kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

রামসাগর দিঘি

[পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক বিজ্ঞান বইয়ের তৃতীয় অধ্যায়ে দিঘির উল্লেখ আছে। দিঘি বলতে সাধারণত বড় পুকুর বা সরোবরকে বোঝায়। আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় দিঘির নাম রামসাগর। নিচে এর সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।]

১৬ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রামসাগর দিঘি

রামসাগর হচ্ছে দিনাজপুর জেলার তাজপুর গ্রামে অবস্থিত মানবসৃষ্ট একটি দিঘি। এটি দিনাজপুর জেলা শহর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। শহর থেকে যে পাকা রাস্তাটি রামসাগর দিঘিতে পৌঁছেছে, একসময় সেটি মুর্শিদাবাদ সড়ক নামে পরিচিত ছিল। তটভূমিসহ রামসাগরের আয়তন ৪,৩৭,৪৯২ বর্গমিটার।

বিজ্ঞাপন

মূল দিঘিটি উত্তর-দক্ষিণে ১০৭৯ মিটার এবং পূর্ব-পশ্চিমে ১৯২.৬ মিটার। দিঘিটির গভীরতা প্রায় ৯.৫ মিটার। দিঘির পশ্চিম পারের মধ্যখানে একটি ঘাট ছিল, যার অবশেষ এখনো বিদ্যমান। বিভিন্ন আকৃতির বেলেপাথর স্লাব দিয়ে নির্মিত ঘাটটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ছিল যথাক্রমে ৪৫.৮ মিটার ও ১৮.৩ মিটার।

পলাশী যুদ্ধের প্রাক্কালে রাজা রামনাথ দিঘিটি খনন করিয়েছিলেন, যাঁর নামানুসারে দিঘিটির নামকরণ হয়েছে। সে সময় বাংলার নবাব ছিলেন আলীবর্দী খান। আশপাশের গ্রামবাসীকে পানি সরবরাহ করার উদ্দেশ্যে দিঘিটি খনন করা হয়। বলা হয়ে থাকে যে দেশের এই স্থানে ১৭৫০ থেকে ১৭৫৫ সাল পর্যন্ত খরা ও দুর্ভিক্ষ নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছিল। রাজা রামনাথ সম্ভবত দুর্ভিক্ষপীড়িত অধিবাসীদের দুর্দশা লাঘবের উদ্দেশ্যে ‘কাজের বিনিময়ে খাদ্য’ কর্মসূচির ভিত্তিতে দিঘিটি খননের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। দিঘিটি খননে মোট ব্যয় হয়েছিল তৎকালীন আমলের প্রায় ৩০ হাজার টাকা। মাত্র ১৫ দিনে হাজার হাজার শ্রমিক দিন-রাত পরিশ্রম করে বিশালাকার এই দিঘি খনন করেন।

এই দিঘিটি বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে আসে ১৯৬০ সালে। ১৯৯৫-৯৬ সালে এই দিঘিকে আধুনিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়। ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল এটিকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে রামসাগর একটি বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। দিঘি এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য করপোরেশন বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দিঘিটির পশ্চিম পাশে একটি রেস্টহাউস এবং বিশাল জলাশয়ের চারপাশে একাধিক ক্ষুদ্র বিনোদনকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। রামসাগর জাতীয় উদ্যানে গড়ে তোলা হয়েছে একটি মিনি চিড়িয়াখানা। এতে অজগর, বানর এবং কিছু হরিণসহ বিভিন্ন প্রাণী স্থান পেয়েছে। শিশুদের বিনোদনের জন্য এখানে রয়েছে শিশু পার্ক। পিকনিকের সুবিধা নিশ্চিত করতে রামসাগরে রয়েছে সাতটি পিকনিক কর্নার। এ ছাড়া ২০১০ সালের ১০ অক্টোবর রামসাগর জাতীয় উদ্যানে সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে রামসাগর গ্রন্থাকার নামে একটি পাঠাগার গড়ে তোলা হয়েছে।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

[আরো বিস্তারিত জানতে বাংলাপিডিয়া ও পত্রপত্রিকায় ‘রামসাগর দিঘি’ সম্পর্কিত লেখাগুলো পড়তে পারো]



সাতদিনের সেরা