kalerkantho

শনিবার । ১৩ আগস্ট ২০২২ । ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৪ মহররম ১৪৪৪  

একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি : অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্ন হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্র

মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, প্রভাষক, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ সিদ্ধেশ্বরী কলেজ, ঢাকা

২৯ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি : অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্ন হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্র

অঙ্কন : মাসুম

দ্বিতীয় অধ্যায়

হিসাবের বইগুলো

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

[পূর্ব প্রকাশের পর]

৪৩।   শনাক্তকরণ কী?

     উত্তর : কোনো ঘটনা ঘটার পর তার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়াকে শনাক্তকরণ বলে।

৪৪।   লিপিবদ্ধকরণ কী?

     উত্তর : লেনদেন শনাক্তকরণের পর প্রাথমিক বই বা জাবেদায় ডেবিট-ক্রেডিট বিশ্লেষণ করে লিপিবদ্ধ করাকে জাবেদাভুক্তকরণ বা লিপিবদ্ধকরণ বলে।

বিজ্ঞাপন

৪৫। ধাপ কী?

     উত্তর : চক্রাকারে আবর্তিত কোনো বিষয়ের একটি পর্যায় শেষে পরবর্তী পর্যায়ে উন্নীত হওয়াকে ধাপ বলে। হিসাবচক্রের ধাপ বলতে ঘটনাগুলোর পর্যায়ক্রমিক আবর্তনকে বোঝায়।

৪৬। চলতি বছর কী?

     উত্তর : যে বছরের জন্য প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন হিসাব লিপিবদ্ধ করা হয় এবং ফলাফল নির্ণয় করা হয় তাকে চলতি বছর বলে।

৪৭।   যোগসূত্র কী?

     উত্তর : চলতি ঘটনা ও বিগত ঘটনার মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের কাজকে যোগসূত্র বলে।

৪৮।   সংক্ষিপ্তকরণ কী?

     উত্তর : হিসাবচক্রের চতুর্থ ধাপে গিয়ে খতিয়ান উদ্বৃত্ত নিয়ে রেওয়ামিল তৈরি করাকে সংক্ষিপ্তকরণ বলে।

৪৯।   জাবেদা কাকে বলে?

     উত্তর : লেনদেন সংঘটিত হওয়া মাত্র তারিখ অনুসারে ক্রমান্বয়ে সাজিয়ে যে প্রাথমিক বইতে লিপিবদ্ধ করা হয় তাকে জাবেদা বলে।

৫০। লেনদেনের প্রাথমিক ও স্থায়ী দলিলপত্র কী?

     উত্তর : ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত লেনদেনগুলো তারিখের ক্রমানুসারে জাবেদায় প্রাথমিকভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়। ফলে এটি দুই পক্ষের মধ্যে স্থায়ী দলিল হিসেবে সংরক্ষিত হয়।

৫১। লেনদেনের বিস্তৃত, পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যকেন্দ্র কী?

     উত্তর : বর্তমান যুগের বৃহদায়তন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের প্রতিদিনের অসংখ্য লেনদেন সরাসরি খতিয়ানে লিখতে গেলে ভুলভ্রান্তির আশঙ্কা থাকে। পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যকেন্দ্র থাকলে হিসাব লিখনে ভুলভ্রান্তির আশঙ্কা হ্রাস পায় এবং খতিয়ান বইটি পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন থাকে। উপযুক্ত ব্যাখ্যাসহ জাবেদায় তথ্য উপস্থাপিত হয় বলে প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যেকোনো সময় যেকোনো তথ্য সম্পর্কে অবগত হতে পারেন।

৫২। লেনদেনের সংখ্যা ও অর্থের পরিমাণ কী?

     উত্তর : জাবেদায় লেনদেনগুলোকে তারিখ অনুযায়ী সাজিয়ে লিপিবদ্ধ করা হয়। লেনদেনগুলো যেদিন সংঘটিত হয়, সেদিনই পরপর সাজিয়ে লিপিবদ্ধ করা হয়। ফলে প্রতিদিনের লেনদেনের সংখ্যা ও অর্থের পরিমাণ জানা যায়।

৬০। ভবিষ্যৎ রেফারেন্স কী?

