kalerkantho

রবিবার । ৯ মাঘ ১৪২৮। ২৩ জানুয়ারি ২০২২। ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

নবম ও দশম শ্রেণি : সংক্ষিপ্ত সিলেবাস অনুসারে

বাংলা দ্বিতীয় পত্র

১১ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বাংলা দ্বিতীয় পত্র

অঙ্কন : মাসুম

নির্মিতি

সারাংশ

 

১।        জাতিকে শক্তিশালী, শ্রেষ্ঠ, ধনসম্পদশালী, উন্নত ও সুখী করতে হলে শিক্ষা ও জ্ঞান বর্ষার বারিপাতের মতো সর্বসাধারণের মধ্যে সমভাবে বিতরণ করতে হবে। দেশে সরল ও সহজ ভাষায় নানা প্রকারের পুস্তক প্রচার করলে এই কাজ সিদ্ধ হয়। শক্তিশালী দৃষ্টিসম্পন্ন মহাপুরুষদের লেখনীর প্রভাবে একটি জাতির মানসিক ও পার্থিব অবস্থার পরিবর্তন অপেক্ষাকৃত অল্পসময়ে সংশোধিত হয়ে থাকে।

বিজ্ঞাপন

দেশের প্রত্যেক মানুষ তার ভুল ও কুসংস্কার, অন্ধতা ও জড়তা, হীনতা ও সংকীর্ণতাকে পরিহার করে একটা বিনয়-মহিমোজ্জ্বল উচ্চ জীবনের ধারণা করতে শেখে। মনুষ্যত্ব ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা করাই ধর্ম মনে করে আত্মমর্যাদা-জ্ঞানসম্পন্ন হয় এবং গভীর দৃষ্টি লাভ করে। তারপর বিরাট জাতির বিরাট দেহে শক্তি জেগে ওঠে।

            সারাংশ : কোনো জাতিকে সমৃদ্ধ করতে হলে শিক্ষা ও জ্ঞানকে সর্বসাধারণের জন্য সমান সুযোগ্য করতে হবে। এ কাজ সম্পন্ন হবে পুস্তক প্রচারের মাধ্যমে। কারণ পুস্তকের মধ্যেই জাতির মহাপুরুষদের উন্নয়ন কার্যক্রমের অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত রয়েছে।

 

২।         আজকাল বিজ্ঞানের দ্বারা যেসব অসাধ্য সাধন হইতেছে, তাহাও বহু লোকের ক্ষুদ্র চেষ্টার ফলে। মানুষ পূর্বে একান্ত অসহায় ছিল। বুদ্ধি, চেষ্টা ও সহিষ্ণুতার বলে আজ সে পৃথিবীর রাজা হইয়াছে। কত কষ্ট ও কত চেষ্টার পর মানুষ বর্তমান উন্নতি লাভ করিয়াছে, তাহা আমরা মনেও করিতে পারি না। কে প্রথম আগুন জ্বালাইতে শিখিল, কে প্রথম ধাতুর ব্যবহার শিক্ষা দিল, কে লেখার প্রথা আবিষ্কার করিল, তাহা আমরা কিছুই জানি না। এই মাত্র জানি যে প্রথমে যাঁহারা নতুন কোনো প্রথা প্রচলন করিতে চেষ্টা করিয়াছিলেন, তাঁহারা পদে পদে অনেক বাধা পাইয়াছিলেন। অনেক সময় তাঁহাদিগকে অনেক নির্যাতন সহ্য করিতে হইয়াছিল। এত কষ্টের পরও অনেকে তাঁহাদের চেষ্টা সফল দেখিয়া যাইতে পারেন নাই। আপাতত মনে হয়, তাঁহাদের চেষ্টা একেবারে বৃথা গিয়াছে। কিন্তু কোনো চেষ্টাই একেবারেই বিফল হয় না। প্রবাল দ্বীপ যেরূপ একটু একটু করিয়া আয়তনে বর্ধিত হয়, জ্ঞান রাজ্যেও সেইরূপ তিল তিল করিয়া বাড়িতেছে।

            সারাংশ : বর্তমান সভ্যতায় বিজ্ঞানের অবদান অনস্বীকার্য। বিজ্ঞানের অভাবনীয় উন্নতির পেছনে রয়েছে অগণিত মানুষের নিরন্তর কর্মপ্রচেষ্টা। মানুষের কর্মপ্রচেষ্টায় যুগ যুগ ধরে নানা আবিষ্কার ও উদ্ভাবনে এ সভ্যতা সমৃদ্ধ হয়েছে।

 

৩।        অপরের জন্য তুমি প্রাণ দাও, আমি তা বলতে চাইনে। অপরের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দুঃখ তুমি দূর করো। অপরকে একটুখানি সুখ দাও। অপরের সঙ্গে একটুখানি মিষ্টি কথা বলো। পরের অসহায় মানুষটির দিকে একটু করুণ চাহনি নিক্ষেপ করো, তাহলেই অনেক হবে। চরিত্রবান, মানবতাসম্পন্ন মানুষ নিজের চেয়ে পরের অভাবে বেশি অধীর হন, পরের দুঃখকে ঢেকে রাখতে গৌরববোধ করেন।

 

            সারাংশ : মানুষের জন্য অনেক বড় কিছু করতে না পারলেও ছোট ছোট কাজের দ্বারাও আমরা মানুষের উপকারে আসতে পারি। সাধ্যমতো সহায়তা দিয়ে অন্যের মনে আশার আলো দেখাতে পারি এবং মানবিক আচরণ দিয়ে অসহায় মানুষকে সান্ত্বনা দিতে পারি। এভাবেই মহৎ মানুষ তাঁদের মহত্ত্বের পরিচয় দেন।

 

৪।        মানুষের মূল্য কোথায়? চরিত্র, মনুষ্যত্ব, জ্ঞান ও কর্মে। বস্তুত চরিত্র বলেই মানুষের জীবনে যা কিছু শ্রেষ্ঠ তা বুঝতে হবে। চরিত্র ছাড়া মানুষের গৌরব করার আর কিছুই নেই। মানুষের শ্রদ্ধা যদি মানুষের প্রাপ্য হয়, সে শুধু চরিত্রের জন্য। অন্য কোনো কারণে মানুষের মাথা মানুষের সামনে নত হবার দরকার নেই। জগতে যেসব মহাপুরুষ জন্মগ্রহণ করেছেন, তাঁদের গৌরব মূলে এই চরিত্রশক্তি। তুমি চরিত্রবান লোক। এ কথার অর্থ এই নয় যে তুমি শুধু লম্পট নও। তুমি সত্যবাদী, বিনয়ী এবং জ্ঞানের প্রতি শ্রদ্ধা পোষণ করো; তুমি পরদুঃখকাতর, ন্যায়বান এবং মানুষের ন্যায় স্বাধীনতাপ্রিয়। চরিত্রবান মানে এই।

            সারাংশ : মানুষের মূল্য নির্ধারণে বিভিন্ন গুণের মধ্যে ভালো চরিত্রই প্রধান। মূলত সত্যবাদী, বিনয়ী, জ্ঞানের প্রতি শ্রদ্ধা, পরদুঃখকাতরতা, ন্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং অপরের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী গুণের সমন্বিত মানুষ চরিত্রবানের মর্যাদা লাভ করে সবার কাছে শ্রদ্ধা অর্জন করে থাকে।

 

৫।        মানুষের সুন্দর মুখ দেখে আনন্দিত হয়ো না। স্বভাবে যে সুন্দর নয়, দেখতে সুন্দর হলেও তার স্বভাব, তার স্পর্শ, তার রীতি-নীতিকে মানুষ ঘৃণা করে। দুঃস্বভাবের মানুষ মানুষের হৃদয়ে জ্বালা এবং বেদনা দেয়, তার সুন্দর মুখে মনুষ্য তৃপ্তি পায় না। অবোধ লোকেরাই মানুষের রূপ দেখে মুগ্ধ হয় এবং তার ফল ভোগ করে। যার স্বভাব মন্দ, সে নিজেও দুষ্ক্রিয়াশীল, মিথ্যাবাদী, দুর্নীতিকে ঘৃণা করে। মানুষ নিজে স্বভাবে সুন্দর না হলেও সে স্বভাবের সৌন্দর্যকে ভালোবাসে।

 

            সারাংশ : মানুষকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সুন্দর মুখশ্রী কিংবা দৈহিক সৌন্দর্যের চেয়ে তার স্বভাব-সৌন্দর্যের মূল্য অনেক বেশি। মানুষের বাহ্যিক সৌন্দর্য অন্যের সঙ্গে তার সামাজিক সম্পর্ক বিস্তারে তেমন বিশেষ কোনো ভূমিকা রাখে না; বরং এ ক্ষেত্রে ব্যক্তির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই প্রধান নিয়ামক। তাই প্রকৃত মানুষ সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে অপরের অন্তর্লোকের সৌন্দর্যকেই প্রাধান্য দেয়।



সাতদিনের সেরা