kalerkantho

রবিবার । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৭ রবিউস সানি                    

গ ল্প

সন্ধ্যা নামল

মাহরীন ফেরদৌস

৫ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



সন্ধ্যা নামল

অঙ্কন : ফারজানা জাহান

জেরিন আমাকে দেখেই বলল, ‘আগের চেয়ে বেশ শুকনা হয়ে গিয়েছিস।’ আমি কোনো উত্তর না দিয়ে মাথা ঝাঁকালাম।

সন্ধ্যা নেমে এসেছে। কেমন যেন একটা অনিয়ন্ত্রিত আবহাওয়া চারপাশে। বড় বড় দালান, দোকানপাট। মোটামুটি বড় রাস্তা বলে সিএনজি, টেম্পো আর ব্যক্তিগত গাড়িগুলো চলছে। সেই সঙ্গে আছে অনবরত রিকশার টুংটাং শব্দ। পাশেই একটা ছাপরা হোটেলে ডালপুরি আর মোগলাই ভাজা হচ্ছে। কড়াইয়ের গরম তেল থেকে ধোঁয়া উঠছে। পটাপট কাগজের প্যাকেটে ঢুকে যাচ্ছে সদ্য ভাজা পুরি কিংবা মোগলাই। খাবার নেওয়ার জন্য লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে মানুষ। আকাশে কেমন যেন ছাড়া ছাড়া ভাব। কিছু সোনালি রেখা আর দূরবর্তী পাহাড়ের মতো বিচ্ছিন্ন কিছু মেঘ। একটা রাতবাতির নিচে দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতে ফোনে কথা বলে যাচ্ছে এক বুড়ো। তামাকের তীব্র ঘ্রাণ আসছে। এ রাস্তার পূর্ব পাশে আগে নারকেলগাছের সারি ছিল। বাতাসে সেই গাছের পাতা ঝুঁকে ঝুঁকে শুধু সালাম জানাত। একটা বকুলগাছ ছিল কাছেই কোথাও। ফুল হতো খুব। এ সব কিছুই এখন আর নেই। স্মৃতির শহর বদলে গেছে অনেকটুকুই।

জেরিন একবারও বাসায় আসতে বলল না। লক্ষ করে দেখলাম, ওর মাথার চুল খুব পাতলা হয়ে গেছে। সাদা সাদা চামড়া দেখা যাচ্ছে পাতলা চুলের পাশ দিয়ে। অথচ এককালে কেমন মোটা মোটা দুটি বেণি করে ক্লাসে আসত। কোচিংয়ের ছেলেরা ওকে দেখলে বিজ্ঞাপনের লাইন ছুড়ে দিত, ‘তোমার ঘন কালো চুলে হারিয়ে যায় মন...’

‘এখানেই দাঁড়িয়ে থাকব, নাকি বাসায় গিয়ে বসব?’

‘জানি না আসলে।’ বলেই শ্রাগ করে জেরিন। আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করি না। ঘাড় বাঁকা করে তাকাতেই দেখতে পাই, ওদের চুনকাম না করা বাড়িটার পেছনে একটু একটু করে অন্ধকার নেমে আসছে চুপি চুপি।

‘চল, হাঁটি।’ উত্তরের অপেক্ষা না করেই হঠাৎ হাঁটা শুরু করে জেরিন।

 

সন্ধ্যার মৃদু বাতাসে অল্প দুলে ওঠে আমার মন। দেখি ওর ভারী চালে হেঁটে যাওয়া। তারপর ওকে অনুসরণ করতে শুরু করি। অনেকেই আমাকে দেখছে কিছুটা বিচিত্র দৃষ্টিতে। এই সন্ধ্যায় রোদচশমা পরে আছি বলে নাকি মেয়ে মানুষ হয়েও জিনসের সঙ্গে ঢোলা শার্ট পরে আছি বলে, তা জানি না। রোদচশমাটা খুলব ভেবেও আর খোলা হয় না। জেরিনের পিছু পিছু যাওয়ার জন্য রাস্তা পার হতে গিয়ে দেখি, আমার পাশাপাশি চামড়া পুড়ে যাওয়া এক নেড়ি কুকুর রাস্তা পার হচ্ছে নিপুণ ভঙ্গিমায়। অল্পক্ষণের মধ্যেই রাস্তা থেকে গলিতে ঢুকে পড়ি। গলির মোড়ে হোসেন চাচার দর্জি দোকানটাও বন্ধ হয়ে গেছে। মুঠোফোনে টাকা ভরার একটা ছোট্ট দোকান বসেছে সেখানে। রেডিও শুনতে শুনতে কাজ করছে এক কিশোর ছেলে। গায়ে বাহারি শার্ট, মাথার চুল খুব কায়দা করে কাটা। জেরিন পাশ থেকে যাওয়ার সময় সে হাঁক দিয়ে বলল, ‘জেরিন আপা, মুপাইলে টেকা লাগব?’

