kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

অষ্টম শ্রেণি : সংক্ষিপ্ত সিলেবাস অনুসারে বাংলা

অনুকূল চন্দ্র মণ্ডল, সহকারী শিক্ষক, সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ডেমরা, ঢাকা

২৮ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অষ্টম শ্রেণি : সংক্ষিপ্ত সিলেবাস অনুসারে বাংলা

অঙ্কন : মাসুম

কবিতা

মানবধর্ম

লালন শাহ

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

১।   লালন শাহের গানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য কী?

     উত্তর : লালন শাহের গানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো অধ্যাত্মভাব ও মরমি রসব্যঞ্জনা।

২।   ‘মানবধর্ম’ কবিতাটি কোন গান থেকে নেওয়া হয়েছে?

     উত্তর : ‘মানবধর্ম’ কবিতাটি লালন ফকিরের ‘সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে’ গানটি থেকে নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

৩।   লালন শাহ কোথায় মৃত্যুবরণ করেন?

     উত্তর : কুষ্টিয়ার ছেঁউরিয়ায়।

৪।   লালনের কাছে মূলকথা কী?

     উত্তর : লালনের কাছে মূলকথা মনুষ্যধর্ম।

৫।   গানের মাধ্যমে লালনের কী প্রকাশ পেয়েছে?

     উত্তর : গানের মাধ্যমে লালনের দর্শন প্রকাশ পেয়েছে।

৬।   কখন মানুষের মাঝে জাতের চিহ্ন থাকে না?

     উত্তর : মানুষ যখন পৃথিবীর বুকে আগমন করে অথবা যখন মৃত্যুবরণ করে তখন মানুষের মাঝে জাতের চিহ্ন থাকে না।

৭।   ‘মানবধর্ম’ কবিতাটিতে কোন পরিচয়ই বড় বলা হয়েছে?

     উত্তর : ‘মানবধর্ম’ কবিতাটিতে মানুষ হিসেবে পরিচয়ই বড় বলা হয়েছে।

৮।   লালন কী বিশ্বাস করেন না?

     উত্তর : লালন মানুষের জাত বা ধর্মভেদে ভিন্নতার কথা বিশ্বাস করেন না।

৯।   অধ্যাত্মভাব ও মরমি রসব্যঞ্জনা কার গানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য?

     উত্তর : লালন শাহ।

১০।   লালন শাহ কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?

     উত্তর : ঝিনাইদহে, মতান্তরে কুষ্টিয়ায়।

 

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

১।   লালন কেন মানুষের জাত বা পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন করেছেন?

     উত্তর : মানবধর্মই প্রধান ধর্ম হওয়া উচিত। জাত-ধর্ম নিয়ে বড়াই করা মানুষের জন্য ক্ষতিকর। জাত-ধর্ম নিয়ে বড়াই করতে গিয়ে হানাহানি ও বিবাদের সৃষ্টি হয়, যা মানুষের জন্য ক্ষতিকর। জাতের বড়াই না করে যদি মনুষ্যধর্মই মূলকথা ও একমাত্র অনুসরণীয় হয়, তাহলে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে। এ জন্য লালন মানুষের জাত বা পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন করেছেন।

২।   মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার জন্য কী করা প্রয়োজন?

     উত্তর : মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। তাই মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার জন্য মানুষের মনুষ্যত্বকে বজায় রাখতে হবে। মনুষ্যত্ব বজায় রাখার জন্য মানুষকে অন্য মানুষের প্রতি সমদৃষ্টিসম্পন্ন হতে হবে। জাত-ধর্ম-বর্ণের পার্থক্য সৃষ্টি না করে মানবধর্ম পালন করতে হবে। তবেই মানুষ মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে সক্ষম হবে।

৩।   জাতের বড়াই করা ঠিক নয় কেন?

     উত্তর : আমাদের জাতের বড়াই বা বংশের গৌরব করা ঠিক নয়। সব মানুষই সমান। পৃথিবীতে জাতের বড়াই করা ভুল। মানুষের জন্ম বা মৃত্যুর সময় কোনো জাত থাকে না। আমাদের সবাইকেই একদিন মরতে হবে। মরার সময় সবার ঠিকানাই এক। তাই আমাদের অযথা জাতের বড়াই করা বৃথা। এ কারণেই জাত বা ধর্ম নিয়ে মিথ্যা বাড়াবাড়ি বা গর্ব করা ঠিক নয়।

৪।   সাম্প্রদায়িক পরিচিতির চেয়ে মানুষ হিসেবে পরিচয় বড় কিভাবে?

     উত্তর : বংশগৌরব করা মিথ্যা। সাম্প্রদায়িক পরিচিতির চেয়ে মানুষ হিসেবে পরিচয়ই বড়। পৃথিবীর সব মানুষই সমান। মানবধর্মই বড় ধর্ম। মানুষ যদি বংশ নিয়ে মিথ্যা বড়াই করে, একে অন্যের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চায়, তাহলে তা সমাজের জন্য ক্ষতির কারণ। আর যদি মানুষ হিসেবে পরিচয়টাই বড় হয়, কারো কোনো জাতের বড়াই না থাকে, তাহলে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে। তাই সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের চেয়ে মানুষ হিসেবে পরিচয়টাই বড়।

৫।   লালন শাহ জাতপাতকে গুরুত্ব দেননি কেন?

     উত্তর : লালন জাতকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন না। লালন শাহ স্বশিক্ষিত, তাই তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল উদার। তাঁর কাছে সব মানুষই সমান। সব মানুষ একই মূল থেকে সৃষ্ট। জাত-ধর্ম-বর্ণ থেকে মানুষের আসল পরিচয় হচ্ছে মানুষ পরিচয়। লালন মনে করেন মানবধর্মই মানুষের আসল পরিচয় বহন করে। জাতের মাধ্যমে মানুষকে পরিচিত করানোর কোনো দরকার পড়ে না। জাত মানুষের মাঝে পার্থক্য সৃষ্টি করে মানুষকে মানবধর্ম পালন থেকে বিরত রাখে। তাই লালন জাতকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন না। তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানবতা বা মানবধর্ম।

৬।   জাতিধর্মের ভেদজ্ঞান খারাপ কেন?

     উত্তর : মানবতার পরিপন্থী বলে জাতিধর্মে ভেদজ্ঞান ভালো নয়। স্রষ্টা অখণ্ড পরিচয়ে মানুষ সৃষ্টি করেছেন। পৃথিবীর বুকে মানুষই সৃষ্টি করেছে জাতি-গোষ্ঠী-বংশ ও ধর্মীয় পরিচয়ে মানুষে মানুষে ভেদাভেদের দেয়াল। জাতপাত দিয়ে মানুষের শ্রেণীকরণ করার ফলে কোনো মানুষ হয়েছে সমাজে সুবিধাভোগী, কোনো মানুষ হয়েছে সুবিধাবঞ্চিত। বর্ণপ্রথা অনুযায়ী এক শ্রেণির মানুষ অন্য শ্রেণির মানুষের স্পর্শ পর্যন্ত এড়িয়ে চলে। নিম্নবর্ণের মানুষের জীবন গ্লানিতে ভরা। এভাবে জাতপাত সমাজে বৈষম্য সৃষ্টির মাধ্যমে মানবতার অপমান করেছে। সে জন্যই মানবতাবাদী মানুষ মাত্রই জাতপাত ভেদাভেদকে ঘৃণা করে থাকেন।



সাতদিনের সেরা