kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

বেড়ানো

ঈদের অবকাশে

৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



ঈদের অবকাশে

শ্রীলঙ্কা

সাপ্তাহিক বন্ধ আর ঈদের ছুটি মিলিয়ে এবার মিলবে লম্বা ছুটি। তবে কোথায় কাটাবেন ঈদ অবকাশ—এ নিয়ে টানাপড়েনে আছেন অনেকেই। দেশের বাইরে মনমতো বেড়াতে চাইলে বেছে নিন যে কোন একটি জায়গা। সম্ভাব্য পাঁচটি স্থানের পরামর্শ দিয়েছেন সৈয়দ আখতারুজ্জামান

 

 

লম্বক দ্বীপ, ইন্দোনেশিয়া

লম্বক দ্বীপ, ইন্দোনেশিয়া

লম্বকে পর্যটক এলে সেঙ্গেগিতেই প্রথম আস্তানা গাড়েন। লম্বক, ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম নুসা তেঙ্গারার একটি দ্বীপের নাম। দ্বীপের চারপাশ পাহাড় দিয়ে ঘেরা। পাহাড়ের পরই সমুদ্র। ফলে রাস্তাগুলো দিয়ে চলার সময় একদিকে পাহাড়, আরেক দিকে সমুদ্রের আদিগন্তবিস্তৃত নীল জলরাশি, সৈকতে আছড়ে পড়া ঢেউ নজরে আসে। সে এক অপার্থিব অনুভূতি। লম্বক যেতে প্লেনের বেশ কিছু রুট আছে। ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুর বা মালয়েশিয়া। সেখান থেকে বালি হয়ে বা সরাসরি লম্বক।

লম্বকে থাকার জন্য সেঙ্গেগি সবচেয়ে ভালো জায়গা। সেঙ্গেগিতে সমুদ্রের একেবারে তীর ঘেঁষে বিলাসবহুল শেরাটন হোটেল থেকে শুরু করে রাতপ্রতি এক হাজার ৫০০ টাকার হোটেলও আছে।

বাটু বুলং টেম্পল, পুরা লিংসার টেম্পল, নারমাডা পার্ক, ঐতিহ্যবাহী সাসাক পল্লী, মাসবাগিক হয়ে প্রিঙ্গাসেলার পটারি ও তাঁতশিল্প, সেঙ্গকল, পুজুত আর রামবিতানের স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী বাড়িঘর, সেঙ্গেগি ও কুতা সৈকত, ময়ূরা পার্ক, গিলি ত্রাভাঙ্গান দ্বীপ, লম্বকের সবচেয়ে উঁচু রিনজানি পর্বতসহ আরো অনেক কিছু। সেঙ্গেগির হস্তশিল্পের দোকানগুলো থেকে স্যুভেনির কিনতে ভুলবেন না।

 

কো সামুই, থাইল্যান্ড

কো সামুই থাইল্যান্ডের দ্বিতীয় বড় দ্বীপ। এই দ্বীপের বেশ কয়েকটি সৈকতের মধ্যে চাওয়েং ও লামাই সবচেয়ে বিখ্যাত এবং জমজমাট। প্রায় ৫০ হাজার স্থায়ী বাসিন্দা আছে এই দ্বীপে। কায়াকিং আর স্নোরকেলিংয়ের জন্য এই দ্বীপ জনপ্রিয়। অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় পর্যটকরা ২১ কিলোমিটার চওড়া আর ২৫ কিলোমিটার লম্বা এই দ্বীপ মোটরবাইকে বা গাড়িতে ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে ঘুরে দেখতে পারেন। 

এখানে সাধারণ থাকার হোটেল থেকে শুরু করে বিলাসবহুল পাঁচতারকা রিসোর্ট, বাংলো এবং ভিলা আছে। নানা উৎসব আয়োজনের জন্যও এই দ্বীপ নামকরা। বিশেষ করে বাফেলো ফাইটিং উৎসব, টেন স্টারস সামুই আর্ট পার্টি, স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্প, পোশাক, স্যুভেনির, খাবার ইত্যাদি সংক্রান্ত মেলা তো লেগেই থাকে। বার্ষিক ট্রায়াথলন আয়োজনের পাশাপাশি এখানে অনেক আন্তর্জাতিক জলক্রীড়ার আয়োজনও হয়। ক্রীড়াবিদ এবং ভক্তকুলের আনাগোনায় তখন দ্বীপ উৎসবের আনন্দে জেগে ওঠে। ব্যাংকক থেকে ফ্লাইটে বা বাসে কো সামুই আসা যায়। কো সামুই দ্বীপে এয়ারপোর্ট আছে। আর দ্বীপ ঘুরে দেখার জন্য ট্যাক্সি, গাড়ি, মোটরবাইক ইত্যাদির অভাব নেই। আছে নানা জলক্রীড়া আর সাইটসিয়িং প্যাকেজের অফার। কো সামুই ঘুরে আসতে জনপ্রতি বাজেট রাখুন ৫০ হাজার টাকা।