জেরিন মাথা নেড়ে না করে দেওয়ায় সে আবার মুঠোফোন নিয়েই ব্যস্ত হয়ে যায়।

আমি হাঁটতে হাঁটতেই ব্যাকপ্যাক থেকে পানির বোতল বের করে পানি খেয়ে নিই। আমার ভিনদেশি জীবনে আমি অনেক হাঁটি, কখনো এত তৃষ্ণা পায় না। অথচ আজ বারবার তৃষ্ণা পাচ্ছে। সম্ভবত আর্দ্রতার জন্য। জেরিন কিছুদূর থেমে আমাকে হাতের ইশারায় ডাকে। আমি লম্বা পা ফেলে ওর কাছে এগিয়ে যাই।

 

‘মোকসেদ চাচার বাড়ি না সামনে? ওনার মেয়েটা কেমন আছে এখন?’

‘কে, মুনিবা? অনেক ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে। এক পা প্রায় খোঁড়া ছিল বলে বিয়ে হচ্ছিল না। মোকসেদ চাচাদের হতাশা আর ওর কারণে ছোট বোনের বিয়েতে বাধা হতে পারে ভেবেই এমন করেছে। এ ঘটনার মাস ছয়েক পরেই ওর বোনের বিয়ে হয়েছে। বেশ আয়োজন করেই হয়েছে।’

আমার মুনিবার বহু আগের মুখটা হালকা মনে পড়ে। লম্বাটে মুখ আর ঢেউ খেলানো চুল ছিল ওর। খুব ক্লাসিক বই পড়ত। ভার্জিনিয়া উলফ ছিল ওর প্রিয় লেখক। ভার্জিনিয়া নিজের ওভারকোটের পকেটে পাথর ভরে ওউজ নদীতে ডুবে আত্মহত্যা করেছিল। মুনিবার আশপাশে নদী থাকলে সে-ও হয়তো একই কাজ করত। কিংবা হয়তো ঘুমের দেশে চলে যাওয়ার সময় সে তার ঘরটাকেই নদী ভেবে নিয়ে ডুব দিয়েছিল। কে জানে?

 

 

আমরা হাঁটতে হাঁটতে কাসেমবাগ পর্যন্ত চলে এলাম। পথ শুকনা খটখটে। ধুলোময়। বহু আগে এখানে ড্রেন ছিল। ড্রেনের পানি ছিল কালচে। যাতায়াতের জন্য ছিল কিছু সরু কালভার্ট। এখন আর ওগুলো নেই। রাস্তা আগের চেয়ে প্রশস্ত। আমরা দুজন চুপচাপ হাঁটতে থাকলাম। জানি না, জেরিন কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। অনেক বেশি আগ্রহ কাজ করছে না জানার জন্য, আবার এমনও নয় যে না জানলেও চলবে। আবার গলা শুকিয়ে এসেছে। অযথাই কথা চালানোর জন্য বললাম, ‘বাসার সবাই ভালো আছে?’

জেরিন বিচিত্রভাবে একটু তাকায় আমার দিকে। তারপর বলে, ‘পা চালিয়ে আগা। সামনের রাস্তাটা অন্ধকার।’

অন্ধকার থেকে মনে পড়ে গেল, স্কুলে পড়ার দিনগুলোতে সন্ধ্যার পর লোডশেডিং হলেই আমরা ছাদে চলে যেতাম, ছাদের গাছগুলোয় পানি দিতে দিতে গান গাইতাম। ভাবতে গিয়ে ঝিম ধরা একটা ভাব কাজ করে মনে। সন্ধ্যার হালকা অন্ধকারে আমি অতীতের ছবি আঁকিবুঁকি করতে থাকি। আচ্ছা, জেরিন কি আমাকে মন্ময় ভাইদের বাসায় নিয়ে যাচ্ছে? এদিকে কোথাও ছিল ওনাদের বাসা, তবে শুনেছিলাম উনি আর দেশে নেই, তাহলে কি আবার ফিরে এসেছেন?

বেশ বড় একটা বাঁক নিয়ে আমরা আরেকটা সুনসান গলিতে ঢুকে পড়ি। দুই পাশে বেশ কিছু বন্ধ দোকানপাট। এই সন্ধ্যাবেলায়ই মনে হচ্ছে নিঝুম রাত নেমে এসেছে। ঝিঁঝি পোকা হালকা করে ডাকছে দূরে কোথাও। বাতাসে একটা ওষুধ ওষুধ গন্ধ। জেরিন হেঁটে হেঁটে একটা বড় দালানের সামনে চলে যায়। দালানটি প্রায় দশতলা। ঘন অন্ধকারে প্রায় ডুবেই আছে। আশপাশে কোনো জনমানবের চিহ্ন পর্যন্ত নেই। দেখেই বোঝা যায়, সেখানে এখনো কাজ চলছে কিংবা চলছিল বহু আগে থেকে; কিন্তু হয়তো থেমে আছে কোনো কারণে। জেরিন গায়ের ওড়নাটা ঠিক করতে করতে ভেতরে যেতে যেতে বলে, ‘আয়।’

‘এখানে কোথায়?’

