kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

জানা-অজানা

সিকান্দর শাহ

[নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের ষষ্ঠ অধ্যায়ে সিকান্দর শাহের উল্লেখ আছে]

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল   

১৬ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিকান্দর শাহ

পান্ডুয়ায় অবস্থিত সিকান্দার শাহর প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয়ার একসময়ের বৃহত্তম মসজিদ আদিনা

শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহের জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বাংলার ইলিয়াস শাহী বংশের দ্বিতীয় সুলতান সিকান্দর শাহ। ১৩৫৮ সালে পিতা ইলিয়াস শাহের মৃত্যুর পর তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র হিসেবে সিকান্দর শাহ সিংহাসনে আরোহণ করেন। রাজ্যের আমির ও সেনাপতিরা সিকান্দর শাহকে সিংহাসনে আরোহণের ব্যাপারে যথেষ্ট সহায়তা করেছিলেন। ফলে সিংহাসন নিয়ে কোনো রক্তপাত ঘটেনি।

বিজ্ঞাপন

তিন দশকেরও বেশি সময় তিনি বাংলা শাসন করেন এবং একজন ন্যায়পরায়ণ ও যোগ্য শাসক হিসেবে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করেন।

সিংহাসনে আরোহণ করে সিকান্দর শাহ তাঁর কর্তৃত্ব সুদৃঢ় করেন এবং দিল্লির সুলতানের সঙ্গে তাঁর পিতার সুসম্পর্ক রক্ষার নীতি অক্ষুণ্ন রাখেন। তিনি সুলতানের জন্য উপঢৌকনস্বরূপ পাঁচটি হাতিসহ একজন দূতকে দিল্লিতে প্রেরণ করেন। তথাপি তিনি ফিরুজ শাহ তুঘলকের শত্রুতা এড়াতে পারেননি। পারস্যের অভিজাত ও সোনারগাঁর সুলতান ফখরুদ্দীন মুবারক শাহের জামাতা জাফর খানের সোনারগাঁর ওপর দাবির সমর্থনে তাঁকে সাহায্য করার অজুহাতে ফিরুজ শাহ বাংলায় অভিযান পরিচালনা করেন। দিল্লির সুলতানের আগমনে সিকান্দর যুদ্ধ পরিহার করে তাঁর বাহিনীসহ একডালা দুর্গে আশ্রয় গ্রহণ করেন। দিল্লির বাহিনী দীর্ঘদিন দুর্গটি অবরোধ করে রাখে। বাংলার সেনাবাহিনী বর্ষাকালের আগমন পর্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে দুর্গ রক্ষা করে। অবশেষে একটি শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয়, উভয় পক্ষে উপহারসামগ্রী বিনিময় হয় এবং ফিরুজ শাহ বাংলার স্বাধীনতা স্বীকার করে ১৩৫৯ সালে বাংলা ত্যাগ করেন।

সিকান্দর শাহ বিদ্বান ও জ্ঞানী-গুণীদের সাহচর্য পছন্দ করতেন এবং আলেম ও সুফিদের সম্মান দিতেন। পাণ্ডুয়ার বিখ্যাত পীর শেখ আলাউল হক (রহ.) তাঁর সমসাময়িক ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে এই সাধকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তিনি হিন্দুদের প্রতিও উদার দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতেন। তাঁর দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ শাসনামলে সিকান্দর শাহ সুরম্য ইমারত ও মসজিদ নির্মাণ করেন। তন্মধ্যে পাণ্ডুয়ার বিখ্যাত আদিনা মসজিদ সর্বাধিক চিত্তাকর্ষক।

সিকান্দর শাহের রাজত্বকালের শেষের বছরগুলোতে তাঁর ১৮ পুত্রের মধ্যে একজন (আজম শাহ) পিতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে সোনারগাঁ ও সপ্তগ্রাম দখল করেন। শেষ পর্যন্ত ১৩৯০ সালে রাজধানী পাণ্ডুয়ার কাছে গোয়ালপাড়ার যুদ্ধে তিনি তাঁর পিতাকে পরাজিত ও হত্যা করেন এবং গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ নাম ধারণ করে সিংহাসনে বসেন। তাঁর প্রকৃত নাম আজম শাহ।

 

[আরো বিস্তারিত জানতে বাংলাপিডিয়া ও পত্রপত্রিকায় সিকান্দর শাহ সম্পর্কিত লেখাগুলো পড়তে পারো]

 



সাতদিনের সেরা