 

ল্যাংকাউই দ্বীপ, মালয়েশিয়া

ল্যাংকাউই দ্বীপ, মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ার ল্যাংকাউই দ্বীপের নাম অনেকেই শুনেছেন। এখানেও সমুদ্র আর পাহাড় পাবেন একসঙ্গে। এখানকর সবচেয়ে নামকরা বিচ —সেনাং আর তেংগাহ। এ ছাড়া আছে কক, তেনজুং, দাতাই, বুরাও বিচ। এখানে আইল্যান্ড হপিং ট্যুর, ম্যানগ্রোভ ট্যুর, দ্বীপ শহরে আন্ডার ওয়াটার ওয়ার্ল্ড, স্কাই ব্রিজসহ অনেক কিছু দেখার আছে। অন্তত দুই রাতের জন্য এখানে থাকা উচিত।

কুয়ালালামপুরের পর ল্যাংকাউ দ্বীপই সবচেয়ে নামকরা। এখানে ফ্লাইটে আসাই সবচেয়ে সুবিধার। দুই থেকে তিন মাস আগে টিকিট কাটলে মূল্যও অনেক কম পড়ে। এ ছাড়া কুয়ালালামপুর থেকে বাসে কুয়ালাপার্সি এসে ফেরিতে ল্যাংকাউই আসা যায়। বাসগুলো প্রায় সবই বিলাসবহুল। কুয়ালাপার্সি পর্যন্ত আসতে সময় লাগে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা। বাসভাড়া ৮০০ থেকে এক হাজার ২৫০ টাকার মধ্যে। আর সেখান থেকে ফেরিতে ল্যাংকাউই আসতে আরো হাজারখানেক টাকার মতো খরচ পড়বে। সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ আড়াই হাজার টাকা খরচে আপনি কুয়ালালামপুর থেকে ল্যাংকাউই আসতে পারবেন।

ল্যাংকাউইয়ে থাকার জন্য পাঁচতারকা থেকে শুরু করে বাজেটবান্ধব নানা মানের হোটেল আছে। মাঝারি মানের হোটেলে চার থেকে সাত হাজার টাকা রুমপ্রতি খরচ হবে।

 

গোয়া, ভারত

ভারতের গোয়ায় পাহাড় আর সমুদ্র একেবারে পাশাপাশি না থাকলেও কিছুটা দূরেই পাহাড়ের দিগন্তসীমা দেখতে পাবেন। গোয়াকে অঞ্চলভেদে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। উত্তর, দক্ষিণ আর ওল্ড গোয়া। মূলত উত্তর গোয়ার পানজি শহরেই পর্যটকরা বেশি যান। কারণ উত্তর গোয়া তুলনামূলকভাবে জমজমাট। পানজির কাছেই দোনাপাওলা, মিরামার বিচ। দক্ষিণ গোয়ার বিচগুলো অনেক শান্ত আর নিরিবিলি।

উত্তর গোয়া গেলে পানজিতে এবং দক্ষিণ গোয়ায় থাকুন আগোন্ডায়। আছে পাঁচতারকা থেকে শুরু করে তাঁবু পর্যন্ত। মাঝারি মানের হোটেল বা রিসোর্টগুলোতে রাতপ্রতি তিন হাজার থেকে শুরু করে ছয় হাজার টাকায় থাকতে পারবেন। সমুদ্রের তীরে তাঁবুতেও থাকতে পারেন হাজার দুয়েকের মধ্যে।

গোয়ায় দেখার আছে অনেক কিছু। জাদুঘর, চার্চ, লোকাল মার্কেট, পর্তুগিজ নিদর্শনসহ অনেক কিছু। জলক্রীড়ার প্রায় সব কিছুই এখানে উপভোগ করার সুযোগ আছে।

ঢাকা থেকে গোয়া যেতে সবচেয়ে ভালো হয় কানেক্টিং ফ্লাইটে কলকাতা হয়ে গেলে। দিনে দিনেই পৌঁছা  যায়। অথবা ঢাকা থেকে কলকাতা হয়ে ট্রেনে মুম্বাই গিয়ে সেখান থেকে বাসে গোয়া যেতে পারেন। এতে খরচ অনেক কম পড়বে; কিন্তু সময় লাগবে বেশি।

 

