kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

মাছরাঙা

[পঞ্চম শ্রেণির আমার বাংলা বইয়ের ‘অবাক জলপান’ গল্পে মাছরাঙার উল্লেখ আছে]

৩১ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মাছরাঙা

Coraciiformes বর্গের অন্তর্গত অত্যন্ত উজ্জ্বল রঙের ছোট বা মাঝারি আকৃতির পাখি মাছরাঙা (Kingfisher)। এই পাখি অ্যান্টার্কটিকা বাদে প্রায় সারা পৃথিবীতেই দেখা যায়। পৃথিবীব্যাপী প্রায় ৯৪ প্রজাতির মাছরাঙা রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও নিউ গিনিতে এই পাখি পর্যাপ্ত, উষ্ণমণ্ডলীয় আফ্রিকায়ও অনেক প্রজাতি আছে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশে মোট ১২ প্রজাতির মাছরাঙার সন্ধান পাওয়া গেছে।

মাছরাঙার ঠোঁট ও পা এদের শনাক্ত করার লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য। পা খুব খাটো। এদের তৃতীয় ও চতুর্থ আঙুল প্রায় পুরো লম্বালম্ব্বি যুক্ত এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় আঙুল গোড়ার দিকে যুক্ত। আবার কতগুলো প্রজাতিতে দ্বিতীয় আঙুল খুব খাটো বা সম্পূর্ণ লুপ্ত। মাছরাঙার ঠোঁট আনুপাতিক হারে বড়, বেশ মোটা, সাধারণত চোখা বা সামান্য বাঁকানো আগাসহ লম্বা ও ঋজু। এদের পালক সাধারণত চড়া রঙের, নীল, সবুজ, বেগুনি ও লালচে বা বাদামি আঁচসহ ধাতব ঔজ্জ্বল্যে ঝলমল। তাতে প্রায়ই আলতোভাবে থাকে সাদা বা কালো দাগ। ডানা সাধারণত খাটো ও গোল, অন্যদিকে লেজ খুব খাটো থেকে অনেকটা লম্বাও হয়ে থাকে। মাছরাঙা নানা আকার ও ওজনের হয়।

মাছরাঙার প্রধান খাদ্য ছোট মাছ। এ ছাড়া ব্যাঙ ও ব্যাঙাচি এবং বড় বড় জলজ পোকামাকড় খেতে দেখা যায়। এরা শিকার ধরার জন্য পানির দিকে মাথা নিচু করে গাছের ডালে অনড় বসে থাকে। শিকার দেখলে মাথা নিচু করে পানির ভেতর ঢুকে ছোঁ মেরে শিকার নিয়ে ডালে ফিরে আসে। শিকারকে কয়েকবার ডালে আছাড় মারে। তারপর শূন্যে ছুড়ে দিয়ে মাথার দিক থেকে গিলে ফেলে।

মাছরাঙার প্রজননের সময় সাধারণত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত। এ সময় এরা জোড় বেঁধে একত্রে থাকে। জলাশয়ের খাড়া পারে বা পুরনো গাছের কোটরে বাসা বাঁধে। স্ত্রী মাছরাঙা ডিম পাড়ে একসঙ্গে পাঁচ থেকে সাতটি। ডিমগুলো দেখতে চকচকে সাদা। পাতি মাছরাঙার গড় আয়ু সাত বছর হলেও কিছু কিছু প্রজাতি সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। নিরাপদ মনে হলে মাছরাঙা একই স্থানে বছরের পর বছর বাসা বাঁধে।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

[আরো বিস্তারিত জানতে বাংলাপিডিয়া ও পত্রপত্রিকায় মাছরাঙা সম্পর্কিত লেখাগুলো পড়তে পারো। ]

 



সাতদিনের সেরা