‘আরে আয় না। আয় আমার সাথে। আমি মুঠোফোনের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে আলো দিচ্ছি।’

‘এখানেই কেন?’

‘কারণ সবখানে সব কিছু বলা যায় না। দেয়ালেরও কান থাকে। এখানে দেয়ালগুলো এখনো পুরোপুরি জেগে ওঠেনি। তাই শান্তিমতো কথা বলা যাবে।’

জেরিন কথা বলতে বলতেই ফ্ল্যাশের আলোতে সিঁড়ি ভাঙতে শুরু করে। চারপাশে একটা অস্বস্তিকর নীরবতা। ফ্ল্যাশের হালকা আলোতে দেখা যাচ্ছে, এখানে-সেখানে ইট-সুরকির স্তূপ। স্যাঁতসেঁতে ঘ্রাণ। আমি অপরিচিত এক ধরনের আগ্রহ নিয়ে জেরিনের পিছু নিয়ে সিঁড়ি ভাঙতে থাকি। এক, দুই তলা করে করে আমরা প্রায় ছয়তলায় উঠে যাই। হুট করেই সব কিছু কেমন যেন স্বপ্নের মতো মনে হতে থাকে আমার। যেন আমি কোনো আরব্য রজনীর গল্প শুনতে মন্ত্রমুগ্ধ এক শ্রোতার মতো কোনো জাদুকরের পিছু নিয়েছি। বেশ হাঁপিয়ে উঠি। দালানের ভেতরে খোলামেলা বলে বাতাস এলেও কেমন ভাপসা ভাব। অন্ধকারে দেয়াল আর স্তম্ভগুলো বিষাদ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মুঠোফোনের অল্প আলোয় ছায়া ছায়া হয়ে যেন গাঢ় দুঃস্বপ্নের চিত্র এঁকে দিয়েছে। জেরিন সাততলা পেরিয়ে আটতলায় উঠে আসে। ওর জামার রং আর আলাদাভাবে বোঝা যায় না। আটতলার পর আর কোনো সিঁড়ি নেই। বাকি অংশে কাজ চলছিল; কিন্তু শেষ করেনি বলে আগায়নি। ছাদে উঠে বড় বড় দম নেয় জেরিন। আমি জিজ্ঞেস করি, ‘পানি খাবি?’

‘উঁহু।’

বেশ গরম লাগতে থাকে আমার। আকাশটা অন্ধকার হয়েও আবছা আলো দিচ্ছে। জেরিন মুঠোফোনের আলো বন্ধ করে দেয়। অল্প সময়ে আরো সয়ে আসে চোখ দুটি। অনলাইনে খবরে দেখেছিলাম, এসব পুরনো দালানে প্রচুর মাদক ব্যবসায়ী আর নেশাখোর আড্ডা জমায়। কে জানে, এখানেও তেমনি করে কেউ আসে কি না। ভয় নয়, তবে যেন শঙ্কা কাজ করে আমার। কী বলবে জেরিন?

আমরা কেউ কোনো কথা না বলেই যেন চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকি। আবছা আলোতে দেখতে পাই, জেরিন মুখে আঁচল চেপে ধরেছে। ও কি কাঁদছে?

‘সাতাশবার’

‘মানে?’

‘জানিস, গত এক বছরে মোট সাতাশবার আমি এখানে এসেছি আত্মহত্যা করার কথা ভেবে। কখনো পারিনি।’

আমার শিরদাঁড়া দিয়ে একটা শীতল স্রোত নদীর মতো কুলকুল বয়ে যায়। কী বলছে জেরিন এসব?

‘জানিস, এক সন্ধ্যায় এই বাড়িটার নিচে এসেই মন্ময় ভাই আমাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেয়েছিলেন। ওটাই প্রথম, ওটাই শেষ। উনি বয়সে তিন বছরের বড় এক মেয়েকে বিয়ে করে গ্রিন কার্ড নিয়ে আমেরিকা চলে গেছেন। হয়তো ভালোই আছেন।’

‘চল তো এখান থেকে। কোনো খাবারের দোকানে বসে বাকি কথা বলা যাবে।’ আমি কণ্ঠস্বর শান্ত রেখে বলার চেষ্টা করি। আকাশে ক্ষণিকের বিদ্যুৎ চমকে ওঠে হঠাৎ। বৃষ্টি নামবে নাকি? আমি গলার স্বর নিচু করি, ‘কী রে, কাঁদছিস নাকি? কিশোরীবেলার মতো কোনো পুরুষের জন্য কাঁদলে এ বয়সে মানায় নাকি? বাদ দে এসব।’