শ্রীলঙ্কা

শ্রীলঙ্কা

বেড়ানোর জন্য শ্রীলঙ্কা বেশ। এখানকার মানুষ অত্যন্ত ভদ্র ও অতিথিপরায়ণ। ছোট্ট দোকানিও দেখবেন আপনার সঙ্গে পরিষ্কার ইংরেজিতে কথা বলবে। ভ্রমণে অন্তত চার থেকে পাঁচ দিন সময় রাখুন। খরচ কমাতে শুধু কলম্বো আর ক্যান্ডি ঘুরলে পস্তাবেন। কারণ এক দিন বেড়ালেও বিমান ভাড়া তো সেই একই! তাই হোটেল আর গাড়ির খরচার কথা না ভেবে ডাম্বুলা, সিগিরিয়া, নিউ এরিলিয়া, বেনটোটা, গল, নিগাম্বো দেখে ফিরবেন। পারলে অনুরাধাপুরা ও জাফনাও যোগ করুন।

ঢাকা থেকে বিমানে কলম্বোর বন্দরনায়েক বিমানবন্দরে নেমে সোজা ক্যান্ডি চলুন। সকালের ফ্লাইটে গেলে ক্যান্ডি পৌঁছতে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে যাবে। কলম্বো থেকে ক্যান্ডি গাড়িতে সাড়ে চার ঘণ্টার রাস্তা। মাঝে পিন্নাওয়ালা থেমে দেখে নেবেন হাতিদের এতিমখানা। এখানে একটা রাত বাড়াতে পারলে ডাম্বুলা আর সিগিরিয়া ঘুরে দেখা যায়। তারপর চলুন ক্যান্ডিতে। ক্যান্ডিতে টুথ রেলিক মন্দির, অক্টাগন টাওয়ার ও কিংস প্যালেস দেখতেই সারা দিন লেগে যাবে। সন্ধ্যার পর শহরের শান্ত নিরিবিলি রাস্তায় নিজের পছন্দমতো ঘুরে বেড়ান। বৈচিত্র্যে ভরা খাবারের স্বাদ নিন। এখানে কেনাকাটার জন্য জেমস গ্যালারি বিখ্যাত। যেতে পারেন নুয়ারা এলিয়া চা বাগানে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এটি দুই হাজার মিটার উঁচুতে। এই শৈলশহরের প্রাকৃতিক দৃশ্য অপরূপ। বেনটোটা, গল, নিগাম্বো সমুদ্রসৈকতও ঘুরে আসতে পারেন।

ফিরতি পথে কলম্বোতে ঘুরে দেখুন পুরনো পার্লামেন্ট ভবন, আবাসিক এলাকা, সিটি শপিং কমপ্লেক্স, স্থানীয় খোলা বাজার, বন্দর নায়েক আন্তর্জাতিক কনফারেন্স হল, দুর্গ, সিরামিক করপোরেশন শোরুম। এগুলো দেখতে দেখতে সারা দিন কেটে যাবে।

 

মালদ্বীপ

মালদ্বীপ

ছোট ছোট শত শত দ্বীপ নিয়ে মালদ্বীপ। এক দ্বীপে এয়ারপোর্ট তো আরেক দ্বীপে হোটেল। ডিনার করতে চলুন আরেক দ্বীপে। সমুদ্রসৈকতে আছে বিলাসবহুল রিসোর্ট। স্বচ্ছ নীল জলের সামনে আরাম চেয়ারে শুয়ে সূর্যস্নান করুন বা বই পড়ুন। সাবমেরিনে চড়ে দেখুন সাগরতলের অপূর্ব জগৎ। স্নোর কেলিং, প্যারাগ্লাইডিংসহ নানা জলক্রীড়ার আয়োজন এখানে অফুরন্ত।

রাজধানী মালে শহরে দেখুন ন্যাশনাল মিউজিয়াম, মালে জামে মসজিদ, মুলি-আগি প্যালেস, ইসলামিক সেন্টার ইত্যাদি। সামান্য খরচ বাড়িয়ে হুলহুমালেতেও থাকতে পারেন। পেয়ে যাবেন দ্বীপে থাকার আমেজ। কম খরচের মধ্যে দ্বীপ-রিসোর্টে থাকতে চাইলে প্যারাডাইস আইল্যান্ড, ফান আইল্যান্ড বা মাফুশি আইল্যান্ডের বিকল্প নেই। এখানে দ্বীপ-রিসোর্টে থাকার অভিজ্ঞতাই ভিন্ন। তবে হাতে সময় ও পকেটে বাড়তি টাকা থাকা চাই। বর্তমানে শ্রীলঙ্কার মিহিন লঙ্কা এয়ারলাইন্সে প্রতিদিন ঢাকা-কলম্বো-মালে ফ্লাইট রয়েছে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা