kalerkantho

রবিবার । ৪ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

কাঠমালতি

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কাঠমালতি

[নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ের ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পে কাঠমালতির উল্লেখ আছে]

গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ কাঠমালতি Apacynaceae পরিবারের Tabernaemontana- গণের সদস্য। ফুলের জন্য গাছটি বেশি পরিচিত। কাঠমালতিকে কাঠমল্লিকা, কাঠকরবী, চাদনী, অনন্ত সাগর, Crape jasmine, Carnation of India ইত্যাদি নামেও ডাকা হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম Tabernaemontana Pandacaqui. কাঠমালতি গাছ চীন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, পাপুয়া নিউগিনি, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি স্থানে পাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন

মালতি নাম হলেও এটি টগর গোত্রের ফুল। টগর ফুল গাছের সঙ্গে এই গাছের অনেক মিল। শুধু ফুল দেখতে কিছুটা আলাদা। একটু বড় ডালপালা ছড়িয়ে হয় কাঠমালতির গাছ। এই গাছ ১.৫-৪ মিটার লম্বা ও চিরসবুজ উদ্ভিদ। ঝাঁকড়া মাথার জন্য এই গাছ সুন্দর। ডালগুলোও সোজা ওঠে না, বহু শাখা-প্রশাখা নিয়ে বাগানের শোভা বাড়ায়। সুন্দর করে ছেঁটে দিলে চমৎকার ঘন ঝোপ হয়। কলম করে চারা করা যায়, আবার বর্ষাকালে ডাল লাগালেও গাছ হয়।

এই গাছের পাতা দৈর্ঘ্যে ৫-১২ সেন্টিমিটার এবং প্রস্থে ২-৫ সেন্টিমিটার ও উজ্জ্বল সবুজ। পাতার আগা ক্রমশ সরু। এই গাছের ফুলের রং সাদা। পাঁচ পাপড়িওয়ালা ফুল দেখলেই মনে হবে পাখা, যেন সামান্য বাতাসেই ঘুরতে শুরু করে দেবে চরকির মতো। সবুজ পাতার মাঝে সাদা ফুলগুলো দেখতে খুব ভালো লাগে। শীত ছাড়া প্রায় সারা বছরই ফুল ফোটে। গন্ধহীন বা হালকা সুগন্ধিযুক্ত দুই ধরনেরই কাঠমালতি ফুল পাওয়া যায়। পাতার কক্ষে বা ডালের আগায় সাদা ফুলে গাছ ভরে যায়। বন-জঙ্গলেও এই গাছ পাওয়া যায়।

কাঠমালতি সমতল ভূমির গাছ হলেও পর্বতের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও দেখা যায়। বাংলাদেশের বনে-বাদাড়ে এরা এমনিতেই জন্মে। কাণ্ডের ছাল ধূসর। গাছের পাতা বা ডাল ছিঁড়লে সাদা দুধের মতো কষ ঝরে বলে একে ‘ক্ষীরী বৃক্ষ’ বলা যায়।

কাঠমালতির ভেষজগুণ রয়েছে। শ্বাসের সমস্যায় এই গাছের পাতার রস খেলে উপকার পাওয়া যায় বলে কারো কারো ধারণা। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে পাতার রস এবং পাতা ও ফুলের রস উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। এ ছাড়া এ গাছের মূল দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে আমাশয় ভালো হয়।

[আরো বিস্তারিত জানতে পত্রপত্রিকায় কাঠমালতি সম্পর্কিত লেখাগুলো পড়তে পারো। ]



সাতদিনের সেরা