kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

তারকার ঈদ

তারকার কোরবানির ঈদ

৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



তারকার কোরবানির ঈদ

তারকাদের এবারকার কোরবানির ঈদের পরিকল্পনা কী? কোথায় ঈদ করবেন তাঁরা? কোরবানির ঈদের কোনো স্মৃতি তাঁদের তাড়িয়ে বেড়ায়? জেনে নিন

এখনো কান্না পায়

নুসরাত ফারিয়া

গরু দেখতে মানুষ কোরবানির হাটে যায়। কিন্তু আমার কখনোই যেতে ইচ্ছা করেনি। গরু কোরবানি দেওয়ার সময় আমার খুব কষ্ট হয়, কান্না পায়। ক্যান্টনমেন্টে আমাদের বাসার নিচেই গরু কোরবানি দেওয়া হয় প্রতিবছর। বুঝতে শেখার পর থেকেই আমার ঈদের দিন শুরু হতো কান্না দিয়ে। গরু জবাই দেওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই কাঁদতে থাকতাম। এই যে এত বড় হয়েছি, এখনো কান্না পায়। কিভাবে জানি গরুও আগেই বুঝে যায়—ওদের কোরবানি দেওয়া হবে। ওদের চোখ দেখলেই বোঝা যায় ওরা কাঁদে, মন খারাপ করে থাকে। আমি কারো কষ্টই মেনে নিতে পারি না। অবশ্য সকালটা পার হলেই ঈদের আনন্দে মেতে উঠতাম। একান্নবর্তী পরিবারে বড় হয়েছি। এত মানুষ একসঙ্গে আনন্দ করছে দেখতে ভালো লাগত। সব সময়ই ঈদে পরিবারের মধ্যে আনন্দ খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করি। তাই ঢাকায় ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় নিজের বাড়িতেই ঈদ উদ্‌যাপন করে আসছি। এবারও তা-ই করব। ঈদে সারা দিনের কোনো শিডিউল নেই। যখন যা ইচ্ছা তা-ই করব। 

 

একবারই হাটে গিয়েছিলাম

আশনা হাবীব ভাবনা, অভিনেত্রী

ঈদে আমার কাছে সবচেয়ে উপভোগ্য লম্বা ছুটি। আগে স্কুল, কলেজে ছুটি পেতাম। এখন কাজ থেকে ছুটি পাই। আমরা ছোটবেলা থেকেই ঢাকায় ঈদ করি। এবারও ঢাকায় করব। এই ঈদে একে অপরের বাড়িতে-বাসায় মাংস পাঠায়। সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের এই ব্যাপারটা খুব ভালো লাগে। এতে সবার সঙ্গে আত্মিক ও সামাজিক বন্ধন আরো অটুট হয়। যারা সারা বছর মাংস খেতে পারে না, এ সময়টায় তারাও মাংস খেতে পারে। যদিও কোরবানির গরুর জন্য অনেক মায়া লাগে। সাত-আট বছর আগে একবার শখ করে গরুর হাটে গিয়েছিলাম। হাটের ভিড়বাট্টা আর বড় বড় শিংওয়ালা গরুর গুঁতা দেওয়া দেখে খুব ভয় পেয়েছিলাম। সেই ভয় এখনো কাটেনি। আর সাহস হয়নি গরুর হাটে যাওয়ার।

 

 

এই বুঝি গুঁতিয়ে দিল!

