kalerkantho

সোমবার । ২৬ আগস্ট ২০১৯। ১১ ভাদ্র ১৪২৬। ২৪ জিলহজ ১৪৪০

অ তি প্রা কৃ ত গ ল্প

প্রজাপতয়ে নমঃ

ধ্রুব এষ

৫ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১৯ মিনিটে



প্রজাপতয়ে নমঃ

অঙ্কন বিপ্লব চক্রবর্ত্তী

খারাপ আছে সে। উনপঞ্চাশ বছর বয়স্ক একজন মানুষ। বাইফোকাল পরে। এ ছাড়া নীরোগ শরীর এখনো। জ্বরজারিও তেমন হয় না। তবে ঠাণ্ডা লাগে। খুক্কুরখুক্কুর করে কাশে দিন কতক। তাতে কি, সিগারেটে আধটান কম দেয় না। বত্রিশ-তেত্রিশ বছর ধরে টানছে। পাটকাঠিতে আগুন ধরিয়ে মহড়া এবং পাতার বিড়ি দিয়ে স্টার্টিং। টেন্ডুপাতার বিড়ি। ইন্ডিয়ান জিনিস। আগে নদীর ওপারে গিয়ে দোকানদাকান থেকে কিনতে হতো লুকিয়ে। এখন বর্ডারের হাটে পাওয়া যায়। বুধবারে হাট বসে বর্ডারে। বর্ডারে ঠিক না, নারায়ণতলা খ্রিস্টান মিশনের কাছে। পাহাড় থেকে নামে ওপারের হাটুরে লোকজন। তারা আসে নানা রকম প্রসাধন দ্রব্য, কলাটা-মুলোটা, খড়ি-লাকড়ি, বিড়ি এবং গোপনে মদের বোতল নিয়ে। এমএমবি, অফিসার্স চয়েস। এমএমবি অখাদ্য জিনিস। অফিসার্স চয়েস চলে; কিন্তু পাট্টার বাংলা হলো পাট্টার বাংলা। আবগারি। রোজ পলিথিনের এক প্যাকেট কিনে এবং খায় সে। নির্জলা। ছোলা, চাট ছাড়া। শরীর ঠিক থাকে কী করে তার পরও?

কিছু নিয়ম মানে।

প্রচুর জল খায়। প্রচুর হাঁটে।

ভোর ছয়টায় ঘুম থেকে উঠে যায়। মটকা মারে না। চোখেমুখে জল দিয়ে হাঁটতে বার হয়। শহর পাক দেয়। রাস্তায় এর-তার সঙ্গে দেখা হয়, কথা হয়। চিত্রকর হিসেবে তার একটা আলাদা দাম আছে টাউনে। যথেষ্ট কদর করে মানুষজন। আগের ডিসি সাবিরুল আলম সাহেব তাকে সার্টিফিকেট লিখে দিয়ে গেছেন, অত্যন্ত উঁচুমাপের চিত্রকর সে। টাউনের মেয়র আকিল দেওয়ান, স্কুল লাইফের জুনিয়র, আদাব-সালাম দেয় দেখলে। আদবের সঙ্গে দাদা বলে ডাকে।

পশ্চিম বাজার, মধ্য বাজারের পর আরো একটা মার্কেট উঠেছে টাউনে। পৌর মার্কেট। এই পৌর মার্কেটে একটা দোকান আছে তার। ‘দয়াময়ী আর্ট’। সাইনবোর্ড, ব্যানার এবং বাসাবাড়ির নেমপ্লেট লেখা হয়। পেনসিলে মানুষের স্কেচ আঁকা হয়। বিশ্ববিখ্যাত কবি নির্মলেন্দু গুণ একবার টাউনে এসেছিলেন। ডাকবাংলোতে ছিলেন এবং শহীদ মিনার চত্বরে কাব্য পাঠ করে গেছেন। টাউনের কবি ইকবাল কাগজী তাঁকে নিয়ে এসেছিল দয়াময়ী আর্টে। নির্মলেন্দু গুণও ডিসি সাহেবের মতো সার্টিফিকেট লিখে দিয়ে গেছেন, ‘দয়াময়ী আর্টের সত্যশিব দাস, আমার জানা মতে একজন শ্রেষ্ঠ প্রতিকৃতিশিল্পী।’

নির্মলেন্দু গুণের সঙ্গে তাঁর একটা ছবি উঠিয়ে দিয়েছিল ইকবাল কাগজী। কাচে বাঁধাই করা সেই ছবির একটা টুয়েলভ আর প্রিন্ট ঝোলানো আছে দয়াময়ী আর্টের দেয়ালে।

তাঁর নাম সত্যশিব দাস।

দয়াময়ী তাঁর মায়ের নাম ছিল।

বউয়ের নাম ছিল সর্বাণী।

মেয়ের নাম ছিল সুবর্ণরেখা।

সব ছিল।

দয়াময়ী গেছেন বহুকাল আগে।

সর্বাণী চার বছর আগে।

সুবর্ণরেখা...!

হারামজাদি মেয়ে! বিশ্বকর্মা নিজের হাতে গড়ে পাঠিয়েছিলেন এই পৃথিবীতে। সাক্ষাৎ মা লক্ষ্মীর মতো মুখখান। বিশ্বকর্মার মুখে চুনকালি দিয়ে সেই মেয়ে যাত্রার নটী হয়েছে। এইট পাস করে নাইনে উঠেই পালিয়ে গেছে গনি হাবিলদারের ছেলে পারভেজের সঙ্গে। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। সুবর্ণরেখা নাম তারা কেন রাখবে? হারামজাদি মেয়েও চায়নি। সে এখন মোসাম্মৎ শারমিন আখতার। স্থানীয় পত্রিকায় ছবিসহ বিজ্ঞাপন দিয়ে মোসাম্মৎ শারমিন আখতার হয়েছে, ‘আমি সুবর্ণরেখা দাস, বয়স ২১, সজ্ঞানে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করিলাম এবং পবিত্র ইসলাম ধর্ম মতে আমার নাম মোসাম্মৎ শারমিন আখতার রাখা হইল। এফিডেভিট নম্বর : এত এত।’ এই মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে কে?

সতীলক্ষ্মী ছিল সর্বাণী। না হলে শাঁখা-সিঁদুরে গেছে! কুকীর্তি দেখে যায়নি তাদের মন-অবাধ্য মেয়ের। সত্যশিব দাসের পোড়া কপাল। সর্বাণী গেল, কেন তাকে নিয়ে গেল না সঙ্গে? হা ভগবান! মুখ দেখা বন্ধ করে দিলেও মেয়ের কীর্তিকলাপ সত্যশিব দাসকে শুনতেই হয় আকসার। কত লোক আসে দয়াময়ী আর্টে। কত কিসিমের। কিছু বলতে কেউ ছাড়ে? পশ্চিম বাজারের বলাই কাকা আছেন, বলাই ভট, কড়া জর্দা দিয়ে পান খান এবং বড় মধুর করে তিতা কথা বলেন।

‘অ সইত্য, তুমি দাদু হইছ শুনলাম। হে! হে! হে!’

সুবর্ণরেখা...ইয়ে, মোসাম্মৎ শারমিন আখতারের একটা মেয়ে হয়েছে কিছুদিন আগে। বাসস্ট্যান্ড রোডের সাফেনা সাইমন ক্লিনিকে। নরমাল ডেলিভারি। আবগারি দোকানের নূরু মহাজন অবগত করেছিল সত্যশিব দাসকে। নূরু মহাজন বন্ধুস্থানীয় মানুষ, কুটিলতা মনে নিয়ে কিছু বলেনি। সত্যশিব দাসও কিছু মনে করেনি। রাও করেনি। তাতে বলাই কাকার মুখ আটকাবে কেন?

‘কি সইত্য? মুখ ব্যাজার ক্যান? খুশি হও নাই? হে! হে! হে! মেয়ের ওপরে রাগ করে আছ? ন্যায্য কারণে রাগ করে আছ, বাবা। কিন্তু সইত্য, এইটা তো মেয়ে দোষের কিছু করে নাই, বলো। বিয়া বইছে, আবু পেটে ধরব না? মাইনসে যে তারে আঁটকুড়া বলব। হে! হে! হে! অ বক্কর, দেখস কী দাঁড়ায়ে? দুই সিঙ্গেল চা নিয়া আয়, ব্যাটা। আর রিফাতের দোকান থে পান। এক খিলি না, দুই খিলি আনবি। আমার কথা বলবি রিফাতরে। টাকা দেও সইত্য। মিষ্টিমুষ্টি আর খাইতে চাইলাম না। আতকা খিয়াল করলাম বুঝছ, দাদু তো তুমি হও নাই। হইছ নানা। হে! হে! হে!’

এই সমস্ত সময় মনে মনে ‘ডিমলার’ হয়ে যায় সত্যশিব দাস। উকিলপাড়ার হেমবাবু উকিলের কুকুর ‘ডিমলার’। সরাইলের কুকুরের সাক্ষাৎ বংশধর। হেমবাবু উকিলকে তার এক মক্কেল দিয়েছেন। ডিমলারের তরাসে শহরের কোনো চোর ঢোকে না উকিলপাড়ায়। মামনপুরের পানু চোরা মনে করেছিল, ধূলিপড়া দিয়ে বশ করে ফেলবে। বুঝেছে ডিমলার কী জিনিস। হাড়মাসে বুঝেছে এবং চৌদ্দটা ইনজেকশন নিয়েছে।

দিনেও এখন উকিলপাড়া হয়ে কোথাও যায় না পানু চোরা। বাজারের দিকে যেতে বাধ্য হলে খ্রিস্টান মিশন, হাছননগর হয়ে ঘুরে যায়।

সেই ডিমলার হয়ে কী করে সত্যশিব দাস?

কামড়ায়।

মনে মনে কামড়ায় বলাই ভটদের।

 

দুই

টাউনে সত্যশিব দাসের বন্ধু দুইজন। হাছননগরের গোলাম মুস্তফা এবং মধ্যবাজারের হরেকৃষ্ণ বণিক। একসঙ্গে তারা স্কুল-কলেজে পড়েছে। মুস্তফা ও হরেকৃষ্ণ দুইজনই বিএ পাস। সত্যশিব দাস আইএতে ভর্তি হয়েছিল। মাস আষ্টেক ক্লাস করে আর পারেনি। অর্ধাহার-অনাহারের সংসার। মা-ব্যাটার দিন চলে না। দয়াময়ী তখনো আছেন। বলতে গেলে বাল্যবিধবা মা। নয়াপাড়ার বিশ্বনাথ কাকার সঙ্গে কি সত্যি তার কিছু ছিল? ঢের আকথা-কুকথা আছে টাউনে। তাতে কিছু মনে করে না বা অস্বস্তি বোধ করে না সত্যশিব দাস। বিশ্বনাথ কাকার পরামর্শেই এর-তার কাছ থেকে কিছু ধারকর্জ করে সে দয়াময়ী আর্ট শুরু করেছিল, বাসস্ট্যান্ড রোডে। ছাপরা একটা ঘর। বেশুমার দিন গেছে কষ্টের। ক্রমে উন্নতি হয়েছে অবস্থার।

সর্বাণীকে তার সংসারে তার সাধ্যমতো ভালো রেখেছিল সত্যশিব দাস। যোগীনগরের অনুকূল কীর্তনীয়ার মেয়ে। বড় হয়েছে অভাবে অভাবে। সত্যশিব দাস অভাব থেকে তাকে বহুদূর আগলে রেখেছিল। মুখপুড়ী মেয়েটার পর একটা ছেলে হয়েছিল তাদের। তারা নাম রেখেছিল অভিমন্যু। পুরোত-ঠাকুর অভিমন্যুর কুষ্টি ঠিকুজি করে দিয়ে বলেছিলেন, ‘তোর পোলায় রাজকপাল নিয়া জন্মাইছে, সইত্য।’

রাজকপাল নিয়ে জন্মেছিল, রাজকপাল নিয়ে চলে গেছে, দুই বছর বয়সের অভিমন্যুর কথা আর তেমন করে মনে পড়ে না সত্যশিব দাসের। তার জীবনে এখন সান্ত্বনা একটাই—পৌর মার্কেটের দয়াময়ী আর্ট দেখে যেতে পেরেছে সর্বাণী। পুজো পাঠ করে প্রথম দিন সে নতুন দোকান শুরু করেছিল। বউ-মেয়েকে দোকানে নিয়ে এসেছিল। ছবি তুলেছিল বাজারের ময়না ফটো স্টুডিওতে গিয়ে। সেই ছবি আছে এখনো অ্যালবামে। খুলে আর দেখে না সত্যশিব দাস। হারামজাদি মেয়ের মুখ দেখতে হয়! আহ্! বুক জ্বালা করে বাপ সত্যশিব দাসের। এ তুই কী করলি পাপিষ্ঠা!

বাসস্ট্যান্ড রোডের ছাপরাঘর থেকে একেবারে পৌর মার্কেটে দোকান। কম কথা নাকি? পৌর মার্কেটে দোকানের পজিশন নিতেই তিন লাখ টাকা জমা দিতে হয়েছিল। বড়সড় দোকান। ডাবল ইউনিটের। এখন একুশ শ টাকা করে দিতে হয় মাসান্তে। বিদ্যুৎ বিল নিজস্ব। পাবলিক টয়লেট আছে মার্কেটে। পেশাব করতে এক টাকা লাগে। দুপুরে এখন আর বাসায় ফেরে না, দেশবন্ধু মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের পরোটা, রুটি আর একটা রসগোল্লা কি চমচম খেয়ে নেয় সত্যশিব দাস। দোকানের ঝাঁপ খোলে সকাল দশটায়। বন্ধ করে রাত নয়টায়। প্রচুর পানি খায় বলে পাঁচ-ছয়বার পেশাব করতে হয় দিনে। শুক্রবারেও দোকান খোলে। গাঁওগেরামের কাস্টমাররা আসে এদিন। আমবাড়ি, সর্দাবাজ, ঠাকুরেরগাঁও, তহবনপুর, নিকলির কাস্টমার। কথা সেটা না। কথা হলো, মাসে তাহলে পনেরো শ থেকে ষোলো শ টাকার পেশাবই করে সত্যশিব দাস। সেই অভাবী সত্যশিব দাস! হিসাব রাখে শহরের একটা মানুষও?

সর্বাণী রাখত। সব হিসাব রাখত সত্যশিব দাসের। আর কেউ কি কখনো রাখবে? উনপঞ্চাশ বছর! খুব কি বয়স? আবার বিয়ে করার বয়স পার হয়ে গেছে? গার্লস স্কুল রোডের নীলেন্দু পুরকাইত বিয়ে করেছেন গত আগনে। তাঁর বয়স পঞ্চাশ হয়েছে গত আগনের আরো দুই আগন আগে। নাহা টেইলার্সের মালিক নাহা বাবু, আটান্ন বছর বয়সে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছেন বা বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁর দ্বিতীয় বউ সাচনা বাজারের। ঘাটের ‘বেটি’, মুস্তফা বলেছে। রঙ্গরস কম হয় না টাউনে। সত্যশিব দাস যদি আবার বিয়ে করে? কী হবে? ঢিঢি পড়ে যাবে অবশ্যই। কিন্তু একজন মানুষের বয়স উনপঞ্চাশ বছর হতে হতে তার নিজের গোপন একটা জগৎ যে হয়ে যায়, সেই জগত্টা কি আর কেউ দেখে? আচ্ছা, আর সব কিছু না হয় অস্বীকার করা গেল, কিন্তু শরীর? তুষের আগুন জ্বলে শরীরের ভেতরে। রাগ হয়, ক্রোধ হয়। সর্বাণী! সর্বাণী! কেন? কী হতো সর্বাণী আর কটা দিন থাকলে?

সর্বাণী যাওয়ার পর তিন কার্তিক মাস গেছে। কার্তিক মাসে আঠারো হাত উঁচু প্রতিমা গড়ে শ্মশান কালীপূজা হয় শ্মশানঘাটে। অন্যথা হবে না এবারও। সত্যশিব দাস গত তিনবারের মতো শাপ-শাপান্ত করবে দেবীকে। তোর চোখ নাই, অভাগীর বেটি!

সেই জন্ম থেকে কিনা তারা শুনে-দেখে আসছে, শ্মশান কালীপূজার দিন অত্যাবশ্যকভাবে একজন মারা যায় টাউনের। মানুষজন বলে, মা কালী টেনে নিয়ে গেছেন। গত বছর চাণক্যপাড়ার নন্দী কাকাকে টেনে নিয়ে গেছেন। তার আগের বছর নেপু বাবুকে। তার আগের বছর চক্রপাণি ঠাকুরের বিধবা বউকে। কেন রে মা, তুই না মা, সত্যশিব দাসকে চোখে পড়ে না তোর?

এই কার্তিকে মা কালী কি টেনে নিয়ে যাবেন সত্যশিব দাসকে? সর্বাণী! আহ্! এখন কোথায় থাকে সর্বাণী? দেখতে মন চায় সত্যশিব দাসের। এত দিনে মাত্র দুইবার, দুইবারে তিন শ তিন শ ছয় শ টাকা সে দিয়েছে পনইয়ের মাকে। দুলাল মিস্ত্রির বউ পনইয়ের মা। বয়স চল্লিশ পার হয়ে গেছে। তার মেয়ে প্রণতি, মানে পনই, পৌর বালিকা বিদ্যালয়ে পড়ে। তা পড়ুক। সত্যশিব দাসের টাকা কটা গেছে পানিতে। না সে শান্তি পেয়েছে, না পনইয়ের মা। মুস্তফা ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। পনইয়ের মা মার্কামারা মেয়েমানুষ টাউনের, টাকা নিলেও বিরক্ত হয়েছে এবং যা বলার বলে দিয়ে গেছে, ‘পারেন না, ডাকেন ক্যান?’

পারে না! কথাটা ঠিক না। সর্বাণী যদি এখন থাকত!

আড়ষ্ট লাগে আসলে। মন সায় দেয় না। জোর করে হয় নাকি এসব? সত্যশিব দাসের এমন দুর্দশা দেখে হরেকৃষ্ণ সম্বন্ধ এনেছিল একটা। তার এক জেঠতুতো শালি। শালি না, জেঠাইশ। ইব্রাহিমপুরের সীতেশ মাস্টারের মেয়ে। বয়স হয়ে গেছে, বিয়ে হয়নি। হরেকৃষ্ণ সাদাকালো একটা ছবি এনে দিয়েছিল। বয়স হলেও মেয়ে যথেষ্ট সুশ্রী। পালপাড়ার কানু পালের গড়া প্রতিমার মতো। দেবী ভাব আছে। ছোট তিন বোনের বিয়ে হয়ে গেছে, এর বিয়ে কেন হয়নি? হরেকৃষ্ণ গাঁইগুঁই করে কিছু বলেনি। বলাই ভট অশিক্ষিত হলেও সীতেশ মাস্টারের বন্ধুস্থানীয়। চোখের মাথা খেয়ে একদিন তাকেই জিজ্ঞেস করেছিল সত্যশিব দাস, ‘ইব্রাহিমপুরের সীতেশ মাস্টারের বড় মেয়েটার বিয়া অয় না ক্যান, বলাই কাকা?’

‘অইব না। হে! হে! হে!’

‘অইব না! ক্যান?’

‘তুমি আরটিশ মানুষ, দুনিয়াদারির আসল খবর তুমি কিছুই রাখো না, সইত্য। ওরে কে বিয়া করব, হ্যাঁ? হে! হে! হে! দোয়ারাবাজারের ইনুস হাজামের পোলা মনসুরের লগে এই মেয়ে পলায়ে গেছিল একবার, জানো? এই কথা কি মাইনসে মনে রাখে নাই, হ্যাঁ? হে! হে! হে!’

‘পলায়ে গেছিল!’

‘তুমি কোন ধন্দে থাকো বলো তো, সইত্য। শহরের সব মাইনসে জানে, তুমি জানো না। মনসুরের লগে সিলেটের দরগাগেইট হোটেলে তিন দিন তিন রাইত ছিল সুলেখা। স্বামী-ইস্তিরি পরিচয়ে ছিল। বছর আষ্টেক আগের ঘটনা।’

‘তারা কি বিয়া করছিল?’

‘বিয়া করব ক্যান? ফুর্তি করতে গেছিল, ফুর্তি করছে। কাটা জিনিসের মৌজ কী সুলেখা বুঝছে। হে! হে! হে! তুমি তো সইত্য কাটা জিনিস আকাটা জিনিসও বোঝো না মনে হয়। তোমারে নিয়া কী করি বলো তো!’

সুলেখা। সু-লেখা। সুন্দর হস্তাক্ষর। সাদাকালো ছবিটা এখনো আছে ড্রয়ারে। বক্কর দোকানে না থাকলে কখনো কখনো অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে দেখে সত্যশিব দাস। কী রূপবতী একটা মেয়ে! এই মেয়ে ফুর্তি করবে বলে পালিয়ে গিয়েছিল মনসুরের সঙ্গে!

দোয়ারাবাজারের হাজামের ছেলে টাউনেই থাকে বোন-দুলাভাইয়ের সঙ্গে। তার দুলাভাই গোলফুর এবং সে, দুজনই নূরজাহান টকিজের ব্ল্যাকার। মানা যায় না। ছি! ছি! ছি! না হলে এই মেয়েকে হান্ড্রেডে হান্ড্রেড পার্সেন্ট পছন্দ হয়ে গিয়েছিল সত্যশিব দাসের। বলাই ভটের সঙ্গে কথা বলার আগে তার চিন্তাভাবনা কত যে অন্য খাতে ছিল। ছবি দেখে একটা স্কেচ করবে সুলেখার, মোটামুটি মনস্থির করে ফেলেছিল সে। সমঝদার ডিসি সাবিরুল আলম বা বিখ্যাত কবি নির্মলেন্দু গুণ তার মুখ দেখে তাকে সার্টিফিকেট লিখে দিয়ে যাননি। গ্রাফ করে মানুষের মুখের স্কেচ অত্যন্ত ভালো আঁকতে পারে সে। পেনসিলে আঁকে। হুবহু মিলে যায়। দোকানে নমুনা আছে কয়েকটা। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং লাস্যময়ী চিত্রনায়িকা কবরীর পেনসিল স্কেচ।

সত্যশিব দাসের প্রিয় নায়িকা কবরী। প্রিয় নায়ক রাজ্জাক। এই জুটির বই সে মিস দেয় না। এখনো বক্করকে দোকানে রেখে ম্যাটিনি শো দেখে আসে একা। সর্বাণী থাকতে দু-একবার সঙ্গে নিয়ে গেছে সর্বাণীকেও। ড্রেস সার্কেলে বসে বই দেখেছে জামাই-বউ। সর্বাণীরও প্রিয় নায়ক ছিল রাজ্জাক। নায়িকা শাবানা। রাজ্জাক-শাবানা জুটির ‘মাটির ঘর’ বইটা দেখে কত যে কান্নাকাটি করেছিল সে! এখন আর কাকে নিয়ে বই দেখতে যাবে সত্যশিব দাস?

সিনেমা হল টাউনে একটাই। নূরজাহান টকিজ। গেলেই গোলফুর ও মনসুর হারামজাদার সঙ্গে দেখা হয়। আদাব-সালাম দেয় তারা অবশ্য। তাতে কি? তুই গোলফুর, তোরে আমি কিছু বলব না! তুই মনসুর, তুই সীতেশ মাস্টারের মেয়েরে নিয়া ফুর্তি করছিস! তিন দিন তিন রাত ফুর্তি করছিস! হারামজাদা, তুই!

মনে মনে মনকলা খায়। এ রকম একটা কথা প্রচলিত আছে এলাকায়। মনকলা যে কী জিনিস। সত্যশিব দাস খায় মনে হয়। না হলে জীবনে একটা মাছি মারেনি, মনে মনে মনসুরকে একদিন খুন করার মতো চিন্তাও করেছিল সে। চিন্তা করে ডিমলার হয়ে গিয়েছিল। কামড়ে ক্ষত-বিক্ষত করেছিল মনসুরকে। মানে হয় কোনো?

 

তিন

মুস্তফা লেডি কিলার। বউ আছে, বালবাচ্চা আছে।  তা-ও কাজের বুয়াদের ছাড়ে না। মার্কামারা গঞ্জিকাসেবী টাউনের। শ্মশানেমশানে বসে কল্কি টানে দিনমান। সেও সম্বন্ধ এনেছিল একটা। জয়কলস প্রাইমারি স্কুুলের মাস্টারনী। শিপ্রা রানী কর্মকার। মুস্তফার কালেকশন! বোঝা উচিত ছিল। ছবি দেখেই হয়ে গিয়েছিল সত্যশিব দাসের। মানুষ কি কটকটির মতো হয় দেখতে? সাক্ষাৎ মা কালী শিপ্রা রানী কর্মকার। তবে বাটকু। আর দেখতে কটকটির টুকরোটার মতো। তা-ও চেষ্টার কসুর করেনি মুস্তফা, ‘তোরে দুই কানি জমি দিব তারা। বিশ হাজার টাকা দিব নগদ। টুইনওয়ান দিব একটা।’

‘আমি কি জমি, টাকা, না টুইনওয়ানরে বিয়া করব?’

‘পরে কিন্তু হায়-আফসোস করবি না।’

‘করব না।’

‘বয়েস হইছে ব্যাটা বায়ান্ন, তুই কি ষোলেলা-সতেরো বছরের কচি মেয়েরে বিয়া করতে চাস?’

‘তোর বয়েস বায়ান্ন হইছে, আমার হয় নাই। আমার বয়স এখন উনপঞ্চাশ।’

‘উনপঞ্চাশ! উনচল্লিশ হইলেই বা কি। ধ্বজ না কী, তোরা বলিস না...মনে পড়ছে, ধ্বজব্বরে—।’

‘ধ্বজব্বরে না দোজোবরে।’

‘ওই হইল। ধ্বজব্বরে আর দোজোবরে একই। তোর মতো ধ্বজব্বরের লগে তারা মেয়ের বিয়া দিব, এইটা তুই বিবেচনা করবি না?’

‘উননিশ দিন আমার দোকানে আসবি না তুই!’

‘দুই দিন কমা।’

‘দুই দিন কমাব? ক্যান? দুই দিন ক্যান কমাব?’

‘তাইলে ধর কাইল-পরশুও আসলাম। পরশু কি আর কিছু মনে থাকব তোর?’

‘মনে থাকব। আমার সব মনে থাকে।’

‘সর্বনাশ। এইটা তো একটা অসুখ। পত্রিকায় লেখছে, মানসিক অসুখ। তুই তো মানসিকভাবে অসুস্থ।’

‘ক্যান? তোর এই কথা মনে অইল ক্যান? আমি কি পাগলের মতো কথা বলতেছি।’

‘কথা তো সুস্থ মানুষের মতোই বলতেছিস; কিন্তু তুই অসুস্থ। সব মনে রাখা একটা অসুখ। পত্রিকায় লেখছে। প্রেস ক্লাবের সেক্রেটারি শামসুল ভাই বলছেন, এরশাদেরও এই অসুখ আছে। রাষ্ট্রপতি এরশাদ।’

‘তুই উননিশ না, উনত্রিশ দিন আমার দোকানে আসবি না।’

‘এক দিন আসব। একবার। তোরে শিপ্রার বিয়ার কার্ড দিতে আসব।’

‘তুই তোর শিপ্রারে বিয়া কর গিয়া। দুই কানি জমিতে গাইনজার চাষ কর। বিশ হাজার টাকার চারা কিন গাইনজার। টুইনওয়ানে গান শোন বসে। আমারে যন্ত্রণা করবি না উনত্রিশ দিন।’

‘আমি শিপ্রারে বিয়া করব কি না সেই চিন্তা করে দেখব। যদি কিছু সিদ্ধান্ত না নিতে পারি, আবার না হয় কথা বলে গেলাম তোর লগে।’

‘তুই যা তো!’

এই হলো অবস্থা। কী করে সত্যশিব দাস? এই মুহূর্তে?

 

চার

রাত সাড়ে নয়টা বেজে গেছে এবং পৌর মার্কেট বন্ধ হয়ে গেছে। বক্কর দোকানে ঘুমায়। সত্যশিব দাস নিয়মমতো পশ্চিম বাজারের দিকে গিয়েছিল। পলিথিনের ব্যাগ নিয়েছে একটা। বাসায় গিয়ে নদীর পারে বসে খাবে। রিকশা নিয়েছে। না নিলে হয়, তবু নিয়েছে।

পশ্চিম বাজার থেকেই লোডশেডিং হলো। নিমেষে গোটা টাউন অন্ধকার। বিরক্ত হলো না সত্যশিব দাস। কী করা আর? রিকশাঅলা কুড়িয়ারপারের জলফু। গান ধরল, ‘তুই যদি আমার হইতি রে...।’ বিকট অসুরের মতো গলা জলফুর। বিরক্ত না হলে হয় না। সত্যশিব দাস বিরক্ত হতেই যাচ্ছিল, কিন্তু পারল না। রিকশায় তার পাশে বসে আছে কে? কোত্থেকে? কখন উঠল? মেয়েমানুষ আবার। কে? ন্যাপথালিনের ঘ্রাণ লাগল নাকে। মেয়েমানুষটা বলল, ‘কী-ই-ই?’

বলে হাসল।

সর্বাণী!

সত্যশিব দাসের মাথা, বুকটুক রিমঝিম করে উঠল। সত্যি সর্বাণী! ক্ষীণ গলায় সে বলল, ‘সর্বাণী!’

সর্বাণী হাসল, ‘ডরাইছ? হ্যাঁ?’

‘অ্যাঁ—হ্যাঁ—না। ডরাব? ডরাব ক্যান?’

‘ডরাও নাই? হি! হি! হি! বিয়া করবা না আর?’

‘বিয়া! আর! না তো! বিয়া তো করব না। বিয়া ক্যান করব?’

‘করবা না ক্যান? ইব্রাহিমপুরের সীতেশ মাস্টারের মেয়ে সুলেখারে বিয়া করো।’

‘সুলেখা!’

‘হুঁ।’

‘কী বলো না বলো তুমি!’

‘ক্যান? অনুচিত কী কথাটা বললাম। সুলেখা সংসারী আছে।’

‘সংসারী আছে! তুমি তার হিস্টোরি জানো?’

‘হিস্টোরি কী? কম বয়সে ভুল করছিল একটা। ধরতে আছে অত? তুমি সুলেখারে বিয়া না করলে আর কেউ কি বিয়া করব না?’

‘করব? করব না ক্যান? আমি করব না।’

‘তুমি করবা না? ক্যান? হি! হি! হি!

‘তুমি আমার লগে থাকো, সর্বাণী।’

‘আমি? হি! হি! হি! আইচ্ছা, থাকব।’

জলফু বলল, ‘কিগো, দাদা? কার লগে রাও পাড়ো, হ্যাঁ?’

কার লগে?

সত্যশিব দাস দেখল, সে একা রিকশায়। কোথায় সর্বাণী?

উকিলপাড়ায় ঢুকেছে রিকশা। সত্যশিব দাস বলল, ‘নদীর পারে যা, জলফু।’

 

পাঁচ

কার্তিক মাসের নদী।

পানি নিচে নেমে গেছে অনেক। অগুনতি তারা আকাশে। দূরের পাহাড় আকাশে মিশতে মিশতে মেশেনি। গাঢ় জমাট একটা পেনসিল স্কেচের মতো হয়ে আছে। পলিথিনের ব্যাগ খুলে প্রথম এক ঢোক নিল সত্যশিব দাস। ঘটনাটা কী ঘটল আসলে? সত্যি সর্বাণী তার সঙ্গে ছিল রিকশায়? সর্বাণী? সত্যি? কত কী ঘটে! কোনটা সত্যি আর কোনটা যে মিথ্যা, কে বলবে?

কার্তিক মাসের নদী?

উনপঞ্চাশ বছর বয়স্ক একজন মানুষ। সিগারেট ধরাল সে একটা। আরেক ঢোক নিল। এখন? নদীর সঙ্গে কথা বলে দেখবে সে?

কী বলবে?

কার্তিক মাসের নদী!

আবার সেই ঘ্রাণ। ন্যাপথালিনের। আবার সত্যশিব দাস সর্বাণীকে দেখল। লাল পাড়, সাদা শাড়ি। শাঁখা পলা সিঁদুর পরা সর্বাণী।

সত্যশিব দাস আরেক ঢোক নিল। তিন ঢোকে কিছুই হওয়ার কথা না তার। হলোও না। খুব স্বাভাবিক গলায় সে বলল, ‘সর্বাণী, তুমি কি সইত্য?’

