kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

মে হে দি

চাঁদরাতে ঈদের মেহেদি

চাঁদরাতে মেহেদিতে হাত রাঙিয়ে ঈদ আনন্দের সূচনা করা হয়। হাত মেহেদিতে রাঙিয়ে ঈদের আনন্দ পূর্ণতা পায়। এই রীতি চলছে একাল-সেকাল—সব কালেই। ঈদের মেহেদি নিয়ে লিখেছেন ফারাহ বিলকিস

২৭ এপ্রিল, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



চাঁদরাতে ঈদের মেহেদি

হাতের তালুতে একটি বড় বৃত্ত আর আঙুলের অগ্রভাগ ঢেকে মেহেদি দেওয়া হতো। এটাই ছিল মেহেদি রাঙানোর পদ্ধতি। তখন আনন্দ ছিল মেহেদিতে কার হাত কতটা লাল হয়েছে, এটা নিয়ে। আর এখন কার হাতের নকশা কতটা নিখুঁত ও শৈল্পিক, এটাই দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ঈদের আগের দিন ঘরে বা বিউটি পার্লারগুলোতে মেহেদি দেওয়ার ভিড় লেগে যায়। দু-তিন দশক আগেও মেহেদির নকশা নিয়ে এতটা নিরীক্ষা করতে দেখা যেত না। রাজধানীর বিভিন্ন বিউটি পার্লারে রয়েছে মেহেদি দেওয়ার জন্য বিশেষায়িত বিউটিশিয়ান। মেহেদি বাটার ঝামেলাটা মিটিয়ে দিয়েছে বাজারে কিনতে পাওয়া টিউব মেহেদিগুলো। এই টিউব মেহেদিতেও কত বৈচিত্র্য! লাল মেহেদি, কালো মেহেদি, তার সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বাজারে পাওয়া হরেক রঙের রঙিন গ্লিটার।

একেকজনের একেক ধরনের ডিজাইনে আগ্রহ। বিশ্বের নানা দেশে মেহেদি ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু এর কারণ বা উদ্দেশ্য স্থানভেদে ভিন্ন। শুরুতে মেহেদির প্রচলন ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে শুরু হলেও পরে এ প্রথাটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় পেয়েছে। তবে এখন মানুষ এটাকে সর্বজনীনভাবে গ্রহণ করেছে। একেক দেশে একেক কারণ ও উদ্দেশ্যে মেহেদি ব্যবহৃত হয়। ইতিহাস থেকে জানা যায়, মিসরের ফারাও সাম্রাজ্যে মমির হাত ও পায়ের নখে মেহেদির মতো রং দেখা যায়। তবে তা মেহেদি দিয়ে রাঙানো কি না, সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বর্তমানে বিভিন্ন ধর্মের বিয়ের উৎসবে মেহেদিসন্ধ্যা নামে আলাদা একটি দিনের আয়োজন করা হয়, যেখানে বর-কনে থেকে শুরু করে পুরো পরিবারের সদস্যরা হাতে মেহেদি দিয়ে আনন্দ করে। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে চাঁদরাতে মেহেদি দেওয়ার রীতি আছে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এবং আফ্রিকায় যেসব দেশের ভাষা আরবি, সেসব দেশেও ব্যবহৃত হয় মেহেদি।

শুধু ঈদ নয়, টিউব মেহেদির সহজলভ্যতার কারণে বছরজুড়ে সব ধরনের উৎসবেই মেহেদিতে দুই হাত রাঙাতে দেখা যায়। বিভিন্ন কম্পানি তাদের প্রস্তুতকৃত মেহেদির বিপণনের জন্য ঈদের আগে মেহেদি উৎসবও করে থাকে। তবে চাঁদরাতে মেহেদি দেওয়ার আনন্দ অন্য যেকোনো উৎসব থেকে একেবারেই আলাদা। মেহেদি দিয়ে সুন্দর-সূক্ষ্ম ডিজাইন করতে হয়। অনেকে আছে ইউটিউবের টিউটরিয়াল দেখে মেহেদির নকশা করে। অনেকে শখের বশেও মেহেদি দিয়ে দিতেন বন্ধুবান্ধবের হাতে। ধীরে ধীরে সেটা তাঁর পেশা হয়ে গেছে। শখের বশে কাজ করতেন এমন অনেক নারীই আছেন, যাঁরা মেহেদি আর্টিস্ট হিসেবে নিজেদের পরিচিত করে তুলেছেন। তাঁরা যেকোনো নকশাই হুবহু করে দিতে পারেন। দিন দিন মেহেদি দেওয়ার ব্যাপকতা যেমন বেড়েছে, তেমনি নকশায়ও এসেছে পরিবর্তন। হাত ছাড়াও পায়ে অনেকে ডিজাইন করে। অনেকে মেহেদি দিয়ে ট্যাটুও করে। কারো পছন্দ এক লাইনের ডিজাইন, আবার অনেকে হাত ভরে মেহেদি দেয়।