জাহিদ হাসান, অভিনেতা

ঈদের আনন্দ বুঝতে শেখার পর থেকেই উন্মুখ হয়ে থাকতাম কবে ঈদ আসবে! কখন বড় ভাইয়ের পিছু পিছু কোরবানির হাটে যাব। কয়েক দিন ঘুরে অনেক বাছাবাছির পর গরু কিনে বাড়ি ফিরতে ফিরতে কী যে আনন্দ হতো! অবশ্য খানিকটা আতঙ্কও কাজ করত, যদি দড়ি ছিঁড়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। কিংবা এই বুঝি খেপে গিয়ে গুঁতিয়ে দিল কাউকে। সেই আনন্দ এখন আর নেই। ব্যস্ততায় কোরবানির হাটেও আর যাওয়া হয় না। টানা কাজের চাপের ক্লান্তি কাটাতেই কেটে যায় ঈদের ছুটির দিনগুলো। পুরো পরিবারের সবাই মিলে গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জে ঈদ উদ্‌যাপন করি। এবারও তা-ই করব। ইচ্ছা আছে এবার ছেলে আর মেয়েকে নিয়ে কান্দাপাড়ার গরুর হাটে যাব। ওদের ছেলেবেলায় গরুর হাটের স্মৃতি থাকবে না তা কী হয়!

 

কসাই সেজে বসেছিলাম

ওমর সানী, অভিনেতা

একটা মজার স্মৃতি দিয়ে শুরু করি। বিয়ের পর কোরবানির ঈদে মৌসুমী আমাকে নতুনরূপে আবিষ্কার করে। ঈদের দিন সকালে গরু জবাই করার পর গরুর মাংস কাটতে বসেছিলাম। স্যান্ডো গেঞ্জি পরে পুরোপুরি কসাই সেজেই বসেছিলাম। এটা দেখে মৌসুমী যতটা না অবাক হয়েছে, তার চেয়ে বেশি হেসেছে। ঈদ এলেই সেই স্মৃতির কথা এখনো ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে শেয়ার করে সে। আগে আমি কখনো কসাই দিয়ে মাংস কাটাতাম না। নিজেই করতাম। এখন আর করা হয় না। ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে গরুর হাটে যেতাম। গরুর হাটে যাওয়ার অনেক স্মৃতি আছে। একটা স্মৃতি খুব মনে পড়ে। তখন জাতীয় সংসদ ভবনের ফাউন্ডেশনের কাজ চলছিল। ওখানে গরুর হাট বসত। হাটে প্রচুর কাদা ছিল সেবার। আমি তখন অনেক ছোট। বাবার হাত ধরে হাঁটছিলাম। এখন সংসদ ভবনটা দেখলেই বাবার সঙ্গে গরু কেনার সেই স্মৃতি মনে পড়ে।  গত বছর ঢাকায় ঈদুল আজহা উদ্‌যাপন করেছি, এবারও ঢাকায়ই করব।

 

 

কোরবানি আমাকে দাও

তাসকিন রহমান, অভিনেতা

অনেক বছর অস্ট্রেলিয়ায় থাকার কারণে দেশের ঈদ খুব মিস করেছি। এবার অবশ্য ঢাকায়ই ঈদ করছি। গুলশানের বাড়িতে পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদ করব। কোরবানির জন্য পশু একটু আগেভাগেই কেনা হয়। কোরবানি নিয়ে ছোটবেলার একটা মজার স্মৃতি খুব মনে পড়ে। তখন বুঝতাম না, কেন পশু জবাই করা হয়। বিষয়টা খুব নির্মম মনে হতো। কোরবানির পশুর সঙ্গে সহজেই সখ্য হয়ে যেত। তাই কষ্টটা আরো বেশি লাগত। তখন আমার বয়স ছয়-সাত বছর। সেবার তো রীতিমতো কোরবানিতে বাধাই দিলাম। দেখা গেল, ঈদের দিন জোর কান্না শুরু করেছি। গরুটা জবাই করতে দেবই না। জেদ ধরে বললাম, দরকার হলে আমাকে কোরবানি করো, তবু ওকে নয়। ঈদের সারা দিন মাংস কাটা আর বিলি-বণ্টন নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয়। ঘোরাঘুরির সময় তেমন পাই না। বিকেলে সুযোগ পেলে একটু ঘুরতে বের হওয়ার ইচ্ছা আছে। এফডিসিতে যাব বন্ধু ও পরিজনদের সঙ্গে দেখা করতে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা