kalerkantho

সোমবার । ২৮ নভেম্বর ২০২২ । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

পটোল

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল   

৬ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পটোল

[সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের তৃতীয় অধ্যায়ে পটোলের উল্লেখ আছে]

পটোল কিছুটা শসা ও ক্ষীরা গোত্রের একটি জনপ্রিয় সবজি। মূলত গ্রীষ্মকালীন সবজি হলেও আমাদের দেশে পটোল সারা বছরই পাওয়া যায়। এর বৈজ্ঞানিক নাম Trichosanthes dioica। এটি আমাদের দেশসহ ভারতের পূর্বাঞ্চলে বিশেষ করে ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, বিহার, উত্তর প্রদেশে ভালো জন্মে।

বিজ্ঞাপন

আমাদের দেশে বৃহত্তর রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা, কুষ্টিয়া ও যশোর জেলায় ব্যাপকভাবে পটোলের চাষ করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ‘বারি পটোল-১’ ও ‘বারি পটোল-২’ নামে পটোলের দুটি জাত আবিষ্কার করেছে।

পটোল কাণ্ড এবং টিউবারের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে। শাখা কলমের ক্ষেত্রে পরিপক্ব কাণ্ড ব্যবহার করা হয়। এদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে কাণ্ড মরে গেলেও শিকড় জীবিত থাকে। ফলে এই শিকড় থেকেই আবার গাছ জন্মে।

উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু পটোল চাষের জন্য বেশি তাপমাত্রা ও সূর্যালোকের প্রয়োজন। বন্যামুক্ত ও পানি জমে না এমন বেলে দো-আঁশ বা দো-আঁশ মাটি পটোল চাষের জন্য ভালো। নদীর তীরে পলিযুক্ত মাটিতেও পটোল চাষ করা যায়। অক্টোবর থেকে নভেম্বর অথবা ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাস পটোল রোপণের উপযুক্ত সময়। পটোলের উৎপাদনমাত্রা ভালো। ৪৫ থেকে ৫০ দিনের মধ্যে ফসল পাওয়া যায়। তিন থেকে চার দিন পর পর পটোল তোলা যায়। তরকারি হিসেবে পটোলের বেশ চাহিদা রয়েছে। পটোলের শ্রমিক খরচ কম। পটোল লম্বায় ৫ থেকে ১৫ সেমি পর্যন্ত হয়ে থাকে। কচি অবস্থায় সকাল অথবা বিকেলে পটোল সংগ্রহ করতে হবে। সাধারণত জাতভেদে ফুল ফোটার ১০-১২ দিনের মধ্যে পটোল সংগ্রহের উপযোগী হয়।

পটোলের তৈরি অনেক খাবারই খেতে সুস্বাদু হয়। আমাদের দেশে পটোলের দোলমা, পটোলের কোরমা, পটোল পোস্ত কিংবা ইলিশ-পটোল বেশ জনপ্রিয়। পটোল ভাজি, ভর্তা, ঝোল নানাভাবে খাওয়া যায়। এমনকি ফেলনা নয় পটোলের খোসাও। পটোলের খোসা দিয়ে তৈরি করা যায় সুস্বাদু ভর্তা।

নিয়মিত পটোল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এটি হজমশক্তি বাড়ায়। কাশি, জ্বর, রক্ত, দৃষ্টি ভালো করে, হার্টের শক্তি বৃদ্ধি, পিত্তজ্বর, কৃমি সাড়ায় এবং শরীর ঠাণ্ডা রাখে। এতে ভিটামিন ‘এ’, ভিটামিন ‘বি১’, ভিটামিন ‘বি২’ ও ভিটামিন ‘সি’, ক্যালসিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। আয়ুর্বেদে পটোল গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সমাধানে ব্যবহার করা হয়।

[আরো বিস্তারিত জানতে পত্রপত্রিকায় পটোল সম্পর্কিত লেখাগুলো পড়তে পারো। ]



সাতদিনের সেরা