kalerkantho

রবিবার । ২ অক্টোবর ২০২২ । ১৭ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

অষ্টম শ্রেণি : অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্ন বাংলা

আতাউর রহমান সায়েম, সিনিয়র সহকারী শিক্ষক, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অষ্টম শ্রেণি : অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্ন বাংলা

মাইকেল মধুসূদন দত্তের সমাধিস্মারক

কবিতা

বঙ্গভূমির প্রতি

মাইকেল মধুসূদন দত্ত

 

বহু নির্বাচনী প্রশ্ন

 

১। ‘মধুহীন করো না গো তব মনঃকোকনদে’ কথাটির অর্থ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : ‘মধুহীন করো না গো তব মনঃকোকনদে’ বলতে কবির মাতৃভূমি যেন তাঁকে স্নেহধারা থেকে বঞ্চিত না করে, তা বোঝানো হয়েছে।

কবি মধুসূদন দত্ত মনে করেছিলেন যে তিনি বিলেতে না গেলে বড় কবি হতে পারবেন না।

বিজ্ঞাপন

তাই তিনি স্বদেশ ত্যাগ করে বিলেতে যান। নিজের ভাষা এবং দেশ ত্যাগ করা যে তাঁর মারাত্মক ভুল হয়েছে, এটা ভেবে তিনি অনুতপ্ত হন। তাই জন্মভূমির কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, দেশমাতৃকা যেন তার স্নেহধারা থেকে তাঁকে বঞ্চিত না করে। তাঁর ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিয়ে তাঁকে যেন বক্ষে ধারণ করে।

 

২। স্বদেশের প্রতি কবির শ্রদ্ধা ও একাগ্রতা প্রকাশের কারণ কী?

উত্তর : স্বদেশের প্রতি কবির শ্রদ্ধা ও একাগ্রতা প্রকাশের কারণ স্বদেশের প্রতি তাঁর ভালোবাসা।

দেশের প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্য থেকেই কবি স্বদেশের প্রতি শ্রদ্ধা ও একাগ্রতা প্রকাশ করেছেন। কবি দেশকে নিজের মায়ের আসনে বসিয়েছেন। আর তাই সন্তান যেমন মায়ের কাছে মিনতি জানায়, ভালোবাসার নিবেদন করে, ঠিক সেভাবেই কবিও দেশকে ভালোবেসে নিজের ভালোবাসা নিবেদন করেছেন। দেশকে মায়ের স্থানে বসিয়েছেন তিনি আর মাকে তিনি নিজের ভালোবাসার কথা প্রকাশ করেছেন এভাবে। জন্মভূমির প্রতিটি কণায় লেগে আছে তাঁর স্মৃতিময় ভালোবাসা। নিজের মাতৃভূমির প্রতি তাঁর এই অনুভূতি থেকে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে।

 

৩। ‘কহ গো শ্যামা জন্মদে’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

উত্তর : কবি কোন গুণের জন্য অমরতা প্রত্যাশা করবেন সেই বিষয়টি জানতে শ্যামল জন্মভূমির কাছে প্রশ্ন করেছেন।

কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত বিদেশে থাকলেও দেশের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ আলোচ্য কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে। কবি দেশকে ভালোবাসেন বলেই স্বদেশের স্মৃতিতে অমর হয়ে থাকতে চান। কিন্তু তিনি মনে করেন, তাঁর এমন কোনো গুণ নেই, যার কারণে তিনি অমরতা লাভ করতে পারেন। তবে তিনি নতুন করে সৃষ্টিশীল লেখা লিখে পাঠকের মনে অমর হয়ে থাকতে চান। কবি তাই শ্যামল জন্মভূমির কাছে উক্ত কথা তুলে ধরার চেষ্টা করেন।

 

৪। ‘মধুহীন করো না’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

উত্তর : ‘মধুহীন করো না’ বলতে মাতৃভূমি কবিকে যেন স্নেহধারা থেকে বঞ্চিত না করে, তা বোঝানো হয়েছে।

কবি মধুসূদন দত্ত মনে করেছিলেন যে তিনি বিলেতে না গেলে বড় কবি হতে পারবেন না। বিদেশে যাওয়া যে তাঁর মারাত্মক ভুল হয়েছে, এটা ভেবে তিনি অনুতপ্ত হন এবং জন্মভূমির কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন, দেশমাতৃকা যেন তাঁকে স্নেহধারা থেকে বঞ্চিত না করে। তাঁর ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিয়ে তাঁকে যেন বক্ষে ধারণ করে, সেই প্রত্যাশা করেছেন।

 

৫। ‘মনের মন্দিরে সদা সেবে সর্বজন’ পঙক্তিটির অর্থ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : কেউ যদি তার কর্মগুণ দিয়ে লোকের হৃদয়ে প্রবেশ করতে পারে, তবে সর্বজনের মনের মন্দিরে সে সদা পূজা পেতে থাকে।

মানুষ তার কর্মগুণে মৃত্যুর পরও মানুষের মাঝে বেঁচে থাকে। কেননা কর্মগুণই তাকে বাঁচিয়ে রাখে। একজন মানুষ তখনই সর্বজনের মনের মন্দিরে সদা সেবিত হয় যখন সে তার সৃষ্টি দিয়ে, কর্ম দিয়ে সর্বজনের মনের মন্দিরে আসন করে নেয়। অতএব কেউ তার সৃষ্টিকর্ম দিয়ে লোকের হৃদয়মন্দিরের দেবতা হলে সর্বজনের মনের মন্দিরে সার্বক্ষণিকই সে সেবিত হবে।

 



সাতদিনের সেরা