kalerkantho

বুধবার । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৮ ডিসেম্বর ২০২১। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

লুই পাস্তুর

[নবম-দশম শ্রেণির কৃষিশিক্ষা বইয়ের সপ্তম অধ্যায়ে লুই পাস্তুরের উল্লেখ আছে]

২৮ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



লুই পাস্তুর

লুই পাস্তুর ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন প্রতিভাবান বিজ্ঞানী। তিনি দেহের প্রতিরোধব্যবস্থা, বিভিন্ন রোগের টিকা, রসায়ন ও বিভিন্ন রোগের প্রকৃতি সম্পর্কে গবেষণার জন্য বিখ্যাত। জন্ম ১৮২২ সালের ২৭ ডিসেম্বর ফ্রান্সের জুরা প্রদেশের দোল শহরে। বেড়ে ওঠেন আরবোয়া শহরে। তাঁর দরিদ্র পিতা সেখানকার একটি ট্যানারিতে চাকরি করতেন।

লুই পাস্তুর ১৮৪৫ সালে বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ১৮৪৬ সালে টুর্নন (Tournon) কলেজে পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক হিসেবে চাকরি শুরু করেন। বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে পাস্তুরের প্রিয় ছিল রসায়ন। চাকরির পাশাপাশি পদার্থবিদ্যা ও রসায়ন নিয়ে গবেষণাও চালিয়ে যান। ১৮৪৭ সালে তিনি পদার্থবিদ্যা ও রসায়নের দুটি থিসিস জমা দেন এবং একই বছর দুটি বিষয়েই ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৮৪৮ সালে দিজোঁ লিসির স্ট্রাসবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য রসায়নের অধ্যাপক হিসেবে চাকরি করেন। সেখানেই বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টরের কন্যা মারি লরেন্তের সঙ্গে পরিচয়। ২৯ মে ১৮৪৯ সালে তারা বিয়ে করেন। তাঁদের পাঁচ সন্তানের তিনজনই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে টাইফয়েডে মারা যায়। এ ঘটনায় মুষড়ে না পড়ে এর প্রতিকারে মনোনিবেশ করেন পাস্তুর।

১৮৫৪ সালে প্যারিসের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগের ডিন হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন তিনি। তখন থেকেই স্থানীয় মদের কলগুলোতে গাজনপ্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। তিনি প্রমাণ করেন, মদের অম্লতা এতে থাকা ব্যাক্টেরিয়ার ক্রিয়ার জন্য ঘটে। ১৮৮৫ সালে লুই পাস্তুর জলাতঙ্কের টিকা আবিষ্কার করেন এবং টিকাজগতে বিপ্লব ঘটান। প্রথম এই টিকা এক বালকের ওপর প্রয়োগ করেন। বালকটিকে জলাতঙ্ক আক্রান্ত একটি কুকুর কামড়িয়েছিল। পাস্তুর আবিষ্কৃত টিকা প্রদানের পর বালকটি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে। দেশ থেকে দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়ে পাস্তুরের এই অবিস্মরণীয় আবিষ্কারের কথা। জলাতঙ্কের টিকা আবিষ্কারের পরে ফ্রান্স সরকার পাস্তুর ইনস্টিটিউট স্থাপন করেন। এই ইনস্টিটিউটের পরিচালক থাকাকালীন ১৮৯৫ সালে লুই পাস্তুর মৃত্যুবরণ করেন।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল



সাতদিনের সেরা