সর্বাণী হাসল, ‘না গো, মিথ্যা! মিথ্যা সর্বাণীর দুইটা কথা তুমি রাখবা?’

‘কী কথা বলো?’

‘রাখবা বলো?’

‘রাখব। বলো।’

‘সুলেখারে বিয়া করো তুমি। আর—।’

‘আর?’

‘মেয়েটারে ক্ষমা দিয়া দাও।’

কী বলছে সর্বাণী! সত্যশিব দাস বুঝল না তা না, কিন্তু রেগে উঠতে পারল না। শান্ত গলায় বলল, ‘সে আর আমরার মেয়ে না, সর্বাণী।’

‘এইটা কী বলো, তুমি? মেয়ে কি পর হয় কোনো দিন?’

‘তারে আমি ক্ষমা দিতে পারব না।’

‘পারবা। তুমি না বাপ তার।’

‘তাতে কি?’

বলে সত্যশিব দাস চমকাল একটু। কার সঙ্গে কথা বলছিল সে? কোথায় সর্বাণী?

নদী থেকে ঠাণ্ডা একটা হাওয়া উঠে এসে কাঁপিয়ে দিয়ে গেল সত্যশিব দাসকে। কার্তিক মাসের নদীর রিমঝিম হাওয়া। সত্যশিব দাস আরেক ঢোক নিল এবং বিড়বিড় করে কিছু বলল। কাকে বলল?

অন্ধকার নদীকে।

দয়াময়ী আর্টে বসে বলাই ভট পরদিন বিকেলে সত্যশিব দাসকে বললেন, ‘শুনলাম, সইত্য। এইটা তুমি একটা কাজের কাজ করছ, মানি বাবা। হে! হে! হে! মেয়ে তো মেয়েই। তার আবার হিন্দু-মুসলমান! জাত-ধর্ম! ভালো করছ তুমি, মেনে নিছ তারারে। এখন বলো, পারভেজ কি পেন্নাম করল তোমারে? না, তারা কদমবুসি না কী যেন তারা বলে, ওই সব করল? হে! হে! হে!’

ফিসফাস থাকল কিছুদিন টাউনে।

শ্মশান কালীপূজার দিন বলাই ভট মরলেন।

কার্তিক ফুরাল।

অগ্রহায়ণ, পৌষও ফুরাল।

মাঘও যায় যায়।

দিনক্ষণ দেখে মাঘের তেইশ তারিখ ইব্রাহিমপুরের সীতেশ মাস্টার এলেন টাউনে। মেয়ে সুলেখার শুভ বিবাহের কার্ড ছাপতে দিলেন রহমানিয়া প্রেসে।

কার্ড ছাপা হলো।

শ্রীশ্রী প্রজাপতয়ে নমঃ

মহাশয়/মহাশয়া,

            যথাবিহিত সম্মানপূর্বক সবিনয় নিবেদন এই যে, পরম পুরুষ বৈষ্ণবাচার্য্য শ্রীশ্রী রাজ গোবিন্দ রাজেন্দ্র রাজা গোস্বামীর অশেষ কৃপায় আগামী ১৩ই ফাল্গুন ১৩৯২ বঙ্গাব্দ, ২৫শে ফেব্রুয়ারি ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ মঙ্গলবার আমাদের পরিবারের প্রথমা কন্যা শ্রীমতী সুলেখা রানীর সঙ্গে স্বর্গীয় বিভুরঞ্জন দাস মহাশয়ের একমাত্র পুত্র শ্রীমান সত্যশিব দাসের শুভ বিবাহের দিন ধার্য্য করা হইয়াছে।

এতদুপলক্ষে নিমন্ত্রণক্রমে বাসনা যে উক্ত শুভ বিবাহের অনুষ্ঠানাদিতে উপস্থিত থাকিয়া বর/কনেকে আশীর্বাদদানে কৃতার্থ করিবেন।

পত্র দ্বারা নিমন্ত্রণজনিত ত্রুটি মার্জনীয়।

বিনয়াবনত

শ্রী সীতেশ রঞ্জন দাস

 

হরেকৃষ্ণ ও মুস্তফাকে সঠিক বৃত্তান্ত বলেছে সত্যশিব দাস। সর্বাণী তাকে বলেছে বলে না...।

‘বিশ্বাস কর তোরা!’

বিশ্বাস করেছে হরেকৃষ্ণ ও মুস্তফা। বিশ্বাস করে দাঁত বের করে হেসেছে।

হাসুুক।

সত্যশিব দাস। উনপঞ্চাশ বছর বয়স্ক একজন মানুষ। এত কিছুর পর একটু ভালো আছে সে।

মন্তব্য