     উত্তর : মানুষের স্মৃতিশক্তি দ্বারা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের অগণিত লেনদেন, এগুলোর ধরন এবং কারণ মনে রাখা সম্ভব নয়। জাবেদায় এগুলো সুশৃঙ্খলভাবে লিপিবদ্ধ থাকে। ভবিষ্যতে লেনদেন সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য জাবেদা বই হতে পাওয়া যায়। ফলে কোনো বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দিলে জাবেদা ভবিষ্যতে রেফারেন্স হিসেবে কাজ করে।

৬১।   পরিচ্ছন্ন খতিয়ান কী?

     উত্তর : লেনদেনগুলোকে দ্বৈতসত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যাসহ জাবেদাভুক্ত করার পর একই লেনদেনের দ্বৈত ফলাফল দুটি পৃথক খতিয়ানের সংক্ষিপ্ত আকারে স্থানান্তরিত হয়। ফলে খতিয়ান হয় নির্ভুল, পরিচ্ছন্ন ও সংক্ষিপ্ত।

৬২।   সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত তথ্যের আদি উৎস কী?

     উত্তর : জাবেদায় কারবারের লেনদেনসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য লিপিবদ্ধ হওয়ায় ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নিয়ন্ত্রণকার্যে সহায়ক সর্বোত্তম তথ্য জাবেদা থেকে পাওয়া যায়।

৬৩।   ফলাফল কী?

     উত্তর : খতিয়ান প্রস্তুত করার অন্যতম সহায়ক হলো জাবেদা। তাই জাবেদার সাহায্যে খতিয়ান প্রস্তুত করে প্রতিটি হিসাবের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ণয় করা যায়।

৬৪।   খতিয়ানে স্থানান্তর কী?

     উত্তর : জাবেদায় লেনদেনগুলো ডেবিট-ক্রেডিট বিশ্লেষণ করে লেখার ফলে হিসাবের পাকা বই বা খতিয়ানে স্থানান্তর করা সহজ হবে।

৬৫।   ধারাবাহিকতা রক্ষা কী?

     উত্তর : জাবেদাকে কালানুক্রমিক হিসাবের বই বলা হয়। কারণ তারিখ অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে জাবেদায় লেনদেনগুলোকে লিপিবদ্ধ করা হয় বলে প্রয়োজনে লেনদেনের তারিখ সম্পর্কে জানা যায়।

৬৬। দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির প্রয়োগ কী?

     উত্তর : প্রতিটি লেনদেনকে দুতরফা দাখিলা পদ্ধতি অনুসারে একটি পক্ষকে ডেবিট এবং অন্য পক্ষকে সমপরিমাণ অর্থ দ্বারা ক্রেডিট করে লিপিবদ্ধ করা হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মোট ডেবিট টাকা মোট ক্রেডিট টাকার সমান হয় এবং পাশাপাশি ব্যবসায়ে সংঘটিত মোট লেনদেনের পরিমাণ জানা যায়।

৬৭। খতিয়ান পৃষ্ঠার ঘর কী?

     উত্তর : খতিয়ানটি যে পৃষ্ঠায় আছে—ঘরে সে পৃষ্ঠা নম্বর লেখা হয়। খতিয়ান তৈরির পর এ ঘরে নম্বর বসানো হয়। আধুনিক হিসাব ব্যবস্থায় এ ঘরে হিসাব কোড লেখা হয়।

৬৮। ডেবিট টাকার ঘর কী?

     উত্তর : এ ঘরে লেনদেনের ডেবিট হিসাব খাতের টাকার পরিমাণ লেখা হয়।

৬৯। ক্রেডিট টাকার ঘর কী?

     উত্তর : এ ঘরে লেনদেনের ক্রেডিট হিসাব খাতের টাকার পরিমাণ লেখা হয়।

৭০।   প্রাথমিক হিসাবের বই কী?

