kalerkantho

শুক্রবার । ৭ অক্টোবর ২০২২ । ২২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

কুরচিগাছ

[ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের চতুর্থ অধ্যায়ে কুরচিগাছের উল্লেখ আছে]

৮ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কুরচিগাছ

কুরচি Apocynaceae পরিবারের একটি ক্ষুদ্র পত্রমোচী বৃক্ষ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Holarrhena pubescens. পাহাড়-পর্বতে এই গাছ হরহামেশাই দেখা যায় বলে হয়তো এর অন্য নাম গিরিমল্লিকা। এ ছাড়া কুরচি গাছটি কুটজ, ইন্দ্রযব, ইন্দ্রজৌ, বৎসক, কলিঙ্গ, প্রাবৃষ্য, শত্রুপাদপ, সংগ্রাহী, পাণ্ডুরদ্রুম, মহাগন্ধ, কোটিশ্বর নামেও পরিচিত। কুরচিগাছের আদি বাসস্থান মধ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারতীয় উপমহাদেশ, ইন্দোচীন এবং চীনের কিছু অংশে।

বিজ্ঞাপন

‘সূর্যের আলোর ভাষা আমি কবি কিছু কিছু চিনি,/কুরচি, পড়েছ ধরা, তুমিই রবির আদরিণী।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘বনবাণী’ কবিতায় এভাবেই কুরচিকে সম্বোধন করেছেন। কুরচিগাছের কাণ্ড সরল, উন্নত এবং শীর্ষ অজস্র ঊর্ধ্বমুখী শাখায় ডিম্বাকৃতি, কখনো বা এলোমেলো। বাকল অমসৃণ, হালকা ধূসর। ডালপালা খুব কম। শীতের শেষে গাছের পাতা ঝরে যায়। বসন্তের শেষে ও গ্রীষ্মের শুরুতে সে ন্যাড়া গাছে প্রথম ফুল ফোটে। সে সময় কুরচির সৌন্দর্য ও সৌরভ মিলে তাকে করে তোলে অনন্য অসাধারণ।

কুরচিগাছের স্বাভাবিক উচ্চতা ১০ থেকে ২০ ফুট। এই গাছে সারা বর্ষায় কয়েকবার ফুল ফোটে। ফুল রঙ্গন ফুলের মতো, নিচের অংশ নলাকৃতি এবং ওপরের অংশ মুক্ত পাপড়িতে ছড়ানো। পাঁচটি পাপড়ির মুক্ত অংশ ঈষৎ বাঁকানো, বর্ণ দুধসাদা এবং তীব্র সুগন্ধি কিন্তু মধুর। গোত্রীয় বৈশিষ্ট্যের রীতি অনুযায়ী পরাগচক্র দলের গভীরে অদৃশ্য। দুটি গর্ভকেশর প্রায় মুক্ত এবং এ জন্য একই ফুল থেকে দুটি ফল জন্মে। এই সজোড় ফল দুটি সরু, লম্বা এবং বীজ বহুসংখ্যক, রোমশ ও ঘনবাদামি। বাতাসে বীজ ছড়ায়।

আমাদের দেশে গ্রামগঞ্জের সর্বত্র কুরচিগাছ চোখে পড়ার মতো, বিশেষ করে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও মধুপুরের শালবনে প্রচুর কুরচিগাছের দেখা মেলে। ঢাকায় রমনা উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানেও কুরচিগাছ আছে।

পুরো কুরচিগাছটিই ঔষধি গুণে ভরা। কুরচিগাছের বাকল ডায়রিয়া ও পাতলা পায়খানার মহৌষধ। হাঁপানি রোগে শিকড়ের রস দারুণ উপকারী। কোষ্ঠকাঠিন্য, প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া, কৃমি রোগ ও মুখের ঘায়ে এর শিকড়, পাতা ও বাকল খুব কার্যকর।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

[আরো বিস্তারিত জানতে পত্রপত্রিকায় কুরচিগাছ সম্পর্কিত লেখাগুলো পড়তে পারো]

 



সাতদিনের সেরা