kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

তাবিথ-ইশরাকের বাসযোগ্য নগর গড়ার প্রতিশ্রুতি

শফিক সাফি   

১৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দূষণ, জলাবদ্ধতা, যানজট, অনিরাপদ পানি সরবরাহ—রাজধানী ঢাকায় এসব সমস্যা দীর্ঘদিনের। এর বাইরেও রয়েছে নাগরিক নানা সুবিধার অভাব। এসব সমস্যা দূর করে নাগরিক সুবিধা সহজলভ্য করার কথা বলছেন ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত দুই মেয়র প্রার্থী। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) ধানের শীষের দুই মেয়র প্রার্থী যথাক্রমে তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেনের নির্বাচনী ইশতেহারেও বিষয়গুলো প্রাধান্য পাচ্ছে। সমস্যাগুলোর সমাধান করে সবার বাসযোগ্য নগরী গড়ার প্রতিশ্রুতি তাঁদের।

বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থী গত ১০ জানুয়ারি থেকে লাগাতার প্রচারে নেমেছেন। তাঁরা বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ও সম্ভাবনা কাজে লাগানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন ভোটারদের। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্বে থাকা নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, প্রচারের পাশাপাশি দুই মেয়র প্রার্থীই তাঁদের নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির কাজ করছেন। এতে ভোটারদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সবার বাসযোগ্য নগরী গড়ার অঙ্গীকার থাকছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ধানের শীষের দুই মেয়র প্রার্থীই উচ্চশিক্ষিত ও যোগ্য। নিরপেক্ষ ভোট হলে তাঁরা বিপুল ভোটে জয়ী হবেন। আর সরকার প্রতিবন্ধকতা তৈরি না করলে তাঁরা তাঁদের প্রতিশ্রুতি ছাড়িয়ে অধিক কাজ করার সক্ষমতা রাখেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আধুনিক ও টেকসই নগরী গড়তে ১২টি নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত করেছেন ডিএনসিসির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে এই বিষয়গুলো প্রাধান্য পাচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় থাকা তাবিথ আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে দেখছেন বাংলাদেশকে ‘গণতন্ত্রের কক্ষপথে’ ফেরানোর লড়াই হিসেবে। এ লড়াইয়ে জয়ী হতে পারলে ঢাকার নাগরিক সমস্যার সমাধানে কাজ করা সহজ হবে বলে মনে করছেন তিনি। তরুণদের প্ল্যাটফর্ম ‘অদম্য ঢাকা’র মাধ্যমেই তাবিথ ঢাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে তাদের সমস্যাগুলো সম্পর্কে জেনেছেন। মেয়র নির্বাচিত হলেও রাজধানীর উন্নয়নে এই প্ল্যাটফর্ম নিয়ে এগোনোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

তাবিথ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্জ্য অব্যবস্থাপনা, বায়ুদূষণ, পানিদূষণ, শব্দদূষণ, অধিক বাড়িভাড়া, যানজট, ফুটপাত দখল, মশার উৎপাত এবং তা থেকে প্রাণঘাতী রোগের বিস্তার—এমন ১২টি নাগরিক সমস্যা এরই মধ্যে আমরা চিহ্নিত করেছি। এই ১২টি জায়গায় আমরা সমন্বয় ও গুরুত্বের ভিত্তিতে একযোগে কাজ করতে চাই। একই সঙ্গে নজর থাকবে দুর্নীতি দমনে। কেননা একজন সুইপার থেকে মেয়রের দপ্তর পর্যন্ত দুর্নীতি ছড়িয়ে আছে।’

ঢাকা দক্ষিণে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন ‘নগর সরকারের আদলে’ একটি বাসযোগ্য ও দূষণমুক্ত নগরী উপহার দিতে চান। তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারেও দূষণ, জলাবদ্ধতা, অনিরাপদ পানি সরবরাহ, যানজটসহ নানা নাগরিক সমস্যা সমাধানের বিষয় প্রাধান্য পাচ্ছে।

ইশরাক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নির্বাচিত হলে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই মশা নিধনে ব্যাপকভিত্তিক কাজ শুরু করব। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা, যানজট ও মাদক সমস্যাকে প্রাধান্য দিয়ে ১০০ দিনের পরিকল্পনা ঘোষণা করব। পরে নগর পরিকল্পনাবিদদের নিয়ে ঢাকার সংকট নিরসনে বুদ্ধিজীবী, বিশেষজ্ঞ আর অভিজ্ঞদের মতামতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেব। ভোটারদের দেওয়া এসব প্রতিশ্রুতি আমার নির্বাচনী ইশতেহারেও থাকছে।’

তাবিথ আউয়ালের ইশতেহার তৈরির সঙ্গে যুক্ত বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইশতেহার তৈরির কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে ১২টি বিষয় চিহ্নিত করা হয়েছে। এর সঙ্গে আরো কয়েকটি প্রধান নাগরিক সমস্যা যুক্ত হবে। এটি চূড়ান্ত হওয়ার পর তা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নগরবাসীর কাছে তুলে ধরা হবে। আগামী ২০ জানুয়ারির পরপরই এই সংবাদ সম্মেলন হতে পারে।’

ইশরাকের ইশতেহার তৈরির সঙ্গে যুক্ত বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে একটি টিম কাজ করছে। ইশরাক তাঁর প্রচারণায় যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিচ্ছেন, সেগুলো ইশতেহারে প্রাধান্য পাবে। সেই সঙ্গে বাস্তবায়নযোগ্য বিবেচনায় আরো কিছু বিষয় এতে যোগ হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা