kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

ঘুম

[পঞ্চম শ্রেণির আমার বাংলা বইয়ের অবাক জলপান নাটকে ঘুমের উল্লেখ আছে]

২৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ঘুম

ঘুম বা নিদ্রা হচ্ছে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর প্রতিদিনের কাজের ফাঁকে বিশ্রাম নেওয়ার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। মানুষ ও সব স্তন্যপায়ী প্রাণী ও পাখি এবং বহু সরীসৃপ, উভচর এবং মাছের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য নিয়মিত ঘুম আবশ্যক। এ অবস্থায় মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীর সচেতন ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া স্তিমিত থাকে। বয়সভেদে মানুষের ঘুমের চাহিদা ভিন্ন ভিন্ন হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের পরামর্শ অনুযায়ী ছয় থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ৯ থেকে ১১ ঘণ্টা, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা, ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা এবং ৬৫ বছরের চেয়ে বেশি বয়সীদের জন্য ঘুমানো প্রয়োজন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা।

ঘুমের সময় বিশেষ হরমোন নিঃসৃত হয় এবং দেহের ক্লান্তি দূর করে শরীরকে আবার সতেজ করে তোলে। আমরা রাতে রেম (REM) ও ননরেম (non-REM) ঘুমের মধ্যে থাকি।

রেম ঘুমের সময় আমাদের মস্তিষ্ক সজাগ থাকে। অন্যদিকে ননরেম ঘুমের সময় আমাদের মস্তিষ্ক থাকে নিষ্ক্রিয়।

শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ঠিকঠাক রাখতে পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজন। সুন্দর একটি কর্মব্যস্ত দিনের প্রধান পূর্বশর্ত হচ্ছে ঘুম। সুস্থ থাকতে হলে নিয়মিত ঘুমের বিকল্প নেই। কারণ সারা দিনের ক্লান্তি দূর করে ঘুম। তবে অনেকেরই ঘুমের সমস্যা রয়েছে। ঘুমের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। তবু ঘুম আসে না। অনেকেই ঘুমানোর জন্য ঘুমের ওষুধ খেয়ে থাকেন। চিকিৎসকদের মতে, ঘুম না হলে শরীরের লিভিং অর্গানিজমগুলো ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। নষ্ট হতে পারে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য। বাড়তে পারে উচ্চ রক্তচাপ ও হাইপার টেনশন। ঘুমের সময় হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালি বিশ্রাম পায়। তাই ঘুম কম হলে প্রতিনিয়ত কার্ডিওভাসকুলার সমস্যা বাড়তে থাকে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন রাতে না ঘুমানো বা কম ঘুমানোর ফলে শরীরে ইনসুলিন উৎপাদন ব্যাহত হয়। ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে।

ঘুম ভালো হওয়ার জন্য সব সময় একই সময়ে শুতে যাওয়া ভালো। শুতে যাওয়ার আগে চা বা কফি না খাওয়া উত্তম। তবে অতিরিক্ত ঘুমও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল



সাতদিনের সেরা