kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

হারমোনিয়াম

[সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের অষ্টম অধ্যায়ে হারমোনিয়ামের উল্লেখ আছে]

২৪ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হারমোনিয়াম

হারমোনিয়াম একটি বিদেশি বাদ্যযন্ত্র। এর উদ্ভব পাশ্চাত্যে হলেও কালক্রমে যন্ত্রটি আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশের যন্ত্রতালিকায় বিশেষ স্থান করে নেয়। সাধারণত এই যন্ত্রটি কণ্ঠসংগীত বা যন্ত্রসংগীতের সঙ্গে সহযোগী যন্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে এর একক বাদনও দেখা যায়।

বিজ্ঞাপন

১৮৪০ সালে প্যারিসের আলেকজান্ডার ডোরিয়ান এটি আবিষ্কার করেন বলে জানা যায়। এ বাদ্যযন্ত্র ‘ক্যাবিনেট অর্গ্যান’ নামেও পরিচিত।

হারমোনিয়াম দেখতে একটি বাক্সের মতো। একটি আবদ্ধ বাক্সের উপরিভাগে কিছু রিড সাজানো থাকে। বেলো দ্বারা তাড়িত করে এর ভেতরে বাতাস প্রবেশ করিয়ে এই বাক্সের  ভেতরে বাতাসের চাপ সৃষ্টি করা হয়। এই বাতাস রিডের ভেতর দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় রিডের শব্দ উৎপাদক পাত কম্পিত হয়ে শব্দ তৈরি করে। এ ক্ষেত্রে সব রিড যাতে একসঙ্গে বেজে না ওঠে তার জন্য প্রতিটি রিডের ওপর একধরনের প্রতিবন্ধক রাখা হয়। সুনির্দিষ্ট একটি রিড থেকে শব্দ উৎপাদনের জন্য এই প্রতিবন্ধক উন্মুক্ত করা হয়। এই প্রতিবন্ধক একটি লম্বা দণ্ডের এক প্রান্তে যুক্ত থাকে। এর অপর প্রান্তটিতে থাকে আঙুলের চাপ দেওয়ার জায়গা। এর মাঝখানে থাকে একটি আবদ্ধক অংশ। সব মিলিয়ে দণ্ডটি ঢেঁকির মতো হয়। দণ্ডটির চাপ দেওয়ার অংশে চাপ দিলে প্রতিবন্ধক দণ্ডের অপর প্রান্ত উন্মুক্ত হয়। ফলে রিডের ভেতর দিয়ে বাতাস বেরিয়ে যাওয়ার সময় এর পাত কম্পিত হয়ে ধ্বনির সৃষ্টি করে। এই দণ্ডের ওপর একটি লম্বা স্প্রিং থাকে। প্রতিবন্ধকের ওপর থেকে আঙুলের চাপ সরিয়ে নিলে ওই স্প্রিং বাঁশির ওপর প্রতিবন্ধককে দৃঢ়ভাবে চেপে বাতাস প্রবেশকে বাধা দেয়। ফলে ওই বাঁশি থেকে কোনো শব্দ হয় না।

হারমোনিয়ামের এই বাঁশিকে রিড বলা হয়। পক্ষান্তরে রিডের ওপরের স্থাপিত প্রতিবন্ধককে চাবি বলা হয়। চাবির ওপর চাপ সৃষ্টির উপযোগী প্রান্ত একটি বোর্ডের ওপর মুক্তভাবে স্থাপিত থাকে। হারমোনিয়ামের এই অংশটিকে বলা হয় কি-বোর্ড।

মূলত সংগীত শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক তালিমের সময় এই যন্ত্র ব্যবহার করে থাকেন। শাস্ত্রীয় কণ্ঠসংগীত শিল্পীরাও সহযোগী যন্ত্র হিসেবে হারমোনিয়াম ব্যবহার করে থাকেন। আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের হারমোনিয়াম ব্যবহৃত হয়, যথা—কপলার হারমোনিয়াম, বক্স হারমোনিয়াম, স্কেল চেঞ্জ হারমোনিয়াম, সিঙ্গল বেলো হারমোনিয়াম, ডবল বেলো হারমোনিয়াম ও সাতপাট বা ইংলিশ বেলো হারমোনিয়াম।

যত দূর জানা যায়, ভারতবর্ষে প্রথম হারমোনিয়াম ব্যবহৃত হয় কলকাতায়। উনিশ শতকের ষাটের দশকে দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর জোড়াসাঁকোতে স্থাপিত শখের থিয়েটারে প্রথম হারমোনিয়াম বাজান।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

[আরো বিস্তারিত জানতে বাংলাপিডিয়া ও পত্রপত্রিকায় হারমোনিয়াম সম্পর্কিত লেখাগুলো পড়তে পারো]



সাতদিনের সেরা