kalerkantho

সোমবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৯ নভেম্বর ২০২১। ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া

[পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়ার উল্লেখ আছে]

২৬ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া

কাশিমবাজারে ডাচদের বাণিজ্যকুঠি

মহাসাগরীয় যোগাযোগের পথ আবিষ্কারের পর থেকে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে সরাসরি সমুদ্র বাণিজ্যের পথ খুলে যায়। এই সুযোগে পর্তুগিজরা ষোড়শ শতাব্দীতে এশিয়া থেকে ইউরোপে সরাসরি মসলা বাণিজ্য শুরু করে। ইউরোপের বিশাল বাজার এবং মসলা বাণিজ্যে পর্তুগিজদের বিপুল মুনাফা দেখে আকৃষ্ট হয় যুক্তরাজ্য ও ডাচ বা ওলন্দাজ ব্যবসায়ীরা। তারই ফলে ১৬০০ সালে ইংরেজ কম্পানি এবং ১৬০২ সালে ডাচ কম্পানি গঠিত হয়। সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি হুগলিতে তাদের কারখানা স্থাপনের পর সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে বাংলায় ওলন্দাজ ও ইংরেজরা তাদের বাণিজ্য শুরু করে। এই ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে বড় ছিল ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি। ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানিকে ডাচ ভাষায় বলে ‘ভিরিনিগদে অস্ট-ইন্ডিসচে কম্পানি’ বা ভিওসি (VOC)। কম্পানির আরেক নাম ‘ইউনাইটেড ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি’। কারণ নেদারল্যান্ডসের বড় বড় ব্যবসায়ী ও কম্পানি ব্যাবসায়িক স্বার্থে এক হয়ে একটি বড় কম্পানি গঠন করেছিল।

১৬০২ সালের চার্টার অনুযায়ী কম্পানি একচেটিয়া ব্যবসার অধিকারের পাশাপাশি এশিয়ান শাসকদের সঙ্গে চুক্তি করার, দুর্গ নির্মাণ করার, উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার, সেনাবাহিনী সঙ্গে রাখার, প্রয়োজনে যুদ্ধ করার—মোট কথা মুনাফা ও ব্যবসা ঠিকঠাক রাখার জন্য যা যা করা দরকার, সব করার অধিকার লাভ করে।

ডাচরা ১৬৩০ সালে বাংলায় বসতি স্থাপন করে। ১৬৩২ সালে হুগলি থেকে পর্তুগিজদের চলে যাওয়ার পর ডাচরা হুগলিতে একটি কারখানা স্থাপনের জন্য ১৬৩৪ সালে সুবাদার আজম খানের কাছ থেকে একটি নতুন অনুমতিপত্র লাভ করে।

ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির সুবাদে নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম পৃথিবীর বাণিজ্যিক রাজধানীতে পরিণত হয়। আমস্টারডামে পৃথিবীর প্রথম স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৬৫৯ সালে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি শ্রীলঙ্কায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়। ডাচদের আগে পর্তুগিজরা এখানে ব্যবসা করত। ১৬৫৯ সালের মধ্যেই পুরো শ্রীলঙ্কায় ডাচরা নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে ফেলে। পর্তুগিজরা শ্রীলঙ্কা থেকে বিতাড়িত হয়।

১৭৮০ সালের চতুর্থ অ্যাংলো-ডাচ যুদ্ধ ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির জন্য বিপর্যয় ডেকে নিয়ে আসে। এ যুদ্ধের ফলে ডাচদের অর্ধেক জাহাজ ধ্বংস হয়ে যায়। একদিকে যুদ্ধের ধকল এবং অন্যদিকে ভুল নীতি ও সীমাহীন দুর্নীতির জন্য চরম অর্থসংকটে পরে কম্পানিটি।

আঠারো শতকের শেষ দিকে কম্পানি দেউলিয়ার দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছায়। ১৭৯৯ সালে সালে ডাচ সরকার কম্পানির চার্টার বাতিল করে এবং কম্পানির সকল সম্পদ রাষ্ট্রীয়করণ করে ফেলে। এভাবে পরিসমাপ্তি ঘটে ২০০ বছর পৃথিবী দাপিয়ে বেড়ানো এক ব্যাবসায়িক কম্পানির।

রিদওয়ান আক্রাম



সাতদিনের সেরা