     উত্তর : লেনদেনগুলো সংঘটিত হওয়ার পর প্রাথমিকভাবে জাবেদায় লেখা হয়। এ কারণে জাবেদাকে প্রাথমিক হিসাবের বই বলা হয়। লেনদেনগুলোকে সর্বপ্রথম এ বইতে লেখা হয় বলে একে প্রথম হিসাবের বই বলে।

৭১।   মৌলিক হিসাবের বই কী?

     উত্তর : লেনদেনগুলোকে মৌলিক আকারে অর্থাৎ লেনদেন যে অবস্থায় সংঘটিত হয়েছে, ঠিক সেই অবস্থায় জাবেদায় লিপিবদ্ধ করা হয়। এ কারণে জাবেদাকে মৌলিক হিসাবের বই বলা হয়।

৭২।   দৈনিক হিসাবের বই কী?

     উত্তর : দৈনিক যেসব লেনদেন সৃষ্টি হয়, সেগুলোকে দিনের ভিত্তিতে সর্বপ্রথমে এই বইতে লেখা হয় বলে একে দৈনিক হিসাবের বই বলা হয়।

৭৩। হিসাবের প্রথম বই কী?

     উত্তর : কোনো লেনদেন ঘটার সঙ্গে সঙ্গে ডেবিট ও ক্রেডিটে বিশ্লেষণ করে সর্বপ্রথম এ বইতে লেখা হয়, তাই একে হিসাবের প্রথম বই বলে।

৭৪।   হিসাবের সহকারী বই কী?

     উত্তর : হিসাবের প্রধান এবং পাকা বই হলো খতিয়ান। জাবেদা খতিয়ানের সহকারী বইরূপে কাজ করে থাকে। নির্ভুলভাবে হিসাব লিখতে হলে লেনদেনগুলোকে ডেবিট ও ক্রেডিটে বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে জাবেদায় লিখতে হয়। এরপর জাবেদা থেকে লেনদেনগুলোকে চূড়ান্তভাবে খতিয়ানে স্থানান্তর করা হয়। জাবেদা খতিয়ান প্রস্তুতের সহকারী বইরূপে কাজ করে বলে একে হিসাবের সহকারী বই বলা হয়।

৭৫।   পর্যায়ক্রমিক হিসাব বই কী?

     উত্তর : লেনদেনগুলো তারিখের ক্রমানুসারে পর পর সাজিয়ে রাখা হয় বলে জাবেদাকে পর্যায়ক্রমিক হিসাব বইও বলা হয়।

৭৬।   মাঠ পর্যায়ের বই কী?

     উত্তর : যে স্থানে লেনদেন সংঘটিত হয়, সেখানে জাবেদা লেখা হয় বলে একে মাঠ পর্যায়ের বই বলা হয়।

৭৭।   জাবেদা কী?

     উত্তর : হিসাবের যে বইয়ে লেনদেনগুলো তারিখের ক্রমানুসারে ডেবিট এবং ক্রেডিট বিশ্লেষণ করে উপযুক্ত ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাসহ লিপিবদ্ধ করা হয় তাকে জাবেদা বলে।

৭৮।   খতিয়ানে স্থানান্তরের সুবিধা কী?

     উত্তর : লেনদেনগুলো জাবেদাভুক্ত করার কারণে পরবর্তী সময়ে ধীরে-সুস্থে সংশ্লিষ্ট খতিয়ানে স্থানান্তরের সুবিধা হয়।

৭৯।   পরিচ্ছন্ন হিসাব তৈরি কী?

     উত্তর : জাবেদা থেকে খতিয়ান প্রস্তুত করার কারণে খতিয়ান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে। এতে সুষ্ঠুভাবে হিসাব রাখা সহজ হয়।

৮০। খতিয়ানের পৃষ্ঠা নির্ণয়ে সুবিধা কী?

     উত্তর : প্রতিটি জাবেদার পাশে খতিয়ান পৃষ্ঠা নম্বর লেখা থাকে বলে জাবেদা দেখে খতিয়ানের কোন পৃষ্ঠায় ওই হিসাব রয়েছে তা নির্ণয়ে সুবিধা হয়।



সাতদিনের সেরা