অন্ধকারে জেরিন গায়ের ওড়নাটা চাদরের মতো পরে নেয়। তারপর এক পা এগিয়ে আমার কানের কাছে এসে ফিসফিস করে বলে, ‘চাকরিতে অনেক বেতন বাকি পড়ে আছে। প্রায় আট মাস বেতন দেয় না। তবু নিয়ম করে যাই। আর কোথাও কাজ পাচ্ছি না। আব্বার পেনশনের টাকাগুলো অর্ধেকের বেশি আটকে আছে।’

 

আমি চুপ করে থাকি কিছুক্ষণ, তারপর হালকা স্বরে বলি, ‘টাকা-পয়সার সমস্যা পৃথিবীর বেশির ভাগ মানুষেরই সমস্যা। এটা নিয়ে এত হতাশ হওয়ার কিছু নেই।’

 

 

আঁধার-আলোয় যেন আপন স্তব্ধতা সৃষ্টি হয়। জেরিনের মুখ দেখা যায় না। বেশ অনেকখানি মেদবহুল শরীর নিয়ে একাকী দাঁড়িয়ে প্রায় না শোনা যাওয়া কণ্ঠে বলে, ‘পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী এক ছেলের সঙ্গে আম্মা এক বছর ধরে রোজ ফোনে কথা বলেন। মাঝেমধ্যে সারা রাত বলেন। আমি প্রায়ই টের পাই, প্রতি দুই ঘণ্টা পর পর লাইন কেটে গেলে আম্মা পানি খেতে ওঠেন, বাথরুমে যান। এরপর একেবারে ফজরের নামাজ পড়ে ঘুমাতে যান। দুপুর ১টার আগ পর্যন্ত তাঁকে জাগানো যায় না। মাঝেমধ্যে আমার সালোয়ার-কামিজ পরে বাজার করতে যান। মুঠোফোনে লক দিয়ে রাখেন, যেন আমি দেখতে না পাই। গভীর রাতে আমি পাশের ঘর থেকে তাঁর কথার আওয়াজ পাই, হাসি শুনতে পাই। কাউকে বলতে পারি না...’

জেরিন কেমন যেন একটা অদ্ভুত শব্দ করে কথা থামিয়ে দেয়। বুঝতে পারি, কান্না সামলে নিচ্ছে।

আমার আর বলা হয় না, এশিয়া মহাদেশের স্বামীহীন বিধবাদের নিয়ে খুব বড় একটা প্রজেক্টে কাজ করছি আমি। প্রাচীন আমলের সেই সতীদাহ প্রথা শেষ হয়ে গেলেও এখনো প্রচুর নারী স্বামী মারা যাওয়ার পর একাকী জীবন যাপন করে। তাদের মানসিক বিকাশ ও জীবনসঙ্গী খুঁজে নেওয়ার বিষয়ে সাহায্য করা নিয়েই আমার কাজ।

 

জেরিনের বাবার স্থানে মা মারা গেলে কি আদৌ তার বাবা বাকি জীবন একাকী থাকতেন? উত্তর ‘না’ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাহলে জেরিনের মা যদি তার চেয়েও অল্পবয়সী কাউকে খুঁজে পায়, তাতে দোষ কোথায়? আমি হিসাব মেলাতে চেষ্টা করতে থাকি।

জেরিন যেন অন্ধকারে নিজেকে আরো আড়াল করতে চায়। আমি বুঝতে পারি, তার আটত্রিশ বছরের একাকী জীবন, পারিবারিক দায়িত্ব, অর্থসংকট, মায়ের সঙ্গে দূরত্ব তাকে দিন দিন কোকুনের মতো গুটিয়ে ফেলছে। জন্মদাত্রীর জীবনে আসা প্রেম আসলে তার জন্য বেদনার পাশাপাশি ঈর্ষারও। আমি বুঝতে পারি না, এই হাহাকার গোপন করে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটিকে আমি কী বলব।

মনে মনে একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি। ক্রমেই আমরা থেকে আমরা সবাই আমি কিংবা তুমি হয়ে যাচ্ছি। এই আমি-তুমিময় আত্মমগ্ন জীবনে জেরিনের জন্য আমার মায়া লাগে। পাওয়া না-পাওয়ার হিসাবের ভিড়ে আমার ইচ্ছা করে ওকে ফেলে আসা বহু আগের জীবনের মতো হাত ধরে বলি, সব কিছু ঠিক করে ফেলা আমাদের হাতে নেই। এই পৃথিবীতে আমরা শুধুই ঘটনা-দুর্ঘটনার দর্শকমাত্র।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা