখা যায়, এক দল লোক ব্যস্ত পোস্টার টানানোর কাজে। পাশাপাশি গলি দিয়ে চলাচলকারী পথচারীদের হাতে লিফলেট ধরিয়ে দিয়ে চাওয়া হচ্ছে ভোট। পাশে দাঁড়িয়ে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন কয়েকজন। এ ওয়ার্ডে গতকাল বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী এ জি এম শামসুল হককে মসজিদে নামাজ শেষে দলবল নিয়ে রাস্তায় ও ফুটপাতে ভোটারদের কাছে ভোট চাইতে দেখা গেছে। ওয়ার্ডের সব ভোটারের কাছে পৌঁছতে তিনি কাজ শুরু করেছেন বলে কালের কণ্ঠকে জানান। অন্যদিকে রিকশা ভাড়া করে গান বাজিয়ে ভোট চাওয়া হচ্ছে এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ও কাউন্সিলর মাসুম গনির জন্য। গলির মোড়ে মোড়ে ভোট চেয়ে পোস্টার টানানো হয়েছে জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম সেলিমের পক্ষে।

‘সুখে-দুঃখে যাকে পাই সে আমাদের মাসুদ ভাই। আমরা ভুল করব না, আমরা ভুল করব না। আমরা ভুল করে অন্য কাউকে ভোট দেব না।’ গতকাল সকালে এই গান গেয়ে প্রচার চালাতে দেখা যায় রাজধানীর শ্যামপুর এলাকার ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী হাজি মো. মাসুদের পক্ষে। ভোটাররা জানান, ওয়ার্ডটির বর্তমান কমিশনার হাজি মাসুদ প্রচার চালাতে গিয়ে বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এর মধ্যে আছে গ্যাস সমস্যার স্থায়ী সমাধান, বিদ্যুতের লোডশেডিং ও ময়লা পানির কষ্ট থেকে ওয়ার্ডবাসীকে মুক্ত করা।

খিলগাঁওয়ের তালতলা মার্কেট এলাকায় দেখা যায় মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম নিজেই লিফলেট বিতরণ করছেন। তাঁর সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিচ্ছেন হ্যান্ড মাইকে। আতিকুল ইসলামের রাজনৈতিক সহকারী সাইফুদ্দিন ইমন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সচরাচর যেসব প্রচারমাধ্যম রয়েছে, তা ব্যবহার করা হচ্ছে। এর বাইরে ডিজিটাল প্রচারেও মনোযোগ রয়েছে আমাদের।’ খিলগাঁওয়ের রিয়াজবাগ এলাকার বাসিন্দা জাহিদ হোসেন রাসেল বলেন, ‘নির্বাচনের আমেজ পুরোদমে শুরু হয়েছে এলাকায়। সকাল থেকে মিছিল ও শোডাউন দেখা যায় প্রার্থীদের।’ 

গতকাল দুপুরে যাত্রাবাড়ী থানাধীন নবীনগর এলাকায় গিয়ে দেখা যায় ৫০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ওয়াহিদুজ্জামান (অলি সরদার) প্রচারে বের হয়েছেন। তাঁর কর্মীদের একজন হ্যান্ড মাইকে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন। আর অন্য কর্মীরা ভোটারদের কাছে লিফলেট বিতরণ করছেন।

সিপিবির প্রার্থী ডা. আহাম্মদ সাজেদুল হক রুবেলের নির্বাচনী প্রচারের মূল লক্ষ্য শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের ভোটার। এ দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ১০ জানুয়ারি মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানোর পর সেখানে পথসভার মাধ্যমে ডা. রুবেলের ‘কাস্তে’ মার্কার পক্ষে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রচার চালাচ্ছেন দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা