kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

জানা-অজানা

বেনেবউ কিংবা ইষ্টিকুটুম

[অষ্টম শ্রেণির সাহিত্য কণিকা বইয়ে শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অতিথির স্মৃতিগল্পে হলদে পাখি বা বেনেবউয়ের উল্লেখ আছে।]

সমিধা শৌনক   

১৫ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেনেবউ কিংবা ইষ্টিকুটুম

ছবি : সৈকত ইসলাম

কেউ বলে হলদে পাখি বা বউ কথা কও আবার কেউ বলে ইষ্টিকুটুম। ইষ্টিকুটুম নামের কারণ, গ্রামের মানুষের ধারণা- এই পাখি ডাকলে নাকি ঘরে অতিথি আসে। তবে পক্ষীবিশারদরা একে বেনেবউ বলে ডাকতেই পছন্দ করেন।

বেনেবউ দেখতে ভারি সুন্দর।

বিজ্ঞাপন

এ পাখি প্রসঙ্গে পক্ষী পর্যবেক্ষক ইনাম আল হক বলেছেন, ‘এমন সুকুমার গড়ন, এমন মনমাতানো সোনা রং শরীর, এমন চনমনে ভঙ্গি পাখিটির! এমন সুন্দর প্রাণোচ্ছল ও মিষ্টিভাষী পাখির দেখা পাওয়া তো ভাগ্যের কথা। ’ নিভৃতচারী ও লাজুক স্বভাবের পাখিটির ইংরেজি নাম Black-hooded Oriole. বৈজ্ঞানিক নাম Oriolus xanthornus. 

পাখিটির দৈর্ঘ্য গড়ে ২৫ সেন্টিমিটার এবং ওজন ৮০ গ্রাম। ডানা ও পুচ্ছে কালো রংসহ দেহের বাকি অংশ সোনালি হলুদ রঙের। স্ত্রী ও পুরুষ দেখতে একই রকম। তবে স্ত্রীর মাথার কালো রং অপেক্ষাকৃত ফ্যাকাসে। চোখের মণি হালকা বাদামি থেকে লোহিত বর্ণের। চোখে স্পষ্ট কালো রেখা দেখা যায়। ঠোঁটের রংটিও ভারি মিষ্টি। চীয়া/চী-ঊ, চী-ঊ বোলে ডাকে। কীটপতঙ্গ ও ফুলের নির্যাস আহার করে। এপ্রিল-জুলাইয়ের মধ্যে বাসা বাঁধে। দু-তিনটি ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে লাগে ১৪ দিনের মতো। বাসা বানায় মাকড়সার জাল, গাছের আঁশ ও পাখির নরম পালক দিয়ে। বাসার সব কাজে স্ত্রী-পুরুষ দুজনেই অংশ নেয়।

মজার ব্যাপার, বেনেবউয়ের বাসায় চোখ গেল পাখি গোপনে ডিম পেড়ে গেলে বেনেবউ দম্পতি দিব্যি সে ডিম ও ছানার পালক পিতা-মাতা হয়ে যায়। চোখ গেল পাখি বেনেবউয়ের চেয়ে আকারে ও ওজনে দ্বিগুণেরও বেশি। ফলে এর একটি ছানাকে বড় করতে নিজের তিনটি ছানা পালার সমান পরিশ্রম হয় বেনেবউয়ের। তবু এই দায়িত্ব পালনে বিন্দুমাত্র অবহেলা করে না মাতৃস্নেহময়ী পাখিটি।

পৃথিবীতে ২৯ প্রজাতির বেনেবউ আছে। বাংলাদেশের প্রায় সব বিভাগের গ্রামাঞ্চলেই একে দেখা যায়। দেশের উত্তর অঞ্চলে এ পাখির সংখ্যা বেশি। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, লাওস, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনামে এদের বিস্তৃতি রয়েছে।  

কয়েক দশক ধরে এ পাখির সংখ্যা বাড়ছে না কমছে সে ব্যপারে নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি। তবে এটি ঠিক যে এরা আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছে যায়নি। এ কারণে আইইউসিএন (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার অ্যান্ড ন্যাচারাল রিসোর্সেস) একে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত বলে ঘোষণা করেছে। আর বাংলাদেশ বন্য প্রাণী আইনেও একে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়নি।

 

[আরো বিস্তারিত জানতে বাংলাপিডিয়া ও পত্রপত্রিকায় বেনেবউ কিংবা ইষ্টিকুটুম সম্পর্কিত লেখাগুলো পড়তে পারো]



সাতদিনের সেরা