kalerkantho

মঙ্গলবার ।  ১৭ মে ২০২২ । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৫ শাওয়াল ১৪৪৩  

জানা-অজানা

মুড়কি

[পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বইয়ের ‘শখের মৃিশল্প’ প্রবন্ধে মুড়কির উল্লেখ আছে]

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল   

২১ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মুড়কি

মুড়কি বাংলার একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় মিষ্টিজাতীয় খাবার। এটি ধানের খইয়ের সঙ্গে চিনি বা গুড় দিয়ে প্রস্তুত করা হয়। প্রাচীনকাল থেকেই মুড়কি দূরের পথযাত্রীদের পাথেয় রূপে ব্যবহারের চল আছে। এ ছাড়া প্রাতরাশেও এটি ব্যবহৃত হয়।

বিজ্ঞাপন

ছোট বাচ্চাদের কাছেও এটি জনপ্রিয় ছিল। প্রাচীনকাল থেকেই পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের হিন্দুরা মুড়কি প্রসাদরূপে ব্যবহার করে।

মুড়কি প্রস্তুত করতে লাগে ধানের খই চার কাপ, আখের গুড় এক কাপ, লেবুপাতা তিন-চারটি ও পানি পরিমাণমতো। প্রথমে গুড় ও পানি জ্বাল দিয়ে বাঁশের চিকন চামচ দিয়ে নাড়তে হবে। ঘন হয়ে এলে চুলা থেকে পাত্র নামিয়ে লেবুপাতা দিতে হবে। তারপর আবার ভালো করে বাঁশের চামচ দিয়ে নাড়তে হবে। এভাবে নাড়তে নাড়তে যখন সিরাটা শুকনা হয়ে আসবে, তখন এতে খই দিয়ে নাড়তে হবে। মিশ্রণ ঠাণ্ডা হয়ে এলে প্রস্তুতকৃত মুড়কি বায়ুরোধী পাত্রে সংরক্ষণ করতে হবে।

জনপ্রিয় এই খাবার একসময় প্রাতরাশ থেকে আরম্ভ করে পথিকের পথে বিশ্রামকালীন খাবাররূপে ব্যবহৃত হতো। ধুতির কোঁচায় বা গামছায় মুড়কি বেঁধে নিয়ে যাওয়ার প্রচলন ছিল। বর্তমানে আধুনিকতার প্রসারের ফলে এসব রীতি আর নেই। এখন শুধু বাঙালি হিন্দুরা মুড়কি দেবতার প্রসাদরূপে ব্যবহার করে।

চিনি দিয়ে তৈরি মুড়কির ঔষধি গুণ আছে। এটি পেটের গোলযোগ নিরাময় করে। সাহিত্যে মুড়কির উল্লেখ পাওয়া যায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘সময়হারা’ কবিতায় লিখেছেন, ‘উড়কি ধানের মুড়কি দেব, বিন্নে ধানের খই, সরু ধানের চিঁড়ে দেব, কাগমারে দই। ’ সুকুমার রায় তাঁর ‘পালোয়ান’ কবিতায় মুড়কির উল্লেখ করেছেন।

বিপ্রদাস মুখোপাধ্যায় তাঁর ‘মিষ্টান্ন-পাক’ বইতে চিনির, নলেন গুড়ের, ইক্ষু গুড়ের ও খাগড়াই—মোট চার ধরনের মুড়কির উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়া ঝুরঝুরে ছানাকে ছানার মুড়কি বলেছেন।

 

[আরো বিস্তারিত জানতে পত্রপত্রিকায় মুড়কি সম্পর্কিত লেখাগুলো পড়তে পারো। ]



সাতদিনের সেরা