kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ডায়াবেটিস

[নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে ডায়াবেটিসের উল্লেখ আছে]

৪ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডায়াবেটিস

রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকাকে ডায়াবেটিস বলে। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ। এই রোগ হলে শরীর যথেষ্ট পরিমাণে বা কোনো ইনসুলিনই উৎপাদন করে না অথবা উৎপাদিত ইনসুলিন কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে না। বাংলায় একে বহু মূত্ররোগ বলে।

বিজ্ঞাপন

এই রোগ হলে রোগীর বারবার প্রস্রাবের বেগ হয় বলে বাংলায় ডায়াবেটিসের এমন নামকরণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

ডায়াবেটিসের তিনটি প্রধান ধরন রয়েছে। যথা—টাইপ-১, টাইপ-২ ও গর্ভকালীন ডায়াবেটিস।

টাইপ-১ ডায়াবেটিস হয় যখন অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষ বিনষ্ট হওয়ার ফলে যথেষ্ট পরিমাণে ইনসুলিন উৎপাদিত হয় না। এটি যেকোনো বয়সে হতে পারে, তবে শিশু ও তরুণদের মধ্যে এই হার সবচেয়ে বেশি। টাইপ-২ ডায়াবেটিস শুরু ইনসুলিন রোধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, যেখানে কোষ ইনসুলিনের প্রতি যথাযথ সাড়া প্রদানে ব্যর্থ হয়।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হলো তৃতীয় প্রধান ধরন। এটি হয় যখন একজন গর্ভবতী মহিলা, যার এর আগে কখনো ডায়াবেটিসের ইতিহাস ছিল না; কিন্তু গর্ভধারণ করার পর তার রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থেকে হৃদরোগ, কিডনি বৈকল্য, পক্ষাঘাত, চক্ষুরোগ, পায়ে পচনশীল ক্ষত, মাড়ির প্রদাহ, মূত্রাশয়ের রোগ প্রভৃতি জটিলতা দেখা দেয়। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখাটা খুবই গুরুত্ববহ। ২০১৯ সালের হিসাব অনুযায়ী সারা বিশ্বে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ছিল ৪৬ কোটি ৩০ লাখ। ২০২১ সালে এসে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩ কোটি ৭০ লাখে।

ডায়াবেটিস হওয়ার আগেই একে প্রতিরোধ করা উত্তম। নিয়ন্ত্রিত এবং সুশৃঙ্খল জীবন যাপন ও খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে খুব সহজেই একে অনেকাংশে প্রতিরোধ করা যায়। অধিক ক্যালরিযুক্ত খাবার, ফাস্ট ফুড, কোমল পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাবার, চকোলেট, আইসক্রিম ইত্যাদি পরিহার করতে পারলে ডায়াবেটিস থেকে অনেকাংশে মুক্ত থাকা যায়।

ডায়াবেটিসের জটিলতাগুলো রোগের প্রাথমিক ধাপ থেকেই শুরু হয়। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয়, তাই ডায়াবেটিসের চিকিৎসা ও জটিলতা প্রতিরোধের অন্যতম পূর্বশর্ত। বয়স ৪৫ বা তার বেশি হলে, ওজন বেশি হলে, রক্তসম্পর্কীয় নিকটাত্মীয়ের ডায়াবেটিস থাকলে, শারীরিক পরিশ্রমের ঘাটতি, মহিলাদের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বা অধিক ওজনের সন্তান প্রসবের পূর্ব ইতিহাস থাকলে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা জরুরি।

মুখে সেবন করা ওষুধ, ইনসুলিন, স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের মাধ্যমে ডায়বেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। নিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস নিয়ে একজন রোগী দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

[আরো বিস্তারিত জানতে পত্রপত্রিকায় ডায়াবেটিস সম্পর্কিত লেখাগুলো পড়তে পারো]



সাতদিনের সেরা