kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৩০ সফর ১৪৪৪

রামসার কনভেনশন

[নবম ও দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে রামসার কনভেনশনের উল্লেখ আছে।]

১৯ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রামসার কনভেনশন

বাংলাদেশের প্রথম রামসার সাইট সুন্দরবন

রামসার কনভেনশন (Ramsar Convention) হলো বিশ্বব্যাপী জৈবপরিবেশ রক্ষার একটি সম্মিলিত প্রয়াস। ১৯৭১ সালে ইরানের রামসারে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ‘কনভেনশন অন ওয়েটল্যান্ডস’ নামক একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। পরবর্তী সময়ে এই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ মোট ১৭১টি দেশ স্বাক্ষর করে। ১৯৭৫ সালের ২১ ডিসেম্বর থেকে এই চুক্তি কার্যকর হয়।

বিজ্ঞাপন

১৯৯২ সালে বাংলাদেশ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। ১৯৯৭ সাল থেকে ২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব জলাভূমি দিবস হিসেবে IUCN, UNESCO-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে ১০০টিরও বেশি দেশে পরিবেশ সচেতন নাগরিকরা পালন করে আসছেন।

প্রতি তিন বছর অন্তর অন্তর চুক্তিকারী দেশের প্রতিনিধিরা Conference of the Parties (COP) হিসেবে মিলিত হয়। COP-এর সর্বশেষ সম্মেলন (২৬তম) ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের গ্লাসগোর এসইসি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের সভাপতি ছিলেন যুক্তরাজ্যের ক্যাবিনেট মন্ত্রী অলোক শর্মা।

আন্তর্জাতিক গুরুত্বের জলাভূমির তালিকায় ২০১৮ সালের মে মাস পর্যন্ত ২.১ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটারজুড়ে (আট লাখ ১০ হাজার বর্গমাইল) দুই হাজার ৩৩১টি রামসার সাইট অন্তর্ভুক্ত হয়। সর্বাধিক সাইটের দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য ১৭৫টি সাইট নিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছে। ১৪২টি সাইট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে মেক্সিকো। তালিকাভুক্ত জলাভূমির বৃহত্তম এলাকা হলো বলিভিয়ায়, যা প্রায় এক লাখ ৪৮ হাজার বর্গকিলোমিটার (৫৭ হাজার বর্গমাইল)।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য, কৃষি, মৎস্য ও পর্যটনসহ নানা ক্ষেত্রে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো জলাভূমি। জীববৈচিত্র্যের ক্ষেত্রে আমাদের দেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ উদাহরণ হলো হাওরাঞ্চল ও সুন্দরবন। এ ছাড়া আড়িয়ল বিল ও চলন বিল এ দেশের গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি। ১৯৯২ সালের ২১ মে সুন্দরবনকে রামসার সাইট (রামসার কনভেনশন কর্তৃক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জলাভূমি) হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

আমাদের দেশের ‘টাঙ্গুয়ার হাওর’ হলো অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের আরেক নিদর্শন। সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত টাঙ্গুয়ার হাওরে ২০৮ প্রজাতির পাখি, ১৫০ প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ, ১৫০ প্রজাতির মাছ, ৩৪ প্রজাতির সরীসৃপ ও ১১ প্রজাতির উভচর প্রাণী রয়েছে। প্রতিবছর শীতকালে প্রায় ২০০ প্রজাতির অতিথি পাখির আগমন ঘটে এখানে। ২০০০ সালের ২৯ জানুয়ারি টাঙ্গুয়ার হাওরকে সুন্দরবনের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় ‘রামসার সাইট’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রস্তাবিত আছে ‘হাকালুকি হাওর’।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

[আরো বিস্তারিত জানতে পত্রপত্রিকায় রামসার কনভেনশন সম্পর্কিত লেখাগুলো পড়তে পারো]



সাতদিনের সেরা