kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

মে হে দি

মেহেদির আলপনায় বর্ণিল ঈদ

ঈদের সাজের বড় অংশজুড়ে থাকে মেহেদি। এই ঈদে কিভাবে সাজবেন তা হয়তো ভেবে রেখেছেন। কিন্তু কী ধরনের নকশার মেহেদি পরবেন বা কোন ধরনের ট্রেন্ড চলছে তা জানাও জরুরি। ঈদের মেহেদি নিয়ে বিস্তারিত জানালেন মেহেদি আর্টিস্ট সেলিনা মাহাবুব রোজা

৫ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মেহেদির আলপনায় বর্ণিল ঈদ

মেহেদি পাতা বেটে মেহেদি লাগানোর দিন শেষ হয়ে গেছে বহু আগে। মেহেদির টিউব দিয়ে অনায়াসে করে নিতে পারেন মনের মতো নকশা। হাতের পাশাপাশি পা কিংবা বাজুও রাঙিয়ে নিতে পারেন মেহেদির ছোঁয়ায়। মেহেদির আছে নানা রং। রংকে আকর্ষণীয় করতে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গ্লিটার আর কালার। এবারের ঈদে গুজরাটি ও রাজস্থানি মেহেদির ডিজাইন বেশি চলবে। এই নকশার সুবিধা হলো হাত থেকে কনুই পর্যন্ত যেমন দেওয়া যাবে, আবার হালকা করে শুধু হাতের তালু ও পিঠে দুই জায়গায়ই দিতে পারবেন।

হাতের মাঝখানে আঁকা বৃত্ত আর চারদিকে গোল করে ফোঁটা—এই ছিল একসময়ের প্রচলিত নকশা। সেই ট্রেন্ডেও অনেকে ঈদের মেহেদি পরছে। এ ছাড়া সূক্ষ্ম কারুকাজ করা নকশাও অনেকে করছে। তবে কার হাতে কেমন নকশা মানায় সেটা জানা থাকা জরুরি। যাঁদের হাতের পাতা বড় তাঁরা হাতে ভরাট নকশা করলে ভালো দেখাবে। ছোট হাতের এক পাশে লম্বালম্বি ডিজাইন মানানসই। হাতের আঙুল যদি ছোট হয় তাহলে অনামিকা বা মাঝের আঙুলে লম্বা করে নকশা আঁকুন। যাঁদের হাত লম্বা তাঁরা কিছুটা অংশ ফাঁকা রেখে ভরাট ডিজাইন করতে পারেন। তবে যেহেতু উৎসবের উপলক্ষ, সেহেতু দুই হাত ভরেও করতে পারেন মেহেদির নকশা। কনুই পর্যন্ত নামিয়ে নিতে পারেন নকশাকে। আবার কবজি থেকে নামিয়ে লাগাম টেনে ধরতে পারেন নকশার।

যাঁরা হালকা ডিজাইন পছন্দ করেন তাঁরা পুরো হাত ভর্তি করে মেহেদি দিলে নকশা যেন সূক্ষ্ম হয় সেদিকে লক্ষ রাখা জরুরি। তালুর মাঝখানে স্পষ্ট গাঢ় নকশাও বেশ ছিমছাম দেখাবে। কলকা, ফুল, লতাপাতা, তারা—এ ধরনের ডিজাইন করতে পারেন। আবার সূক্ষ্ম ডিজাইনের কিছুটা অংশ ভরাট করে নকশায় বৈচিত্র্য নিয়ে আসা যায়। নকশায় ফিউশন পছন্দ করছেন আজকাল সবাই। মাঝে মাঝে ফাঁকা জায়গা রেখে নকশাকে স্পষ্ট করে তোলা হয় এ ধরনের ডিজাইনে। নখের চারপাশে ভরাট করে মেহেদি দেন অনেকে। সে ক্ষেত্রে নখে হালকা রঙের নেইলপলিশ লাগালে ভালো দেখাবে। যাঁরা পুরো হাতে মেহেদি দিতে পছন্দ করেন, তাঁদের কনুই পর্যন্ত হাত ভর্তি করে মেহেদি দিতে হবে। নকশার কারুকাজও ভরাট হতে হবে। আর নকশা যেন সূক্ষ্ম হয় সেদিকে নজর দিতে হবে।

ঈদে ছোটদের মেহেদি দেওয়ার আগ্রহ সবচেয়ে বেশি থাকে। ছোটদের যে ডিজাইনগুলো জনপ্রিয় তা হলো শিশুদের মেহেদি শুধু হাতের তালুতেই ঠাঁই পায় না, পা কিংবা বাজুতেও মেহেদি লাগাতে পারেন। পায়ের পাতার চারপাশে আলতার মতো করে মেহেদির রেখা টেনে দিতে পারেন। কিংবা মাঝামাঝি লতানো ধরনের নকশা করতে পারেন। হাতাকাটা পোশাক পরলে বাজুতেও মেহেদি দিয়ে ছোট্ট করে ডিজাইন এঁকে নিতে পারেন। তবে যেখানেই দেওয়া হোক না কেন, মেহেদির নকশায় নিজস্বতার প্রতিফলন থাকা জরুরি। ছোটদের নকশা ফুল, পাতা, কার্টুন, কোনো লেখা নাম ইত্যাদি বেশি জনপ্রিয়। শিশুদের কিন্তু হাত ভর্তি মেহেদি তেমন মানাবে না।

ট্যাটুসদৃশ মেহেদিও এই ঈদে অনেকেই পরতে পারেন। বিশেষ করে ওয়েস্টার্ন ঈদ পোশাকের সঙ্গে এ ধরনের মেহেদি বেশি মানায়। এ ক্ষেত্রে বাহুতে, কাঁধে, পিঠের ওপরের দিকের অংশে মানিয়ে যাবে। আর নকশা ছোট পানপাতা, চাঁদ-তারা, কোনো আদ্যক্ষর কিংবা কোনো চিহ্নও হতে পারে।

জেনে রাখুন

♦         মেহেদি লাগানোর আগে হাতে ময়েশ্চারাইজার বা লোশনজাতীয় কিছু লাগাবেন না।

♦         মেহেদি ওঠানোর পর হাতে তেল ঘষে নিতে পারেন। দীর্ঘস্থায়ী হবে রং। এ ছাড়া লেবুর রস ও চিনির সিরাপ একসঙ্গে মিশিয়ে তুলা দিয়ে নকশার ওপর লাগালেও জৌলুস বাড়বে রঙের।

♦         সম্ভব হলে মেহেদি তুলে ফেলার পর চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা হাতে পানি লাগাবেন না। অতিরিক্ত সাবান, শ্যাম্পু লাগালেও রঙের উজ্জ্বলতা কমে যেতে পারে।

♦         বাজারে নানা কম্পানির মেহেদির টিউব পাওয়া যায়। কেনার আগে মান ও দাম দুটিই যাচাই করে কিনুন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা