kalerkantho

বুধবার । ১২ মাঘ ১৪২৮। ২৬ জানুয়ারি ২০২২। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বাংলা দ্বিতীয় পত্র

ষষ্ঠ শ্রেণি : নির্মিতি

আতাউর রহমান সায়েম, সিনিয়র সহকারী শিক্ষক, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা

৬ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ষষ্ঠ শ্রেণি : নির্মিতি

অঙ্কন : মাসুম

চিঠি

১।        মনে করো, তোমার নাম হাসান মাহমুদ। তোমার বাবার নাম ফারুক আহমেদ। তোমার বাবার কাছে নতুন বই কেনার জন্য টাকা চেয়ে একটি পত্র লেখো।

বিজ্ঞাপন

           

            শান্তিনগর, ঢাকা

            নভেম্বর ২১, ২০২১ খ্রি.

 

            এলাহি ভরসা

            শ্রদ্ধেয় বাবা,

            পত্রের শুরুতে আমার সালাম নেবেন। আশা করি মহান আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। আমিও তাঁর অশেষ রহমতে ভালো আছি।

            বাড়ি থেকে এসে আপনার কাছে চিঠি লিখতে একটু দেরি হলো। ভেবেছিলাম বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল জানিয়েই চিঠি লিখব। সে জন্যই দেরি হলো। গত সপ্তাহে আমাদের বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। আপনি জেনে খুবই খুশি হবেন, আমি এ পরীক্ষায় সব বিষয়ে ক্লাসের সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছি। এখন নতুন বছরে নতুন ক্লাসের জন্য কয়েকটি বই কিনতে হবে। তাই চিঠি পাওয়া মাত্র ১৫০০ টাকা পাঠিয়ে দিলে বই কিনে নিতে পারব।

            যাক আজ আর নয়। আমার জন্য আপনি চিন্তা করবেন না। ছুটি পেলেই বাড়িতে আসব—ইনশাআল্লাহ। মাকে আমার সালাম দেবেন। আর বাসার সবার জন্য রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা। আমার জন্য দোয়া করবেন।

 

            ইতি

            আপনার স্নেহের

            হাসান

 

২।         মনে করো, তুমি সাদিক মিয়া। রংপুর জেলার কাউনিয়া থানায় বসবাস করো। তোমার এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণসামগ্রী চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে একখানা দরখাস্ত লেখো।

 

            নভেম্বর ২১, ২০২১ খ্রি.

            জেলা প্রশাসক

            রংপুর।

 

            বিষয় : বন্যাদুর্গত এলাকায় জরুরি ত্রাণ সাহায্যের জন্য আবেদন

 

            মহোদয়,

            সবিনয় নিবেদন এই যে, আমরা রংপুর জেলার কাউনিয়া থানার শহিদবাগ গ্রামের অধিবাসী। সম্প্রতি এক আকস্মিক বন্যায় আমাদের গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার ভয়াবহতা ফসলের বিপুল ক্ষতি সাধন করেছে, ধ্বংস করেছে বহু ঘরবাড়ি। পাকা ধান ঘরে তোলা সম্ভব হয়নি কৃষকের পক্ষে। তাই মহামারি আর দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। এখন চারদিকে শুধু হাহাকার। খাদ্যদ্রব্য, ওষুধপত্র, কাপড়চোপড় ও নগদ অর্থের অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে এই গ্রামে।

            অতএব, এ অবস্থায় মহোদয়ের কাছে সবিনয় প্রার্থনা, অবিলম্বে শহিদবাগ গ্রামের বন্যাকবলিত দুর্দশাগ্রস্ত জনসাধারণকে জরুরি ভিত্তিতে খাদ্যদ্রব্য, ওষুধপত্র ও আর্থিক সাহায্য দিয়ে উপকৃত করবেন।

 

            নিবেদক

            শহিদবাগ গ্রামবাসীর পক্ষে

            সাদিক মিয়া

            মোবাইল : ০১৭১......৩৪

 

            অনুচ্ছেদ

           

            বাংলা নববর্ষ

            সারা বছরের সব গ্লানি মুছে দিয়ে পাওয়া-না পাওয়ার হিসাব চুকিয়ে প্রতিবছর ফিরে আসে পহেলা বৈশাখ। নতুন পসরা সাজিয়ে আগমন ঘটে নতুন বছরের। এ দিনটিই ‘বাংলা নববর্ষ’ নামে পরিচিত। দিনটি বাঙালি জাতির প্রাণে এক আনন্দ ধারা বইয়ে দেয়। নববর্ষের আগমনে দেশের সর্বত্রই বিরাজ করে উৎসবমুখর পরিবেশ। ১৫৫৬ সালে সম্রাট আকবরের শাসনামল থেকে পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ পালনের রেওয়াজ শুরু হয়। তারই ধারাবাহিকতায় বৈশাখী মেলার উৎসব আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশের সরকার ১৪ এপ্রিল তারিখে পহেলা বৈশাখ অর্থাৎ বাংলা নববর্ষ উদ্যাপনের জন্য সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। নববর্ষ উপলক্ষে বৈশাখ মাসের প্রথম দিনেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় মেলা বসে। গ্রামগঞ্জে ও শহরে অনুষ্ঠিত এই মেলাকে বৈশাখী মেলা বলা হয়। এ মেলা চলে সপ্তাহ থেকে মাসব্যাপী। এই মেলা এখন বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। নববর্ষ উপলক্ষে ঢাকায় বর্ষবরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা লোকজ চিত্রকলা আঁকে, হাতি-ঘোড়ার মুখোশ তৈরি করে, নানা সাজে নানা বৈচিত্র্যে বৈশাখী শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে বাংলা সনকে বরণ করে নেয়। মঙ্গল শোভাযাত্রার এমন দৃশ্য দেখে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা UNESCO  বাংলা নববর্ষকে Heritage হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এ দিনে ভোর থেকে রবীন্দ্র সংগীতের মনোমুগ্ধকর গানে রমনার বটমূলে সমবেত হয়ে নববর্ষ বরণ করে ‘ছায়ানট’। ভোরবেলায় রমনা পার্কে পান্তা বিক্রির আয়োজন করা হয়। বাংলা নববর্ষ শুধু সংস্কৃতি নয়, এর অর্থনৈতিক দিকও রয়েছে। এই অর্থনৈতিক দিকটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পহেলা বৈশাখ ব্যবসায়ী মহলে হালখাতার দিন। হালখাতা উপলক্ষে ক্রেতা-বিক্রেতাদের লেনদেনে যে বাকি আছে, তা পরিশোধ করা হয়। সেই সঙ্গে মিষ্টিমুখ। নববর্ষ উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মানুষ শুভেচ্ছা বিনিময় করে। হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এই সর্বজনীন উৎসব পালন করে থাকে। তবে বাংলা নববর্ষ পালন করতে গিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটুক—এটা কারো কাম্য নয়। তাই এ ব্যাপারে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে—বাংলা নববর্ষ আমাদের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের একটি বিশেষ উপাদান। পৃথিবীর এক বিরল বৈচিত্র্যময় উৎসব। এই উৎসব শুধু বাঙালির একার গৌরব।



সাতদিনের সেরা