kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

এসএসসি প্রস্তুতি : সংক্ষিপ্ত সিলেবাস অনুসারে বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা

মোছা. আরজিনা আফরোজ, সহকারী শিক্ষক, হরিনাথপুর এসইএসডিপি মডেল হাই স্কুল, নগরবাড়ী, বেড়া, পাবনা

১২ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



এসএসসি প্রস্তুতি : সংক্ষিপ্ত সিলেবাস অনুসারে বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা

মিসরের নীল নদ অঙ্কন : মাসুম

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

১।   ইতিহাস বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

     উত্তর : সাধারণত মানবসমাজ ও সভ্যতার বিবর্তনের গবেষণালব্ধ সত্যের উপস্থাপনই হলো ইতিহাস।

     ইতিহাসের উৎপত্তিগত অর্থ হলো ঐতিহ্য।

বিজ্ঞাপন

গ্রিক শব্দ Historia থেকে ইংরেজি History শব্দটির উৎপত্তি, যার প্রতিশব্দ ‘ইতিহাস’; যার অর্থ হলো অনুসন্ধান বা গবেষণা। পঞ্চম শতকে গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাস সর্বপ্রথম ঐরংঃড়ত্রধ বা হিস্টোরিয়া শব্দটি ব্যবহার করেন। তিনি ইতিহাসের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, ‘ইতিহাস হলো যা সত্যিকার অর্থে ছিল বা সংঘটিত হয়েছিল তা অনুসন্ধান করা ও লেখা। ’

২।   ইতিহাস হলো অতীত ঘটনার বিবরণ—কথাটি ব্যাখ্যা করো।

     উত্তর : বর্তমানের সব বিষয়ই অতীতের ক্রমবিবর্তন ও অতীত ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

     আর অতীতের ক্রমবিবর্তন ও ঐতিহ্যের বস্তুনিষ্ঠ বিবরণই হলো ইতিহাস। ইতিহাস শব্দটির সন্ধিবিচ্ছেদ করলে দাঁড়ায়—ইতিহ+আস। যার অর্থ এমনই ছিল বা এরূপ ঘটেছিল। ঐতিহাসিক ড. জনসনও ঘটে যাওয়া ঘটনাকেই ইতিহাস বলেছেন। তিনি মনে করেন, যা কিছু ঘটে তাই ইতিহাস। যা ঘটে না তা ইতিহাস নয়। অর্থাৎ ইতিহাস যেহেতু অতীতের অভ্যাস, শিক্ষা, ভাষা, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ইত্যাদি নিয়ে অনুসন্ধান করে; তাই ইতিহাসকে অতীতের ঘটনা বলা হয়।

৩।   ইতিহাসের লিখিত উপাদান কাকে বলে? লেখো।

     উত্তর : ইতিহাসের যে উপাদানগুলো লিখিত আকারে পাওয়া যায় তাকে ইতিহাসের লিখিত উপাদান বলে।

     ইতিহাস রচনার লিখিত উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে সাহিত্য, বৈদেশিক বিবরণ, দলিলপত্র ইত্যাদি। বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সাহিত্যকর্মেও তৎকালীন সময়ের কিছু তথ্য পাওয়া যায়। লিখিত উপাদানগুলোর মধ্যে বেদ, কৌটিল্যের ‘অর্থশাস্ত্র’, কলহনের ‘রাজতরঙ্গিনী’, আবুল ফজলের ‘আইন-ই-আকবরী’ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। মূলত লিখিত উপাদানের সাহায্যে সহজেই বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস রচনা করা যায়; বিধান লিখিত উপাদান ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

৪।   ‘ত্রয়ী’ শাসন বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

     উত্তর : রোমের তিনজন নেতা একই সঙ্গে যে শাসনক্ষমতা পরিচালনা করেন, ইতিহাসে তাই ‘ত্রয়ী’ শাসন নামে পরিচিত।

     ৭১ খ্রিস্টপূর্বাব্দে স্পার্টাকাস নিহত হলে বিদ্রোহের অবসান হয় ঠিকই; কিন্তু চরম নির্যাতন নেমে আসে দাসদের ওপর। অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ছাড়াও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধেও জড়িয়ে পড়ে রোম। ফলে উচ্চাকাঙ্ক্ষী সামরিক নেতারা ক্ষমতায় আসতে থাকেন এবং রোমে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে এই ক্ষমতার দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে সমঝোতার মাধ্যমে সমগ্র রোম সাম্র্রাজ্য ভাগ করে শাসনের দায়িত্ব নেন অক্টোভিয়াস সিজার, মার্ক এন্টনি ও লেপিডাস। লেপিডাসের দায়িত্বে ছিল আফ্রিকার প্রদেশগুলো; অক্টোভিয়াস সিজারের দায়িত্বে ছিল ইতালিসহ সাম্রাজ্যের পশ্চিম অংশ, এন্টনির দায়িত্বে ছিল পূর্বাঞ্চল।

৫।   মিসরকে নীল নদের দান বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

     উত্তর : মিসরের অর্থনীতি ছিল কৃষিনির্ভর আর কৃষির উৎপাদনের জন্য একমাত্র অবলম্বন ছিল নীল নদ। এই জন্য মিসরকে নীল নদের দান বলা হয়।  

     নীল নদের উৎপত্তি হয় আফ্রিকার ভিক্টোরিয়া হ্রদ থেকে। প্রাচীনকালে প্রতিবছর নীল নদে বন্যা হতো। বন্যার পানি নেমে গেলে দুই তীরে প্রচুর পলিমাটি পড়ে জমি উর্বর হতো। আর এই উর্বর পলি মাটিতে গম, যব, তুলা, পেঁয়াজ, পিচফল ইত্যাদি ফসল প্রচুর জন্মাত। নীল নদ যদি না থাকত তাহলে মিসর মরুভূমিতে পরিণত হতো। এ জন্য মিসরকে নীল নদের দান বলা হয়।

৬।   বরেন্দ্রভূমি বলতে কী বোঝো? লেখো।

     উত্তর : বরেন্দ্রী, বরেন্দ্র বা বরেন্দ্রভূমি নামে পরিচিত জনপদটি উত্তরবঙ্গের একটি জনপদ। প্রাচীন বাংলায় এই জনপদের পরিচয় পাওয়া যায়।

     অনুমান করা হয়, পুণ্ড্রের একটি অংশজুড়ে বরেন্দ্রের অবস্থান ছিল। বর্তমান বাংলাদেশের বগুড়া, দিনাজপুর, রাজশাহী ও নওগাঁ জেলার অনেক অঞ্চল এবং পাবনা জেলাজুড়ে বরেন্দ্র অঞ্চল বিস্তৃত ছিল।

৭।   ‘তমদ্দুন মজলিশ’ গঠন করা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

     উত্তর : উর্দু না বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ১৯৪৭ সালে ‘তমদ্দুন মসলিশ’ গঠিত হয়।

     ‘তমদ্দুন মজলিশ’ ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন। পরবর্তী সময়ে এই সংগঠনের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থটিতে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়। আর ‘তমদ্দুন মজলিশের’ উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বরে গঠিত হয় প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। পরবর্তী সময়ে যা ভাষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৮।   প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনের ফলাফল লেখো।

     উত্তর : পাকিস্তান সৃষ্টির পর পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫৪ সালে।

     ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চের নির্বাচন ছিল পূর্ব বাংলায় প্রথম অবাধ ও সর্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত নির্বাচন। নির্বাচনে শতকরা ৩৭.১৯ ভাগ ভোটার ভোট প্রদান করেন। ২ এপ্রিল সরকারিভাবে নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হয়। মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় ৯টি আসন।

৯।   মৌলিক গণতন্ত্রের স্তরকাঠামো ব্যাখ্যা করো।

     উত্তর : জেনারেল আইয়ুব খান পাকিস্তানের ক্ষমতায় এসে ১৯৫৯ সালে প্রচলিত গণতান্ত্রিক পদ্ধতি পরিত্যাগ করে এক অদ্ভুত ও নতুন নির্বাচনকাঠামো প্রবর্তন করেন, যা মৌলিক গণতন্ত্র নামে পরিচিত।

     মৌলিক গণতন্ত্র হচ্ছে এক ধরনের সীমিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, যাতে শুধু নির্দিষ্টসংখ্যক লোকের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অধিকার ছিল। প্রাথমিক অবস্থায় মৌলিক গণতন্ত্র ছিল একটি চার স্তরবিশিষ্ট ব্যবস্থা। নিম্ন থেকে উচ্চ পর্যন্ত স্তরগুলো ছিল : (১) ইউনিয়ন পরিষদ (গ্রামে) এবং টাউন ও ইউনিয়ন কমিটি (শহরে)। (২) থানা পরিষদ (পূর্ব পাকিস্তানে), তহসিল পরিষদ (পশ্চিম পাকিস্তানে) (৩) জেলা পরিষদ, (৪) বিভগীয় পরিষদ। এই পরিষদগুলোয় নির্ধারিত ও মনোনীত উভয় ধরনের সদস্য থাকত। মৌলিক গণতন্ত্রের আওতায় পাকিস্তানের উভয় অংশে ৪০ হাজার করে মোট ৮০ হাজার মৌলিক গণতন্ত্রী নিয়ে দেশের নির্বাচকমণ্ডলী গঠিত হয়।



সাতদিনের সেরা