 

নকশায় বৈচিত্র্য

মেহেদি দেওয়ার নকশায় সব সময়ই বৈচিত্র্য খুঁজে পাওয়া যায়। কখনো হাত রাঙাতে ফুল, লতাপাতার কত রকম আলপনা শোভা পায় হাতের তালুতে! কখনো বা ভাগ হয়ে আধাআধি তালুর নিচে। আঙুলের ডগায় লতানো পাতার মাথায় ছোট তারা, ফুল আর বুটি তো আছেই। হাতের তালু ছাড়িয়ে মেহেদিটা কখনো বা চলে যায় একেবারে কনুই পর্যন্ত। কখনো বা থেমে যায় মাঝপথে। কখনো বা হাতের তালু ছাপিয়ে তালুর বিপরীতে হাতের ওপরে। কালো মেহেদির ভেতর লাল মেহেদি দিয়ে তার ওপর পোশাকের সঙ্গে রং মিলিয়ে গ্লিটার মেহেদির বুটিও করে অনেকে। এমনকি এসব মেহেদি দিয়ে পায়েও আলপনা করছে অনেকে। সিঙ্গল নকশা থেকে এখন ভরাট নকশার দিকেই সবার আগ্রহ, বিশেষ করে গুজরাটি নকশাই বেশি চলছে।

রাসায়নিক মেহেদির চেয়ে প্রাকৃতিক মেহেদিই হাত রাঙানোর জন্য ভালো। বাজারে দুই ধরনের মেহেদিই কিনতে পাওয়া যাবে। চাইলে নিজেই মেহেদি টিউব তৈরি করে নিতে পারেন। বাটা মেহেদি হাতে দিলে খুব মিহি করে বাটতে হবে। এরপর ছেঁকে নিতে হবে ছাঁকনিতে। বাজারে খালি টিউব পাওয়া যায়। তা কিনে এনে তাতে ভরে নেওয়া যাবে সহজেই। অথবা বাটার পেপার তিনকোনা করে তাতে মেহেদি ভরে কোনাকুনি মুড়ে আটকে দিন টেপ দিয়ে। এবার সুই দিয়ে ছোট একটি ছিদ্র করে হাতে ব্যবহার করতে পারবেন। বাজারে পাওয়া যায় নানা ব্র্যান্ডের টিউব মেহেদি। সঙ্গে থাকে আলপনা আঁকা বুকলেট, যা দেখে পছন্দমতো নিজেই সাজাতে পারেন হাত।

 

মেহেদি দেওয়ার আগে-পরে

মেহেদিতে হাত রাঙানোর আগে ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। একটু গাঢ় রঙের পোশাক পরুন, যাতে কাপড়ে মেহেদির দাগ না হয়। এবার হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে খুব ভালোভাবে মুছে নিন। কোনো ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার লাগাবেন না হাতে। পছন্দমতো মেহেদি লাগানোর পর কমপক্ষে এক ঘণ্টা হাতে মেহেদি রাখবেন। এ সময় হাতে পানি লাগানো যাবে না। শুকিয়ে গেলে মেহেদিটা হালকা করে ঝরিয়ে নিন। এরপর লেবুর রস বা চিনির সিরা তুলায় নিয়ে হাতের নকশার ওপর দিন। চাইলে পেট্রোলিয়াম জেল বা ভিক্সও লাগাতে পারেন। এতে মেহেদির নকশাটা আরো গাঢ় হবে।



সাতদিনের সেরা