kalerkantho

সোমবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৯ নভেম্বর ২০২১। ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

দেবদারু

[নবম-দশম শ্রেণির কৃষিশিক্ষা বইয়ের পঞ্চম অধ্যায়ে দেবদারুর উল্লেখ আছে]

১৯ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দেবদারু

দেবদারু (Debdaru) Annonaceae গোত্রের লম্বা পিরামিড আকৃতির সুশ্রী চিরহরিৎ বৃক্ষ। এর বৈজ্ঞানিক নাম চড়ষুধষঃযরধ ষড়হমরভড়ষরধ। হিমালয় পর্বতমালার উপত্যকায় এটি বিপুল পরিমাণ জন্মে। হিন্দি ভাষায় একে ডাকা হয় দেওদার।

দেবদারুর আদি নিবাস শ্রীলঙ্কা। আমাদের দেশে একসময় বিদেশি গাছ হিসেবে এটি রোপিত হলেও বর্তমানে অনেক জায়গায়, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে সাধারণত এগুলোকে পথতরু হিসেবে দেখা যায়। এই গাছের কাণ্ড খাড়া ও দীর্ঘ, বাকল মসৃণ, গাঢ় ধূসর, পাতা তরঙ্গিত। পরিমিত ডালপালা ও শৈল্পিক গড়নের পাতা এ গাছের মূল আকর্ষণ। এসব কারণেই দেবদারু অনেক দূর থেকে আলাদা করে চেনা যায়। এই গাছের ফুল হলুদাভ-সবুজ ও সাধারণত গুচ্ছবদ্ধ। উজ্জ্বল পাতার ভিড়ে ফুলের সৌন্দর্য ও সুগন্ধ অনেকটাই নিষ্প্রভ। ছয়টি মুক্ত দলে গড়া প্রতিটি ফুল যেন একেকটি তারা। ফুলের গর্ভকেশর মুক্ত ও সংখ্যায় অনেক বেশি। এ কারণে পরিণত সময়ে একটি ফুল থেকে একগুচ্ছ ফল হয়।

দেবদারুর পাকা ফলের রং বেগুনি-হলুদ। ফল বাদুড়ের খুব পছন্দ। তাই রাতে এরা ফল খাওয়ার জন্য ভিড় করে। ফল পাকে জুলাই-আগস্ট মাসে। ডিম্বাকার এই ফলের দৈর্ঘ্য সাধারণত এক সেন্টিমিটারের মতো হয়।

দেবদারুগাছের কাঠ সাধারণত হালকা ও নমনীয় হয়ে থাকে এবং দেখতে সাদা বা সাদাটে-হলুদ। এই কাঠ দিয়ে ঢোল, পেনসিল, ছোট বাক্স, দিয়াশলাইয়ের কাঠিসহ বিভিন্ন জিনিস তৈরি করা হয়।

দেবদারুগাছের ছাল বা বাকলের ভেষজ গুণ আছে। চুলকানি ও খোসপাঁচড়া হ্রাসে এই ছাল অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে। এই গাছের ছাল বেটে রস বের করে সকালে ও বিকেলে দুই চামচ করে খেলে জ্বর-কাশি সেরে যায়। এ ছাড়া এই গাছের ছাল সিদ্ধ করে ওই পানি খেলে আমাশয়ের সমস্যা দূর হয়।

দেবদারুগাছ বীজের মাধ্যমে রোপণ করা হয়।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল



সাতদিনের সেরা