kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

জানা-অজানা

খাসিয়া

[নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের পঞ্চম অধ্যায়ে খাসিয়ার উল্লেখ আছে]

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল   

১৭ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



খাসিয়া

খাসিয়া হচ্ছে ভারতের মেঘালয় ও আসাম রাজ্য এবং বাংলাদেশের সিলেটের সীমান্তসংলগ্ন অঞ্চলে বসবাসকারী মঙ্গোলীয় মহাজাতির একটি ক্ষুদ্র নরগোষ্ঠী। তাদের দেহের আকার মধ্যমাকার। মুখমণ্ডল গোলাকার, নাক চ্যাপ্টা, গণ্ডদেশ উন্নত, চুল অকুঞ্চিত, পুরুষদের মুখমণ্ডলে দাড়ি ওঠে না। তাদের গায়ের রং চাপা তাম্রবর্ণের হয়।

বিজ্ঞাপন

খাসিয়া মেয়েরা কাজিম পিন নামক ব্লাউজ ও লুঙ্গি এবং ছেলেরা পকেট ছাড়া শার্ট ও লুঙ্গি (ফুংগ মারুং) পরে। খাসিয়াদের নিজস্ব ভাষার নাম ‘মনখেমে’। তাদের লিখিত কোনো বর্ণমালা নেই। মনখেমে ভাষার উপভাষা রয়েছে বেশ কয়েকটি।

খাসিয়ারা মূলত মাতৃতান্ত্রিক সম্প্রদায়। এ কারণে খাসিয়া সমাজ ব্যবস্থায় মেয়েদের সম্মান ও আলাদা মর্যাদা রয়েছে। খাসিয়াদের মধ্যে প্রবাদ রয়েছে, ‘লংজেইদ না কিন থেই’ অর্থাৎ নারীদের হাতে মানবজাতির উৎপত্তি। তাদের পরিবারের সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে নারীরা। নারীরা কনেযাত্রী নিয়ে বিয়ে করে বর নিয়ে আসে বাড়িতে। আর নারীরা নিজেদের বাড়িতেই মা-বাবার সঙ্গে স্বামী-সন্তানসহ বসবাস করে থাকে। মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় পরিচালিত খাসিয়াদের কোনো পুরুষ সম্পত্তির মালিক হয় না। স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পদের মালিক হয় নারীরা। পুরুষদের বিয়ে হলে তারা গিয়ে ওঠে শ্বশুরবাড়িতে। তারা বাড়ির ও পানের জুমে কাজ করে পরিবারকে সহায়তা করে। স্ত্রীর বাড়িতে পুরুষরা কাটিয়ে দেয় জীবনের বাকি দিনগুলো। পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ মেয়ের ধন-সম্পদে বেশি প্রাধান্য থাকে। তাদের বংশপরিচয় দেওয়া হয় মায়ের বংশানুক্রমে।

খাসিয়া জনগোষ্ঠী কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। তারা প্রচুর পান ও মধুর চাষ করে। ভাত, মাংস, শুঁটকি মাছ ও মধু খাসিয়াদের প্রধান খাদ্য। তারা পান-সুপারিকে খুবই পবিত্র মনে করে। বাড়িতে অতিথি এলে পান-সুপারি ও চা দিয়ে আপ্যায়ন করায়।

খাসিয়ারা বিভিন্ন দেবতার পূজা করে। প্রধান দেবতার নাম উব্লাই নাংথউ। সব ধরনের অনুষ্ঠানে তারা নাচ-গান করে। যেমন—পূজা-পার্বণ, বিয়ে, খরা, অতিবৃষ্টি, ফসলহানি ইত্যাদি।   

 

[আরো বিস্তারিত জানতে পত্রপত্রিকায় খাসিয়া সম্পর্কিত লেখাগুলো পড়তে পারো]



সাতদিনের সেরা