kalerkantho

শনিবার । ১৩ আগস্ট ২০২২ । ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৪ মহররম ১৪৪৪  

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার

[পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের তৃতীয় অধ্যায়ে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের উল্লেখ আছে]

২৯ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার

নওগাঁ জেলার সবচেয়ে বিখ্যাত ঐতিহাসিক স্থান বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুরে অবস্থিত পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার। এটি সোমপুর বিহার বা মহাবিহার নামেও পরিচিত। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে এই বৌদ্ধ বিহার ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। ইংরেজ প্রত্নতাত্ত্বিক বুকানন হামিলটন যখন পূর্ব ভারতে জরিপ কাজ পরিচালনা করেন (১৮০৭-১৮১২), তখন তিনি পাহাড়পুরের এই স্তূপকে বৌদ্ধ বিহার বলে অনুমান করেন।

বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সময়ে ১৮৭৯ সালে স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম এই বিশাল স্থাপনা আবিষ্কার করেন। ইউনেসকোর মতে, পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার দক্ষিণ হিমালয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৌদ্ধ বিহার। আয়তনে এর সঙ্গে ভারতের নালন্দা মহাবিহারের তুলনা করা হয়। ১৯২৩ থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত এখানে খননকাজ চলে। খননকালে মাটির একটি সিল থেকে জানা যায়, এটি পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার। পাল রাজবংশের রাজা ধর্মপাল (৭৮১-৮২১) অষ্টম শতকের শেষ দিকে এই বিহার নির্মাণ করেন।

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের দৈর্ঘ্য পূর্ব-পশ্চিমে ৯১৯ ফুট এবং উত্তর-দক্ষিণে ৯২২ ফুট। মূল ভবনে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের জন্য ১৭৭টি কক্ষ ছিল। ৮০০ জন ভিক্ষুর বাস উপযোগী ছিল। এই বিহারে ১২৫ নম্বর কক্ষে মাটির পাত্রে খলিফা হারুন-অর-রশিদের শাসনামলের রৌপ্যমুদ্রা পাওয়া যায়। কোনো সাধক বা ধর্ম প্রচারক মুদ্রাগুলো এখানে এনেছিলেন বলে অনুমান করা হয়। পিরামিড আকৃতির এই মঠের উচ্চতা ৭০ ফুট। একটি শূন্যগর্ভ চতুষ্কোণ কক্ষকে কেন্দ্র করে এর অন্যান্য সংযোজনী গড়ে উঠেছে। সমগ্র বিহারটি প্রাচীরবেষ্টিত। এর প্রবেশপথ এবং মূল ভবনে ওঠার সিঁড়ি ছিল উত্তর দিকে। পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারে বাস করতেন মহাপণ্ডিতাচার্য বোধিভদ্র। খ্রিস্টীয় দশম শতকে বিহারের আচার্য ছিলেন অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান। তাঁর গুরু রত্নাকর এই বিহারের মহাস্থবির ছিলেন। এখানে মহাস্থবির বলতে প্রধান বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর উপাধিবিশেষ।

এই বিহারে অবস্থান করতেন প্রাচীন চর্যাগীতিকার কাহ্নপা ও তাঁর গুরু জলন্দরী পা ওরফে হাড়ি পা। এটি ৩০০ বছর ধরে বৌদ্ধদের অতি বিখ্যাত ধর্ম শিক্ষাদান কেন্দ্র ছিল। শুধু উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকেই নয়, বরং চীন, তিব্বত, মিয়ানমার (তদানীন্তন ব্রহ্মদেশ), মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশের বৌদ্ধরা এখানে ধর্মজ্ঞান অর্জন করতে আসতেন। ১৯৮৫ সালে ইউনেসকো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের স্বীকৃতি প্রদান করে।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

[আরো বিস্তারিত জানতে বাংলাপিডিয়া ও পত্রপত্রিকায় পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার সম্পর্কিত লেখাগুলো পড়তে পারো]



সাতদিনের সেরা