kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০২২ । ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

পরাগায়ণ

[পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক বিজ্ঞান বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে পরাগায়ণের উল্লেখ আছে]

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরাগায়ণ

যে পদ্ধতিতে ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণু সেই ফুল বা একই গাছের অন্য ফুল বা একই প্রজাতির অন্য কোনো উদ্ভিদের ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হয় তাকে পরাগায়ণ (Pollination) বলে। একটি ফুলের প্রতিটি উর্বর পুংকেশরের মাথায় একটি করে পরাগধানী থাকে। পরাগধানীর ভেতর পরাগরেণু (Pollen grain) উৎপন্ন হয়। এক সময় পরাগধানী ফেটে যায় এবং পরাগরেণু কীটপতঙ্গ, বাতাস বা অন্য কোনো বাহকের মাধ্যমে একই ফুলে বা একই গাছের অন্য একটি ফুলের বা একই প্রজাতির অন্য একটি গাছের কোনো একটি ফুলের গর্ভমুণ্ডের সঙ্গে লেগে যায়।

বিজ্ঞাপন

এভাবে একটি ফুলের সফল পরাগায়ণ ঘটে এবং উদ্ভিদের বংশবিস্তারে সহায়তা করে।

উদ্ভিদে পরাগায়ণ প্রধানত দুই পদ্ধতিতে হয়। যথা—স্ব-পরাগায়ণ (Self-pollination) ও পর-পরাগায়ণ (Cross-pollination)।

কোনো ফুলের পরাগরেণু সেই ফুলেই বা একই উদ্ভিদের অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়াকে স্ব-পরাগায়ণ বলে। এ পদ্ধতিতে প্রজাতির বিশুদ্ধতা অটুট থাকে। অর্থাৎ এ পদ্ধতিতে জন্ম নেওয়া উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য মাতৃ-উদ্ভিদের হুবহু অনুরূপ হয়। এ ক্ষেত্রে পরাগসংযোগ প্রায় নিশ্চিত বলে পরাগরেণু নষ্ট হওয়ার হার কম। বাহকের প্রয়োজন হয় না বললেই চলে। তবে এ পদ্ধতিতে সাধারণত বংশানুক্রমে কোনো নতুন গুণের আবির্ভাব হয় না। নতুন বংশধরদের অভিযোজন ক্ষমতা বা নতুনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতা কমে। এ প্রজনন অব্যাহত থাকলে অভিযোজন ক্ষমতা হ্রাসের কারণে কোনো এক পর্যায়ে প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটতে পারে। গাছের ফলে কম সহনশীল ও কম জীবনীশক্তিসম্পন্ন বীজের সৃষ্টি হয়।

যে প্রক্রিয়ায় পরাগধানী থেকে পরাগরেণু কোনো মাধ্যম (বাতাস) বা বাহক (পোকামাকড় ও পাখি) দ্বারা একই প্রজাতির অন্য একটি গাছের ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হয় তাকে পর-পরাগায়ণ বলে। এ ক্ষেত্রে ফুলগুলোতে জিনোটাইপের ভিন্নতা থাকে বিধায় এর ফল থেকে যে বীজ উৎপন্ন হয় তাতেও জিনোটাইপের পরিবর্তন হয়। ফলে এ বীজ থেকে যে গাছ হয় তার বৈশিষ্ট্য পুরোপুরি মাতৃ-উদ্ভিদের মতো হয় না; পরবর্তী বংশধরদের মাঝে নতুন প্রকরণ কিংবা নতুন প্রজাতিরও উদ্ভব হতে পারে। এ পদ্ধতিতে সৃষ্ট বীজ অধিক সহনশীল হয়।

এ পরাগায়ণে অসুবিধা হচ্ছে এটি বাহকের ওপর নির্ভরশীল। বাহকনির্ভর পরাগায়ণ বলে এ পরাগায়ণ প্রায় অনিশ্চিত। অধিকাংশ পরাগরেণু নষ্ট হয়। প্রজাতির বিশুদ্ধতা রক্ষিত হয় না।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

[আরো বিস্তারিত জানতে পত্রপত্রিকায় পরাগায়ণ সম্পর্কিত লেখাগুলো পড়তে পারো। ]



সাতদিনের সেরা